
মাওলানা মুসা আল হাফিজ। বহু গ্রন্থপ্রণেতা, কবি, গবেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তাবলিগের চলমান সঙ্কট নিয়ে তাঁর সঙ্গে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের পক্ষ থেকে কথা বলেছেন হামমাদ রাগিব।
তাবলিগে সময় লাগিয়েছেন কখনও? কবে লাগিয়েছিলেন? কত দিন লাগিয়েছিলেন?
৯/১০ বছর আগে একবার তাবলিগে সময় দিয়েছিলাম। এক চিল্লার জন্য বেরিয়েছিলাম।
তাবলিগে গিয়ে কেমন দেখলেন এর আভ্যন্তরীণ কর্মপ্রক্রিয়া?
একটা বেদনা, একটা দরদ, একটা ফিকির দেখেছিলাম। উম্মতের বিপথগামিতায় ব্যথা দেখেছিলাম। সুন্দর একটি নেজাম দেখেছিলাম। মানার পরিবেশ, জানার পরিবেশ আর আমলের পরিবেশ অনেকটা ছিল। কিন্তু সমস্যাও ছিল, গুরুতর। দেখলাম, দীনকে তাঁরা খণ্ডিতভাবে দেখছেন, কিছু অংশকে মনে করছেন উপেক্ষাযোগ্য। বলছেন না কেউ, কিন্তু উপেক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত আর এটাই হয়ে উঠেছে নিয়ম। আল্লাহর রাস্তা, নবিওয়ালা মেহনত—ইত্যাদিকে তাঁরা বড়ই সংকীর্ণ অর্থে সীমাবদ্ধ করছেন। দীনের কাজ বলতে যা বুঝছেন, বুঝাচ্ছেন, তাও দীনি দর্শন ও মেজাজের যে অবস্থান, সেটার প্রতিনিধিত্ব করে না। দাওয়াতকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন সবার উপরে। আবার দাওয়াত বলতে একটি নিজস্ব নির্দিষ্ট ফরমেটকেই মনে করছেন সব কিছু। অন্যান্য খেদমত ও খেদমতে নিয়োজিতদের প্রতি একধরনের উদাসীন উপেক্ষা রয়েছে আর রয়েছে তাহরিফাত। আয়াত ও হাদিসের মর্মকে স্থানচ্যুত করা হচ্ছে নিয়মিতই। আর জানার যে আগ্রহ, তাও সীমিত পরিমণ্ডলে। মানাটাও কেবল নিজেদের বড়দের, নিজেদের আমিরদের, মুরুব্বিদের। দীনের ব্যাপারে মুরুব্বিদের কথা হয়ে উঠছে শেষ কথা।
এই পরিস্থিতে আমি ভাবলাম, তাবলিগের যে খেদমত ও দরদ, যে আবেদন ও সফলতা, তা অচিরেই পথ হারাবে। মুরুব্বি বা আমির যদি ভুলের দিকে ধাবিত হন, এই জামাতও পেছনে পেছনে দৌড়াবে। তাবলিগের বাইরের অন্যদের দীনের খেদমতকে দীনের খেদমত মনে করবে না। বিশেষত তাবলিগের বাইরের আলেমদের। আর তাহরিফগুলো শক্তিশালী হয়ে এর একটি বিশেষ আকিদা দাঁড়িয়ে যাবে, বিশেষ কিছু মাসআলা তৈরি হবে। ফলত এটি বিচ্ছিন্ন এক ফেরকা হয়ে উঠবে।
এগুলো আপনার কাছে ধরা পড়ার পরে কিছুই লেখেননি? বা করেননি?
