
রাগিব রব্বানি
তৃতীয় রমজান অতিবাহিত হচ্ছে আজ। রমজান জুড়ে সিয়াম-সাধনাকে কেন্দ্র করে আমাদের থাকে নানা রকমের প্রস্তুতি ও আয়োজন। খাবার-দাবার থেকে শুরু করে সবকিছুতেই যাতে স্বাচ্ছন্দ্য থাকে, রমজানের আগে আগেই যথাসম্ভব তা নিশ্চিত করে নিই।
নির্যাতিত হয়ে চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীরা কীভাবে যাপন করছেন রমজানের এই দিনগুলো, এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম রোহিঙ্গাদের সেবায় স্বেচ্ছাশ্রমে নিয়োজিত আলেম মাওলানা গাজী ইয়াকুবের সঙ্গে।
গাজী ইয়াকুব জানান, শরণার্থী প্রত্যেক ভাইবোনের জন্য সরকারের তরফ থেকে এবং সরকারের মাধ্যমে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সপ্তাহ এবং মাস শেষে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিশপত্র দেওয়া হয়। রমজান উপলক্ষে এ রিলিফগুলোকে আরও বিশেষয়াতি করা হয়েছে।
গাজী ইয়াকুব বলেন, সরকারপ্রদত্ত এসব সামগ্রী সব তো আর তাদের দরকারে লাগে না, কিছু রেখে বাকিসব স্থানীয় বাজারে তাঁরা বিক্রি করে দেন। বিক্রির টাকা দিয়ে নিজের প্রয়োজনমতো খরচপাতি করেন। রমজানে সবমিলিয়ে তাঁদের ভালোই কাটছে। সরকার ও বিভিন্ন দাতাসংস্থা থেকে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাঁরা পেয়েছেন, ওগুলো দিয়ে মোটামুটি ভালোভাবেই কাটাতে পারছেন রমজানের দিনগুলো।
গাজী ইয়াকুব জানান, প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তাই রোহিঙ্গাদের অনেকেই আর্থিকভাবে মোটামুটি সচ্ছল। রমজানে তাদের খুব কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
গাজী ইয়াকুব এখানে ভিন্ন একটা পয়েন্টের দিকে ইশারা করে বলেন, যে সাত লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সটা কিন্তু বাংলাদেশেই আসছে, অতএব রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশের বোঝাই নয়, আশির্বাদও। যে রেমিট্যান্সটা একসময় মিয়ানমার পেত, সেটা এখন আমরা পাচ্ছি। তাছাড়া বিশ্বব্যাংক জাতিসংঘসহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে প্রচুর অর্থকড়ি ব্যয় করছে বাংলাদেশে, এটাও কিন্তু বৈদিশিক মুদ্রা।
রমজানে ধর্মে কর্মে রোহিঙ্গারা কেমন মনোযোগী জানতে চাইলে মাওলানা গাজী ইয়াকুব জানান, তাঁদের অধিকাংশই ধর্ম পালনে আগ্রহী সবসময়। রমজানে স্বাভাবিকত এই প্রবণতাটা খানিক বাড়ে। রোহিঙ্গারা সকলেই রোজা রাখে, রমজানের অন্যান্য আমলে অংশগ্রহণের চেষ্টা করে।
রোহিঙ্গা শিবিরে স্থাপিত মসজিদগুলোতে রমজানের চিরায়ত আমেজ আছে বলেও জানান মাওলানা গাজী ইয়াকুব। তাঁর তত্ত্বাবধানে নির্মিত প্রতিটা মসজিদে তারাবিহর জন্য আলাদা হাফেজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শরণার্থীরা তুমুল উৎসাহে মসজিদে আসছেন। তারাবিহর পাশাপাশি এসব মসজিদের প্রতিটায় প্রতিদিন প্রায় দুশো লোকের ইফতারের ইনতেজাম করা হয়। তাঁর তত্ত্বাবধানের বাইরের মসজিদগুলোতেও কমবেশি এমন ব্যবস্থা আছে বলেও জানান মাওলানা গাজী ইয়াকুব
মাওলানা গাজী ইয়াকুবের তত্ত্বাবধানে এ বছর রমজানের আগে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ১০ পদের জিনিশপত্রের ২০ কিলো ওজনের প্যাকেট চার হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাসমাহ ফাউন্ডেশনও সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের ইফতার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।
সবমিলিয়ে রোহিঙ্গাদের রমজান মোটামুটি ভালোই কাটছে বলে জানান মাওলানা গাজী ইয়াকুব। কিন্তু নিজের ভিটেমাটি আর দেশ ছেড়ে পরদেশে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা আর ভালো থাকা যায়?
আরও পড়ুন : কেমন আছেন রোহিঙ্গারা?
