
মুসান্না মেহবুব
জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক শিবির-সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বলা হচ্ছে জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের নেতৃত্বেই গঠিত হচ্ছে নতুন এ সংগঠন।
ইতিমধ্যেই তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ রাজনৈতিক দল গঠনের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন। গত ২৭ এপ্রিল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মঞ্জু।
দীর্ঘদিন জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করলেও মঞ্জু যে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি করতে যাচ্ছেন, সেটার ভিত্তি তিনি ধর্মের ওপর রাখবেন না বলে জানিয়েছেন। আবার তাঁর দল সেকুলারপন্থা বা জাতীয়তাবাদের আদর্শেও উজ্জীবিত হবে না। বরং নতুন এ দলের লক্ষ্য থাকবে ধর্ম ও মতাদর্শিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থেকে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা। এ ক্ষেত্রে যে কোনো মত বা ধর্মের লোক তাঁদের এ দলে সক্রিয় হতে পারবেন বলে জানান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
নির্দিষ্ট কোনো আদর্শের ওপর নির্ভর না করলেও ইসলাম থেকে অনুপ্রাণিত হবার কথা জানান তিনি। ‘এই রাজনৈতিক দল হবে ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার নতুন কর্যক্রম।’
জামায়াত থেকে বের হয়ে নতুন ধারার এমন রাজনৈতিক প্লাটফর্মের উদ্যোগকে ইসলামি ধারার রাজনীতিবিদরা কীভাবে দেখছেন জানতে চেয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদেরের সঙ্গে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তো এখনও গঠিত হয়নি, কিছু লোক কেবল তাঁদের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন, এখনই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ঘোষণা অনুযায়ী আদৌ তাঁরা কোনো প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারবে কি-না, সেটা অনেক বড় প্রশ্ন। একটা দল করতে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন-রেজিস্ট্রেন ইত্যাদি অনেক ব্যাপারের প্রয়োজন আছে। সেগুলো উৎরে তাঁরা দল গঠন করুক, তারপর না মন্তব্যের প্রশ্ন। তাছাড়া নতুন নতুন আরও অনেক দলের আবির্ভাব ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, কে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পেরেছেন, পারছেন, সেটা তো সবার চোখের সামনেই। তাই আমি এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
জামায়াতের রাজনীতি বা ইসলামি ধারার রাজনীতিতে নতুন এই দল কোনো প্রভাব ফেলবে কি-না জানতে চাইলে ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, জামায়াতে কতটা প্রভাব ফেলবে না ফেলবে, সেটা জামায়াতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে ইসলামি ধারার রাজনীতিতে এই দল কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না, কারণ তাঁরা তো আর ইসলামি ধারার দল প্রতিষ্ঠা করছে না, সুতরাং এই প্রশ্নই আসে না।
কথা বলেছিলাম ইসলামি ধারার বিশ্লেষক আলেম ও ইসলাম টাইমস টোয়েন্টি ফোর ডটকমের সম্পাদক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের সঙ্গেও। আদর্শের প্রশ্ন অমীমাংসিত রেখে জামায়াতের সংস্কারপন্থী নেতারা যে দল গঠন করতে যাচ্ছেন, সেটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? জানতে চেয়েছিলাম মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের কাছে।
উত্তরে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে যা মনে হলো, আদর্শের চেয়ে তাঁরা আসলে জোর দিতে চাচ্ছেন জনগণের চাওয়া এবং আকাঙ্ক্ষার ওপর। বাংলাদেশে সেকুলার, জাতীয়তাবাদ, বাম, ইসলাম—মোটামুটি এই চার আদর্শের রাজনীতি প্রচলিত। ইসলাম সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ হলেও এর বাস্তবায়ন নানাবিধ কারণে এখানে সম্ভব হয়ে উঠছে না। তাই হয়তো তারা আদর্শের চেয়ে জনআকাঙ্ক্ষার দিকে মনোযোগ দিয়েই কাজ করতে চাচ্ছেন।
নতুন ধারার এ রাজনীতি কতটা সফলতার মুখ দেখবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ জানান, আসলে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক চর্চা কাগজে কলমে থাকলেও মাঠে ময়দানে সেভাবে নেই। সবকিছুই একটা সীমাবদ্ধতার ভেতরে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল কতটা সফলতার মুখ দেখবে, তা নিয়ে কোনো আশাবাদ ব্যক্ত করা মুশকিল। তবে রাজনীতির সাথে যারা যুক্ত থাকেন, পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তারা একটা না একটা পথ সবসময় খুঁজতে থাকেন। নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গড়ার ঘোষণাটা আমার কাছে রাজনৈতিক নেতাদের সেই প্রচেষ্টারই একটা অংশ মনে হচ্ছে।
