
ফাতেহ ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় এক সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলায় ৫০ জন নিহত ও আরো ৪৫ জরের বেশি আহত হয়েছেন। শুক্রবারের ওই হামলার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন অস্ট্রেলিয়ার চরম ডানপন্থী সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। মুসলিমবিদ্বেষী ওই বক্তব্যের জেরে তার মাথায় ডিম ছুঁড়ে মেরেছেন এক তরুণ।
অবশ্য এ ঘটনার পরই সিনেটর ফ্রেজার ওই তরুণকে চড়থাপ্পড় ও কিলঘুষি মেরেছেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অ্যানিংকে সরিয়ে নেন। শনিবার ঘটনাটি ঘটে। এর আগে মসজিদে হামলার ঘটনায় শুক্রবার একটি বিৃবতি দেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং।
এতে তিনি ক্রাইস্টচার্চের হামলার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র আইন ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাকে দোষারোপ করেন। বামপন্থী রাজনীতিক ও গণমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘মুসলিম অভিবাসন ও সহিংসতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ হামলার পরেও কি কেউ এটি অস্বীকার করতে পারবে?’
এ মন্তব্যের পরদিন শনিবার মেলবোর্নের মুরাবিন আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন অ্যানিং। এ সময় এক তরুণ এসে তার মাথায় একটি ডিম ভাঙেন। এরপর ওই তরুণকে অ্যানিং মারধর শুরু করলে নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে সরিয়ে নেয়।
এ ঘটনার সময় গণমাধ্যমের ক্যামেরা চালুই ছিল। এমনকি ওই তরুণ এ ঘটনা ঘটানোর সময় নিজের কাছে থাকা ক্যামেরায়ও ভিডিও রেকর্ডিং চালু করেন।
অ্যানিংয়ের ওই মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্যে নিন্দার ঝড় বইছে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও তার মন্তব্যের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া গতকালই দেশটির পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দল যৌথভাবে অ্যানিংয়ের মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনে।
