হংকংয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন হয়রানির প্রতিবাদে নারীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের হংকংয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অব্যাহত যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার নারী। বিক্ষোভে ওইসব নারী জানিয়েছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে চলমান বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে দমাতে যৌন হয়রানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে চীনা নিরাপত্তা বাহিনী।

এসব হয়রানি এখনই বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ সমাবেশকে আয়োজকরা বিশ্বজুড়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে চলমান ‘মি টু’ আন্দোলনের অংশ হিসেবেই অ্যাখ্যা দিয়েছে। সমাবেশে প্রায় ৩০ হাজার নারী অংশ নিয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

তবে পুলিশের ভাষ্যমতে, এদিন ১১ হাজার নারী বিক্ষোভে অংশ নেন। বিবিসি জানিয়েছে। গণতন্ত্রের দাবিতে প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে কার্যত অচল হংকং। সম্প্রতি বিক্ষোভে প্রায়ই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। এসব ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ অভিহিত করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি দিয়ে আসছে চীন। স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটির চারপাশে ইতিমধ্যে কিছু সেনা মোতায়েনও করেছে বেইজিং এবং নিয়মিতই মহড়া দিচ্ছে।

এরই মধ্যে বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করলেন নারীরা।

সমাবেশে বেশ কয়েকজন নারী তাদের ওপর পুলিশি হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানান।

এদের একজন তার শরীর তল্লাশির অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে, তারা আটক ব্যক্তিদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ যৌন হয়রানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

আগামী শনিবার ফের বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজকরা। পরিকল্পিত বিক্ষোভ সামনে রেখে হংকং সীমান্তে অবিরাম সেনাদল অদল-বদল করছে চীন। বৃহস্পতিবারই ভোরে পুরনো সেনাদল সরিয়ে বাহিনীর নতুন একটি দল মোতায়েন করেছে চীনা লিবারেশ আর্মি (পিএলএ)।

১৯৯৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত এটা ছিল ২২তম সেনাদল বদলের ঘটনা। ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের সরকারের কাছে হস্তান্তরের শুরুর সময় থেকে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির হংকং গ্যারিসনের সদস্য মোতায়েন করা হয়। তারা হংকংয়ে বিশেষ করে প্রশাসনিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে।

আগের সংবাদচারদিকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন শামীম ওসমান
পরবর্তি সংবাদআসামের এনআরসি : বাংলাদেশকে সজাগ থাকার পরামর্শ কূটনীতিকদের