
ফাতেহ ডেস্ক
কাশ্মিরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে আবারও গুলি বিনিময় করেছে ভারত ও পাকিস্তান। এতে অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গতকাল শুক্রবার সারা রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পারমাণবিক ক্ষমতাধর দুদেশের সেনারা একে অপরের পোস্ট, গ্রাম ও সীমান্ত লক্ষ্য করে গুলি বিনিময় করেছেন। এতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মিরে একই পরিবারের তিনজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মির অঞ্চলে এক বালক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা উমর আজম বলেন, ভারতীয় সেনারা সীমান্তে নির্বিচারে গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ভেতরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলার জবাবে বুধবার কাশ্মীরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক ভারতের দুটি যুদ্ধ বিমান গুলি করে ভূপাতিত ও একজন পাইলটকে আটক করার পর সীমান্তে গোলাগুলি চলছে।
আটক ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার ছেড়ে দেয় পাকিস্তান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নিজেদের সংবরণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী হামলায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর ৪০ জনের বেশি সদস্য নিহত হন। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। এরপর প্রতিবেশী দুদেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।
ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিতে থাকে। তবে পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারত তাদের ওপর হামলা করলে পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনমুক্ত হওয়ার পর থেকেই অমীমাংসিত কাশ্মির রাজ্য নিয়ে পারমাণবিক ক্ষমতাধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই চায় পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের অধীনে রাখতে চায়। এদিকে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে কাশ্মিরকে চান কাশ্মীরের জনগণ।