হ্যাঁ, অবশ্যই! নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এসব নিরসনের জন্য। তাবলিগ থেকে ফিরে এসে যে উৎসাহে একজন তাবলিগের প্রচারে নামেন, আমিও সে উৎসাহে উলামাদের কাছে তাবলিগের সমস্যা নিয়ে বলতে শুরু করলাম। দারসে বললাম, খাস খাস মানুষের মজমায় বললাম, তাবলিগে জড়িত আলেমদের বললাম, বড়দের কাছেও সাধ্যমত তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম তখন। তাঁদের অনেকের কাছে যে সব প্রশ্ন রেখেছিলাম, এর মধ্যে তাবলিগের সমস্যাও ছিল একটি। দুজন মনীষী—মুহিউদ্দীন খান সাহেব (রহ.) আর বেফাকের আবদুল জব্বার (রহ.) ছাড়া আর কারও কাছে আমার উদ্বেগটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে হয়নি। এ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের যে উত্তর আসে, তার সারকথা হলো, কিছু সমস্যা তো থাকবেই। কিন্তু খেদমত হচ্ছে কত বেশি, সেটা দেখতে হবে। আলেমদের অধিক অংশগ্রহণে সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে। এটা ছিল খুবই প্রচলিত একটি কথা। এ কথাটি সমস্যাগুলোকে পাশ কাটাতো অনেকটা।
কিন্তু খান সাহেব বললেন, সমস্যা অনেক গভীরে। এমনকি যেসব আলেম তাবলিগে অধিক যুক্ত, তাঁদের বড় একটি অংশ এসবে আক্রান্ত। হজরত ইলিয়াস (রহ.) থেকে নিয়ে যে ধারা চলে আসছে, এখন সেটা বাংলাদেশের আধমরা নদীর মতো পানিশূন্যতায় কাঁদছে।
ব্যক্তিগতভাবে খান সাহেব (রহ.) একটি পরামর্শ দিলেন আমাকে। তিনি বললেন, ‘আপনি এ নিয়ে বেশি ঘাটবেন না। কেউ শুনবে না। আবুল হাসান আলি নদভি সাহেব তাবলিগের মুরুব্বিদের কিছু পরামর্শ দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর কথাও শোনা হয়নি। আপনাকে উল্টো অঙ্কুরেই বিতর্কিত করে তোলা হবে। আমরা কিছু পারি বা না পারি, কাউকে বিতর্কিত করতে পারি সহজে।’
আবদুল জব্বার (রহ.)-এর উপলব্ধি ছিল প্রায় অনুরূপ। ফলে আমি দমে গেলাম। কিন্তু আমার পেরেশানি দমে যায়নি। মাঝেমধ্যে নিজের একান্ত বলয়ে এ নিয়ে বলতাম। একদিন এক সভা এ প্রসঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। প্রসিদ্ধ এক মুহাদ্দিস-বক্তার সাথে জড়াতে হলো তর্কে। তিনি বলছিলেন, ‘আপনি তাবলিগে সমস্যা দেখলেন, আর কারো চোখ তা দেখল না!’
উত্তরে আমি বলেছিলাম, ‘আপনার চোখও তা দেখবে এক সময়। যখন ব্রণ গজাবে, তখন দেখবেন। আমি দেখছি ব্রণের উপসর্গ, বলছি, এখানে ব্রণ হতে চলছে। আজ আমি যে কথাগুলো একান্তে বলছি, এক সময় আপনারা তা রাজপথে বলবেন, মাঠে-ময়দানে বলবেন, মিছিল করে বলবেন। কিন্তু ভালো ফল পাবেন না।’
সেই বক্তা এখন জায়গায় জায়গায় তাবলিগ ইস্যুতে আগুন ছড়াচ্ছেন। তার সঙ্গে আমার দেখা যদি হয়, ভাবছি, সে দিনের কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেব।
ইসলাম প্রচারে প্রচলিত তাবলিগের মেহনত অত্যন্ত কার্যকর ও অতীব জরুরি—কথাটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
