
ফাতেহ ডেস্ক
চরম পানি-সংকটে দিন পার করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মুসলিমরা। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার হিসেবে ইয়েমেনে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকেট রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। আর জাতিসংঘ বলছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়া কলেরায় প্রাণ গেছে কয়েক হাজার ইয়েমেনির।
২০১৫ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেন। আন্তর্জাতিক নানা উদ্যাগের পরও সুরাহা হয়নি সংকটের। কিন্তু প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে এখন কয়েক লাখ মানুষ।
প্রায় চার বছরের গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রয়েছে তাইজ। দুই পক্ষের দখল পাল্টা দখলে পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে আসা বেশিরভাগ পানির উৎসও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন তীব্র হচ্ছে পানির সংকট।
তাইজের সরকারি কর্মকর্তা বদির মোহাম্মদ বলেন, তাইজে দৈনিক পানির চাহিদা ৩৫ হাজার কিউবিক মিটার। যুদ্ধ শুরুর আগেও ১৮ হাজার লিটারের বেশি উৎপাদন সম্ভব ছিল না। সেসময়ই ৩৫ শতাংশ ঘাটতিতে ছিল তাইজ। বন্ধ থাকা কূপগুলোর সংস্কারের পরও চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।
এতোদিন সরকারি উদ্যোগে পানি সরবরাহের কাজ চললেও যুদ্ধের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। কিছু দাতব্য সংস্থা পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এই সুযোগে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চড়া মূল্যে বিক্রি করছে পানি।
পানির সংকট দূর করতে তাইজের প্রত্যন্ত এলাকার অনেক বাসিন্দাই অবৈধ কূপ তৈরি করছেন। এর ফলে পানির স্তর আরো নেমে গিয়ে আগামীতে ভয়াবহ পানির সংকট তৈরি করবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। সংকট নিরসনে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান তাঁদের।
