সালাহুদ্দিন আইয়ুবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ, আকসার পুনরুদ্ধারে আরেকজন আইয়ুবি কি আসবে?

হামমাদ রাগিব

ইসলামি ইতিহাসের অজেয় বীর সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবির ইন্তেকালের ৮২৬ বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে আজ। ১১৯৩ ইসায়ির এই দিনে অসুস্থ অবস্থায় দামেস্কে শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেছিলেন শিংহশার্দুল এ সিপাহসালার।

কৈশোরের থৈথৈ সময় থেকে ইন্তেকাল অবধি জীবনের সিংহভাগ অংশে ইসলামি খেলাফত ও মুসলিমদের নিরাপত্তার জন্য তিনি বিরামহীন লড়ে গেছেন। পরাজয়ের কোনো কালিমা ছিল না তাঁর সমর অভিধানে। যেদিকেই ছুটেছেন, বিজয় এসে পদচুম্বন করেছে। অনন্য রণকৌশল, অজেয় বাহাদুরি আর শত্রুদের সঙ্গে সদয় ব্যবহারের কারণে মুসলিম ইতিহাসে যেমন তিনি বরিত হয়ে আছেন, তেম্নি অমুসলিম পশ্চিমারাও তাঁকে স্মরণ করে পরম সম্মান ও ভক্তির সঙ্গে।

ইতিহাস তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের কবল থেকে মুসলমানদের দ্বিতীয় কিবলা মসজিদুল আকসার ভূমি জেরুসালেম পুনরুদ্ধারের কারণে। ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ অক্টোবর সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি ক্রুসেডারদের জবর দখল থেকে পবিত্র জেরুসালেম উদ্ধার করেন।

এর আগে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম এই ভূমি মুসলিমদের করতলগত হয়েছিল। দীর্ঘ চার শতাব্দী মুসলিমদের অধীনে ছিল জেরুসালেম। তারপর শাসকদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দৌর্বল্যে ১০৯৯ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টান যুদ্ধবাজ ক্রুসেডাররা আবার দখল করে নেয় পবিত্র এই মানচিত্র।

খ্রিষ্টানরা যেদিন জেরুসালেম প্রবেশ করেছিল, হাজার নবির স্মৃতিধন্য এ শহরে সেদিন নেমে এসেছিল কিয়ামতের বিভীষিকা। চারশো বছরের মুসলিম শাসনে জেরুসালেম তখন মুসলিম জনবহুল শহর। ক্রুসেডাররা শহরে প্রবেশ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ এই সম্প্রদায়কে গণহারে জবাই করতে থাকে। নীরিহ মুসলিমদের রক্তে জেরুসালেমের পথঘাটে যেন রক্তের বন্যা নেমে এসেছিল। রাস্তায় চলমান খ্রিষ্টানদের ঘোড়ার পা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছিল বহমান এ রক্তে।

নৃশংসতার এই ভয়াল সময়ের নব্বই বছর পর সালাহুদ্দিন আইয়ুবি জেরুসালেম বিজয় করেছিলেন। খ্রিষ্টানরা ভেবেছিল, সেদিন তারা যে পাশবিকতা চালিয়েছিল মুসলিমদের ওপর, সালাহুদ্দিন আইয়ুবি বুঝি আজ তারই প্রতিশোধ নেবেন খ্রিষ্টানদের গণহারে হত্যা করে। কিন্তু ইসলামের শাশ্বত শিক্ষা আর নিজের অমায়িক বদান্যতার কারণে সিপাহসালার সেদিন সাধারণ কোনো খ্রিষ্টানের গায়ে ফুলের আঁচড়টুকুও লাগতে দেননি। রাষ্ট্রীয় কর আদায়ের শর্তে পূর্বের মতোই তাদেরকে জীবন যাপনের অধিকার দিয়েছিলেন। বিচার কেবল করেছিলে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের। এই রকম ইনসাফ ও অমায়িক বদান্যতার কারণেই অমুসলিমরা তাঁকে হাজার শতাব্দী পরও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করে।

সালাহুদ্দিন আইয়ুবির এই বিজয়ের পর জেরুসালেমে মুসলমানদের একচ্ছত্র শাসন ছিল ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ অবধি। তারপর থেকে এ অঞ্চলের মুসলিম জীবনে শুরু হয় আজকের এই জিল্লতি আর জুলুমের ব্যথাতুর অধ্যায়।

শতাব্দী কালেরও বেশি সময় ধরে চলছে এ জিল্লতি। মাসজিদুল আকসা আজ হাহাকার করছে একজন সালাহুদ্দিন আইয়ুবির জন্য। অপেক্ষা করছে অমন শিংহশার্দুল কোনো বীর সিপাহসালারের। যিনি এসে আকসার মিনারে আবারও ওড়াবেন ইসলামের বিজয়পতাকা—হেলালি নিশান।

আগের সংবাদশত্রুদেশের বন্দী সেনাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশও স্থাপন করল অনন্য নজির
পরবর্তি সংবাদকাদেরের রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে মন্ত্রিসভা