তাবলিগ বলতে আমরা যাকে বুঝছি, এটা আসলে তালিম আর ইসলাহের কাজ করছে। তাবলিগে দীন আসলে অমুসলিমদের কাছে ইসলাম প্রচার। তাবলিগ জামাত মূলত ইসলাহ ও তালিমের কিছু ক্ষেত্রে কাজ করলেও তাবলিগে দীনের কাজও করছে। বলতে গেলে মুসলিম দুনিয়ায় মুসলিম-অমুসলিম মিলিয়ে সব মহলে তাবলিগ জামাতের কাজ প্রধান একটি ধারা। নিজেদের হাজারও সীমাবদ্ধতা নিয়েও এ জামাতের লোকেরা দুনিয়া জোড়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যেভাবে তা হচ্ছে, তাতে আসলে সংস্কার প্রয়োজন।
দাওয়াত বলতে আমি নিছক তাবলিগ জামাতকে বুঝাচ্ছি না। যে সব ধারা সক্রিয়, প্রত্যেকেই নানা মাসলাক, মাশরাব, মাজহাবকে প্রচার করছি। দীনটাই দাওয়াতে মূখ্য। একেই উপস্থাপন করা দরকার। মাসলাক যখন মূখ্য হয়, তখন পদ্ধতিটাই প্রাধান্য পায়। পদ্ধতি তো তৈরি করেছেন কোনো বুজুর্গ। করেছেন দীনকে সামনে রেখে। কিন্তু পদ্ধতিটাই দীন নয়। এটা বদলাতে পারে, কিন্তু দীন তো বদলাতে পারে না। প্রতিটি যুগ ও কালের প্রেক্ষাপটে নতুন বাস্তবতা, নতুন চ্যালেঞ্জ ও জিজ্ঞাসা মানুষের সামনে আসে। সেগুলোর সমাধান দেবে দীন। কিন্তু যুগের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিবর্তন, মানবরুচির বিবর্তন ও জ্ঞানের নতুন নতুন অভিঘাতের ফলে পদ্ধতির মধ্যে সংস্কার আনতে হয়। এর শিক্ষা রয়েছে ইসলামেই।
ইসলামের চাহিদা যখন কারও কাছে প্রাধান্য পায়, তখন কাজের পদ্ধতিকে তিনি সংস্কার করতে চাইবেন কাজের স্বার্থেই। কিন্তু আমাদের দাওয়াতি প্রক্রিয়াগুলো সেই সংস্কারের দাবিকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি। এটা প্রত্যেক ঘরানায় দেখা যাচ্ছে।
যে সব বিষয় ও উপকরণ আধুনিক দুনিয়ার একজন মানুষকে দীন থেকে দূরে সরায়, সে সব বিষয় ও উপকরণ দীনের দাওয়াতি প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত থাকতে পারে না।
তাবলিগের বর্তমান সঙ্কটটা ঠিক কী? সঙ্কটটা তৈরি হলো কীভাবে?
বর্তমান সঙ্কটটা তো তৈরি হয়েছে মাওলানা সাদ সাহেবের কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য নিয়ে। কিন্তু এ সঙ্কটের শিকড় অনেক গভীরে পোঁতা। অনেক আগ থেকেই এ সঙ্কট অঙ্কুরিত হয়ে আজ ডাল-পালা বিস্তৃত করেছে। সাদ সাহেবের যে বক্তব্যগুলোর কারণে আজ এত আলোচনা-সমালোচনা, এমন বক্তব্য অনেক আগ থেকে আরও অনেকে দিয়ে আসছেন। আমার নিজ কানে এক মুরব্বির বক্তব্য শুনেছি। তিনি তাবলগিকে বলছেন সাফিনাতুন নুহ। নুহ আলায়হিস সালামের নৌকা। নৌকায় যারা আরোহণ করেছে, কেবল তাঁরাই মুক্তি পেয়েছে। অনুরূপ বর্তমানে তাবলিগ যাঁরা করছেন, কেবল তাঁরাই মুক্তির পথ পেতে পারেন। কথাগুলো এক মুরব্বি আলেম তাবলিগির। উলামায়ে কেরামের খাস এক মজলিসে তাশকিল করতে গিয়ে তিনি বলেছেন। কথাটা শুনে আমি তাজ্জব হয়ে গেলাম। শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন আলেমের কাছে কথাটা পেশ করলাম পরে। তাঁরা বললেন, উৎসাহের জন্য এমনটা বলা যায়, সমস্যার কিছু নেই।
