বাংলাদেশে ইসলামোফোবিয়ার মুকাবেলায় হেফাজতের ভূমিকা কতটা ফলপ্রসূ?

রাগিব রব্বানি

বাংলাদেশের গণপরিসরে নানাভাবে ছড়িয়ে আছে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ। প্রগতির নাম নিয়ে অনেকে এই জিনিসটাকে ফ্যাশনে রূপান্তর করেছেন। একদিকে যেমন ইসলাম, ইসলামের মহান ব্যক্তিত্ব, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ধর্মগ্রন্থ নিয়ে পাবলিক প্লেসে বিষোদগার ও উস্কানিমূলক নোংরা মন্তব্য, অপরদিকে ইসলামি পোষাক পরিধানকারী বা সাধ্যমাফিক ইসলাম পালন করতে চাওয়া লোকদেরকে যেখানে-সেখানে হেনস্থা করা—বাংলাদেশে গত ১০ বছরে এই প্রবণতাটা ব্যাপক আকারে বেড়েছে।

আরও পড়ুন : গণপরিসরে ইসলামভীতি, ধর্মীয় পোশাক খুলতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে

তবে ২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণের নামে গড়ে ওঠা নাস্তিক্যবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলাম যখন অভূতপূর্ব আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামে, তখন থেকে ইসলাম নিয়ে বিষোদগার বা নাস্তিক্যবাদের আস্ফালন অনেকাংশেই স্তিমিতির দিকে আসতে থাকে। শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাহ্যিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও দুর্বার সেই আন্দোলনের প্রভাব আন্দোলন-পরবর্তী বাংলাদেশে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এমনটাই মনে করছেন খ্যাতিমান আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন।

ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে আজ এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম তাঁর সঙ্গে।

ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন বলেন, হেফাজতের আন্দোলনের পর থেকে ইসলামোফোবিয়া বিষয়ে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। খোদ গভর্মেন্টের মন্ত্রী-এমপিরা পর্যন্ত ধর্ম বিষয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতেন একসময়, প্রতিবাদেও কোনো কাজ হতো না, হেফাজতে ইসলামের প্রভাবে সেই প্রবণতাটা সরকারপক্ষ থেকে এখন অনেকটা নেই বললেই চলে। তাছাড়া একসময় নাস্তিক-মুরতাদরা বাংলাদেশে বসেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইসলাম নিয়ে উস্কানিমূলক বিষোদগার করত, এখন আর সেই প্রবণতাও নেই। এমন কাজ এখন যারাই করছে, দেশের বাইরে থেকে করছে, দেশের ভেতর থেকে ইসলাম নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো অনেকটাই লোপ পেয়েছে।

কিন্তু এটা তো ইসলামোফোবিয়ার একটা দিক মাত্র, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও প্রভাবে যেটা অনেকাংশেই কমেছে। কিন্তু স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি কিংবা অফিস-আদালতের বিভিন্ন জায়গায় ইসলামি পোষাক পরিধানকারী এবং সাধ্যমতো ইসলাম পালন করতে চাওয়া লোকদের নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে নিয়মিত। অনেক স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে ছাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্য মাফিক বোরকা বা হিজাব পরে যেতে পারছে না, নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে; ছাত্ররা টুপি-দাড়ি পরলে বা নামাজ-কালাম করলে জঙ্গি ঠাওরানো হচ্ছে; অফিস-আদালত বা সাধারণ কর্মক্ষেত্রেও আছে এমনতর সমস্যা—এই সমস্যাগুলোর সমাধানে হেফাজতে ইসলামকে খুব একটা ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না।

এমন আলাপের উত্তরে ড. আ ফ ম খালেদ বলেন, আসলে হেফাজত নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে কাজ করার কারণে এ দিকটায় হয়তো খুব একটা মনোযোগী হতে পারেনি, তবে এই সমস্যাগুলো খুবই স্পর্শকাতর, হেফাজতে ইসলামের এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপগ্রহণ সময়ের দাবি বলে আমি মনে করি। আর এ ব্যাপারে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমার বিশ্বাস শীর্ষ নেতৃত্ব আশানুরূপ সাড়া দেবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যাপারটা আলাপ করার চেষ্টা করব।

আগের সংবাদসিলেটের দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া আর নেই
পরবর্তি সংবাদমহাকালের যাত্রায় মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া, যেমন ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ।। ইলিয়াস মশহুদ