বাংলাদেশের গণতান্ত্রকে নস্যাৎ করতে পারে ভারত: ড. কামাল

ফাতেহ ডেস্ক

 বর্তমান সরকারকে অব্যাহত সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ এবং বিকাশমান গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে ভারত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সাউথ এশিয়ান মনিটরে তার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন করতে ‘সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে।

গৃহবন্দি হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ড. কামাল ভারতীয় সিদ্ধান্ত-প্রণয়নকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন, নয়াদিল্লি যদি নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক দল এবং এর নেতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখে, তবে তা ‘ভারত প্রশ্নে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি’ করবে।

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি সমঝদার লোক ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। ভারতকে অবশ্যই এই দেশের জনগণকে সমর্থন দিতে হবে। অতীতের আওয়ামী লীগের কিছুই এই আওয়ামী লীগে নেই। আমি আশা করছি, বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কূটনীতিক তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ না রাখলেও ঐক্যফ্রন্টের অন্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।’

‘জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন বাকি থাকলেও ভারত এখনো চূড়ান্ত কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি। তারা এখনো দুর্নীতিতে নিমজ্জিত অগণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারে। দুর্নীতির কারণেই এই সরকার ‘নির্বাচনের ব্যাপারে ভীত,’ বলেন ড. কামাল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবাইকে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারি না, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে সন্ত্রস্ত্র করতে থাকায় আমাদেরকে অবশ্যই একেবারে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা ও ক্ষমতাসীন দলের তীব্র সমালোচনা করে গণফোরাম-প্রধান বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন মাত্রায় সন্ত্রাস দেখিনি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানে শহর-গ্রামের প্রতিটি রাস্তায় পোশাকধারী পুলিশ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। গণগ্রেফতার চলছে। এটিই আসল লজ্জা।’

তিনি বলেন, ‘লোকজন যাতে ভোট দিতে না আসে সেজন্য তাদের সন্ত্রস্ত্র করাই তাদের উদ্দেশ্য। এ কারণে আমাদের দরকার অটল থাকা।

আগের সংবাদযেসব বিষয় নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে
পরবর্তি সংবাদআবারো আলোচনায় এরশাদ, সরে দাঁড়ালেন ঢাকা -১৭থেকে