এই যে অন্ধভাবে আমরা তাবলিগকে সমর্থন জানিয়ে এসেছি, তাবলিগের নানা অসঙ্গতিতে আমরা এর পক্ষাবলম্বন করেছি, নানাভাবে ডিফেন্ড করে এসেছি, এমনটা না করে যদি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে অসঙ্গতিগুলো অঙ্কুরেই রোধ করতে পারতাম তবে আজকের এই সঙ্কটের সৃষ্টি হতো না। আর এ সঙ্কটটাকে আজকের বললেও ভুল হবে, এটা ধারাবাহিকভাবে চলে আসা একটা সঙ্কট। যে ভ্রান্তি নিয়ে এ সঙ্কটের উদ্ভব, সে ভ্রান্তিগুলোও প্রথমে প্রশ্রয় পেয়েছে আমাদের কাছে।
তাবলিগ-সঙ্কটে আলেমদের বর্তমান অবস্থানকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সময়ের বাস্তবতায় আলেমদের একটা ভূমিকা রাখতেই হতো। কথা হলো ভূমিকার প্রক্রিয়া নিয়ে। উলামায়ে কেরাম যে প্রক্রিয়ায় সঙ্কটটাকে মুকাবেলা করছেন, প্রক্রিয়াটা কতটা ফলপ্রসূ হবে। তাবলিগ হচ্ছে দাওয়াতের একটা প্রক্রিয়া। শরিয়তে এর নির্দিষ্ট কিছু রীতি আছে। তাবলিগকে মাওলানা সাদ বা এরকম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এখানে লক্ষ লক্ষ মুসলিম জড়িত। তাবলিগের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ মাওলানা সাদ সাহেবের অন্ধভক্ত। এখন যদি সাদ সাহেবকে ইস্যু করে এই জনগোষ্ঠীটাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে আমরা কথা বলি, তবে হিতে আরও বিপরীত হবে। আমাদের কাছ থেকে তাঁরা আরও দূরে সরে যাবে। কারণ, সাদ সাহেবের যে সমস্যাটা, তার উৎস একটি চিন্তাধারা, যা তাকে তৈরী করেছে। এ চিন্তাধারাই তার অনুসারিদেরকে তার পেছনে নিয়েছে। চিন্তাগত সমস্যার মুকাবেলা রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম দ্বারা করা যায় না। ব্যক্তিবিশেষ ও তার ভ্রান্ত চিন্তার অধিক প্রচারের ফলে ব্যক্তি আরও গুরুত্ব পান, চিন্তাধারাটাও জনগণের কাছে পরিচিতি লাভ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে জনগণ উল্টো সেই চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যায়। প্রতিবাদের রাজনৈতিক চরিত্র দিয়ে, বিরোধিতার মাত্রা বাড়িয়ে বা কাউকে ইহুদিদের দালাল, কাফির ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে খুব সুফল আসে না। দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমাহ, মাওয়িজায়ে হাসানা, মুজাদালায়ে আহসান, এগুলোই হচ্ছে দাওয়াতের কার্যকর প্রক্রিয়া। শরিয়ত এ নীতিটাই আমাদের গ্রহণ করতে বলেছে।
চলমান তাবলিগ-সঙ্কটের সমাধান কীভাবে সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
সঙ্কটটাকে ইতিমধ্যেই অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো বিগত দিনগুলোতে ঘটেছে, দাওয়াতি চরিত্রের সঙ্গে এটা আসলে একদমই যায় না। সঙ্কটের শুরুর দিকে তাবলিগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন সময় আমি বলেছি, তাবলিগের ভেতরে বোদ্ধা একটি অংশ আছেন, যারা তাবলিগের বিকৃতিগুলো মেনে নিতে পারছেন না। এদেরকে ধীরে ধীরে বিভিন্নভাবে স্তব্ধ এবং নিস্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে। এরা কিন্তু এখন সংখ্যালঘু ও কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। উলামায়ে কেরাম যদি প্রথম দিকেই এই অংশটিকে আলাদাভাবে সমর্থন জানিয়ে শক্তিশালী বানাতে পারতেন, এবং এটাকেই তাবলিগের মূলধারা হিসেবে তৈরি করতেন, তবে এ সঙ্কটের উদ্ভব হতো না। তখন হতো কী, উলামায়ে কেরাম এখন যে বক্তব্যগুলো দিচ্ছেন, সেটা তাদের দিতে হতো না, তা উচ্চারিত হতো তাবলিগের ভেতর থেকে।
