সাদপন্থীদের স্বতন্ত্র শিক্ষাবোর্ড, সাদ কান্ধলভির চিন্তা-চেতনায়ই গড়ে তোলা হবে ছাত্রদের

বিশেষ প্রতিবেদক

সাদপন্থী তাবলিগিদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড’ নামে স্বতন্ত্র একটি শিক্ষাবোর্ড গঠিত হয়েছে। সাদপন্থীদের পরিচালিত মাদরাসাগুলোর তত্ত্বাবধানের জন্য গঠন করা হয়েছে এ শিক্ষাবোর্ড। তাবলিগ জামাতের বিতর্কিত আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির চিন্তা-চেতনার লালন ও প্রসারে কাজ করবে বোর্ডটি। এমনটাই জানিয়েছেন বোর্ডটির কর্ণধার ও সাদপন্থী নেতা মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

গত ৪ মে ঢাকার সাভারে অবস্থিত মারকাজুল উলুম আশ-শারইয়্যাহ নামের একটি মাদরাসায় সাধারণ অধিবেশন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ শিক্ষাবোর্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। মুফতি আতাউর রহমান নামে সাদপন্থী তাবলিগিদের এক মুরব্বি শিক্ষাবোর্ডটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন।

সাধারণ অধিবেশনে দেশের ৫ শতাধিক মাদরাসার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন জেলার অর্ধশতাধিক মাদরাসার মুহতামিম অংশগ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছে সাদপন্থীদের মুখপত্র তাবলিগ নিউজ বিডি। একই সঙ্গে তাদের এ শিক্ষাবোর্ডকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কওমি শিক্ষাবোর্ড আখ্যা দিচ্ছে সাদপন্থীদের এ অনলাইন পোর্টালটি। কিন্তু তাদের প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে একটি কামরায় ঘরোয়াভাবে ২০/২৫ জন লোকের অংশগ্রহণে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে সাদপন্থী নেতা ও নতুন এ বোর্ডের কর্ণধার মাওলানা জিয়া বিন কাসিম দাবি করেছেন, দুই থেকে আড়াইশ মাদরাসা এ পর্যন্ত তাদের বোর্ডের অধিভুক্ত হয়েছে। রমজানের মধ্যে এ সংখ্যা পাঁচ শ’ ছাড়িয়ে যাবে।

নাম ‘জাতীয় কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড’ হলেও আঞ্চলিক বোর্ডগুলোর মতোই পরিচালিত হবে তাদের কার্যক্রম। তাদের অধিভুক্ত মাদরাসাগুলো বেফাক ও অন্যান্য কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে থেকে হাইআতুল উলয়ার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, অপরদিকে নিচের জামাতগুলোর পরীক্ষা তাদের নতুন এ বোর্ডের উদ্যোগেই নেবে। তবে এটা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না, আগামীতে ‘মশওয়ারা’ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মুফতি জিয়া বিন কাসিমের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

জিয়া বিন কাসিম আরও জানান, যে ছয়টি বোর্ডের সমন্বয়ে হাইআতুল উলয়া গঠিত, পর্যায়ক্রমে সপ্তম বোর্ড হিসেবে হাইআতুল উলয়ার সঙ্গে তাদের বোর্ডকেও সংযুক্ত করার ইচ্ছে আছে তাদের। সে চেষ্টা নিয়েই তারা সামনে বাড়ছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমরা এই বোর্ড গঠন করেছি। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ‘মূলধারা’র তাবলিগের চেতনায় যাতে ছাত্রদেরকে গড়ে তোলা যায়, বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাদরাসাগুলোতে এ ব্যাপারে জোর মেহনত করা।

আগের সংবাদশাপলা চত্বরে রাতযাপন : যেভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়
পরবর্তি সংবাদকর্তৃত্ব করতে নয়, সেবা করতে এসেছি : জিএম কাদের