
ফাতেহ ডেস্ক
বাগৌজের পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়া-ইরাকে আইএসের ১৩ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটেছে। ২০০৬ সালে ইরাকের পর ২০১৩ সালে সিরিয়ায় অবস্থান শক্ত করে সংগঠনটি। ইসলামিক শাসন কায়েমের নামে চালায় ভয়াবহ নিপীড়ন।
২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে মূলত উত্থান ঘটে আইএসের। তখন ইসলামি সশস্ত্র সংগঠন আল-কায়েদার অধীনে তারা কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে আল-কায়েদার নীতি-নৈতিকতা পরিহার করে বিচ্ছিন্ন কাজ শুরু করে। আল-কায়েদার প্রচুর মুজাহিদকে নির্মমভাবে শহিদও করে ভ্রান্ত এই দলটি।
২০১১ সাল। আরব বসন্তের ছোঁয়ায়, সিরিয়ায় পুরোদমে প্রেসিডেন্ট আসাদ উৎখাতের বিল্পব। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ২০১৩ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এ্যান্ড লেভেন্ট-আইসিস নামে ইরাক ও সিরিয়ায় উত্থান ঘটে আইএস নামের সংগঠনটির।
২০১৪ সালে ইরাকের ফালুজা এবং সিরিয়ার রাকার দখল নেয় আইএস। ছ’মাস পর, ইরাকের মসুল দখলে নিয়ে, অযৌক্তিকভাবে খেলাফতের ডাক দেন আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি। মাত্র দু বছরে ইরাক ও সিরিয়ার মোট ৮৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখলে নেয় উদ্রবাদী সংগঠনটি। ইসলামের নাম নিয়ে মানুশের ওপর চালাতে থাকে নৃশংস নির্যাতন। নির্যাতন এড়াতে প্রতিবেশীসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আছড়ে পরে সাধারণ সিরীয়রা।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর আইএস দমনে সিরিয়ান কুর্দিদের সহায়তায়, তুরস্ক সীমান্তে বিমান হামলা দিয়ে আইএস দমন অভিযানে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এসময় প্যারিসে একটি সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। লিবিয়ায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর কয়েকটি হামলারও দায় নেয় তারা।
এ বছরেরই মে মাসে ইরাকের ঘনবসতিপূর্ণ রামাদি এবং সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমিরার দখলে নেয় আইএস। বছর শেষে, শহর দুটি পুনরুদ্ধার হলেও, ততোদিনে ধ্বংসযজ্ঞে পালমিরার সব নিদর্শন।
পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরাকের ফালুজা এবং বিদ্রোহীদের তৎপরতায় সিরিয়ার মানবিজ শহর আইএসমুক্ত হয়। সীমান্তে বিশৃঙ্খলা এড়াতে, সিরিয়ায় আইএস ও বিদ্রোহীদের অংশ কুর্দিশ লেফটিস্ট ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি ওয়াই/পি/জি ঘাঁটিতে হামলার মধ্য দিয়ে, লড়াইয়ে তুরস্কের প্রবেশ।
একের পর এক অঞ্চল হারিয়ে ২০১৭ সালটা ধকতে হয়েছে আইএসকে। জুনে ইরাকের মসুলপরের দুই মাসে সিরিয়ার দেইর এল জোর ও রাকা রুশ সহায়তায় পুনরুদ্ধার করে আসাদ বাহিনী।
২০১৮ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একাংশ ও গোলান মালভূমিতে নিজেদের অংশ আইএসমুক্ত করে সরকারি বাহিনী। এসময় ইরাক পুরোপুরি আইএসমুক্তের ঘোষণা আসে।
২০১৯ সালের শুরুটা শুধু কফিনের শেষ পেরেকটা মারার। সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের আইএসের শেষ ঘাঁটি বাগৌজ শতভাগ আইএসমুক্ত করতে সময় লাগে, দুই মাসেরও কম সময়।