এখন তো সঙ্কট অনেক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, এ থেকে উত্তরণের উপায় কী—এটাই তো প্রশ্ন! এ ক্ষেত্রে আমার মতামত হচ্ছে তাবলিগের পুরোধা পুরুষ মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-কে ফলো করা। ইলিয়াস (রহ.) একদম শূন্য থেকে তাবলিগের এই ধারার সূচনা করেছিলেন। তখন মানুষ তাঁর অনেক বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তিনি বিরোধিতাকারীদের কখনও প্রতিপক্ষ বানাননি। তাদেরকে বরং ভালোবেসে, নরম ভাষায় দাওয়াত দিয়েছেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে তিনি গ্রহণ করেছিলেন মানুষের মধ্যকার গাফলতি ও আত্মিক ব্যাধিকে। ফলে বিরোধিতাকারীরক একসময় তাবলিগের একনিষ্ঠ কর্মীতে পরিণত হয়েছিল। চলমান সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে হলে আমাদেরও এ পন্থা অবলম্বন করতে হবে। মাওলানা সাদ সাহেব, বা আরও যারা তাবলিগ বিষয়ে বিকৃতিমূলক কথা বলছেন, সমর্থন করছেন, তাদেরকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে তাদের ভেতরের যে ব্যাধি আছে সেটাই হচ্ছে প্রতিপক্ষ। লোকেরা একে অনুসরণ করছে কোথাও কোথাও। অনেকেই তাদেরকে মনে করছে সত্যিকার তাবলিগওয়ালা।এখন তারা যে তাবলিগে দিনের সঠিক ধারক নয়, সেটা বলার চেয়ে কাজের মাধ্যমে দেখিয়ে দেয়া উচিত। দুটি ধারা চলমান। যে ধারাটি দীনি চেতনার অধিকতর ধারক হিসেবে কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে সাধারণ মুসলিমরা সেই ধারাকে আপন করে নেবে। কিন্তু সংঘাত এবং বিরোধের আগুন ছড়াতে থাকলে সাদ ঘরানার লাভ হবে। উলামাদের ক্ষতি হবে। আমরা মার খেয়েছি, হয়তো আরও খেতে হবে। কিন্তু তাতে সুফল ঘরে উঠবে না।
কেবল সাদ সাহেবের এতাআত থেকে বেরিয়ে এলেই কি তাবলিগ পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে?
না, আমি আগেই বলেছি, তাবলিগের মূল সমস্যা সাদ সাহেব নন। তাবলিগের ভেতর যে একটা বিকৃতি সাধিত হয়েছে, সাদ সাহেব সে বিকৃতির একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কেবল সাদ সাহেবের এতাআত থেকে বেরিয়ে এলে কিংবা কেবল সাদ সাহেবকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিলে তাবলিগ পরিশুদ্ধ হবে না। তাবলিগের ভেতরকার যে ভ্রান্তি ও তাহরিফগুলো, সেগুলোর মূলোৎপাটন আগে জরুরি। এবং সেটা করতে হবে উলামায়ে কেরামকে। করতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল খাটিয়ে।
ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে সময় দেওয়ার জন্য অশেষ শোকরিয়া।
আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ। শোকরান লাকুম।
