
রাগিব রব্বানি
দারুল উলুম দেওবন্দের কোনো সিদ্ধান্ত সাদপন্থী তাবলিগিরা গ্রহণ করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন সাদপন্থীদের মুখপাত্র মাওলানা জিয়া বিন কাসিম। আজ ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের বিশেষ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাওলানা জিয়া বিন কাসিম বলেন, ‘তাবলিগের মেহনত তো দেওবন্দ থেকে পরিচালনা করা হয় না, এ কাজকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজ থেকে। অতএব দেওবন্দ কোনো সিদ্ধান্ত দিলে সেটা আমরা মানতে যাব কেন? তাঁদের সব সিদ্ধান্ত মানলে তাবলিগ কি আর তাবলিগের উসুলের ওপর থাকবে?’
বাংলাদেশে তাবলিগের চলমান সঙ্কট নিরসনের জন্য সরকার ও বিবাদমান উভয়পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ যাচ্ছে আগামী ১৫ জানুয়ারি।
গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিনিধি দলে সরকারের পক্ষ থেকে থাকবেন ধর্মসচিব মো. আনিসুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ। উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে থাকবেন বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, কাকরাইলের মুরব্বি মাওলানা রবিউল ইসলাম এবং মাওলানা মাহমুদুল হাসান। আর সাদপন্থীদের মধ্য থেকে থাকবেন ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলাম এবং মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।
মাওলানা জিয়া বিন কাসিমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দেওবন্দের সিদ্ধান্ত যখন আপনারা মানবেনই না, তাহলে আগামী ১৫ তারিখের সফরে আপনাদের প্রতিনিধিরা কেন অংশগ্রহণ করছেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘উলামায়ে কেরামের দাবির ভিত্তিতে সরকার সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর জন্যই আমাদের প্রতিনিধি থাকবেন এ সফরে। তাছাড়া বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম বলছেন, মাওলানা সাদ সাহেব ‘গোমরাহ’ হয়ে গেছেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদার ওপর নেই, এসব ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দ কী বলছে, তা জানাটাও আমাদের দরকার, তাই আমরা প্রতিনিধি পাঠাচ্ছি।’
দারুল উলুম দেওবন্দ যদি মাওলানা সাদ সাহেবকে ‘গোমরাহ’ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা থেকে ‘বিচ্যুত’ হিসেবে অভিমত পেশ করে তাহলে কি আপনারা তা মেনে নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা জিয়া বিন কাসিম বলেন, ‘দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা আছে, তাঁরা জানেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মাপকাঠি কী। সুতরাং আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁরা এ ধরনের কোনো মতামত ব্যক্ত করবেন না। কারণ, দেওবন্দ কখনোই দীনের মুখলিস কোনো দায়ীকে অশ্রদ্ধা এবং অসম্মান করেনি। এটা দেওবন্দের ইতিহাসে নেই।’
মাওলানা জিয়া বিন কাসিম আরও বলেন, ‘প্রতিনিধি দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফিরুক, উলামায়ে কেরাম যদি আলাদাভাবে ইজতেমা করতে চান, আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। আমরা কোনো ধরনের সংঘর্ষে আর জড়াব না। আমরা চাই, তাঁরা তাঁদের মতো কাজ করুন, আমরা আমাদের মতো কাজ করি।’
