
আবু তাহের মিনহাজ
১.
সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে রাতের শেষাংশে কোনো কিছু খাওয়াকে সাহরি বলে। আমরা যাকে সেহরি বলে থাকি। সাহরি খাওয়ার নির্দেশনা স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন। তবে এ নির্দেশনা মুস্তাহাব পর্যায়ের। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন অবশ্যই কোনো কিছু দিয়ে সাহরি খায়। (মুসনাদে আহমাদ ১৫৩৩৭, ১৫৪৪০)
২.
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, তোমরা সাহরি খাও; কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারী ১৯২৩, মুসলিম ২৪১৬, নাসায়ী ২১৪৬)
সাহরির খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে শক্তি সঞ্চার হয়। ইবাদতে লেগে থাকা সহজ হয়। ক্ষুধাতৃষ্ণার কারণে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব হয় না। অধিকন্তু দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখলেও বিরক্তি অসে না। রাসুলুল্লাহ সা. এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াব তো রয়েছেই। তাছাড়া সাহরির গুরুত্বপূর্ণ একটি হেকমত হচ্ছে, ইহুদি খৃস্টানদের বিরোধিতা। কেননা তারা সাহরি না খেয়ে রোজা রাখে। ইবাদতেও যাতে তাদের সাদৃশ্য না হয় এ জন্য রাসুল সা. বলেন, আমাদের ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খৃস্টান) সওমের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরী। (মুসলিম ২৪৪০, আবূ দাউদ ২৩৪৩, তিরমিযী ৭০৯)
৩.
সর্বনিম্ন আহার্য বা পানীয় -যা মানুষ গ্রহণ করে থাকে- এর দ্বারাই সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট কোনো খাদ্যতালিকার সাথে সম্পৃক্ত না।
সাহরি খাওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, একেবারে পূর্ণ তৃপ্তি মিটিয়ে পেট ভরে না খাওয়া। কারণ, এতে আলস্যতা তৈরি হয়। ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়। বরং সাহরির খাবারম্যানু মূল উদ্দেশ্য না বানিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে বেঁচে যায় পরিমাণ সাহরি খাওয়া। রাসুল সা. এর এক হাদিস থেকে এ বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি সা. বলেন, খেজুর দিয়ে মুমিনের সাহরি খাওয়া কতোই না উত্তম। (আবু দাউদ ২৩৪৫, মিশকাত ১৯৯৮)
খেজুর মূল্যমান হিসেবে তুলনামূলক বেশি হলেও পাকস্থালী ও হজমের জন্য উপকারী এবং সহনীয়।
৪.
আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, সাহরি একটি বরকতময় খাবার। সুতরাং তোমরা সাহরি খাওয়া ছেড়ে দিয়ো না। কেউ যদি এক ঢোক পরিমাণ পানি গলাধঃকরণ করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা সাহরি ভক্ষণকারীদের উপর রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। (মুসনাদে আহমাদ ১১৩৮৪, ১১৭০৬)
