
আবু তাহের মিনহাজ
১.
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ১. পিতার দোয়া ২. রোজাদারের দোয়া ৩. মুসাফিরের দোয়া। (সুনানে বাইহাকি ৬৬১৯)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক ২. রোজাদার যতক্ষণ না ইফতার করে ৩. মাজলুমের দোয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৫২)
রোজাদার আল্লাহ তায়ালার প্রিয়। কেননা, সে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকে। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন রোজা আমার জন্য আর আমি এর প্রতিদান দিবো। সুতরাং প্রিয় বান্দা যখন তার মালিকের কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে তিনি ফিরিয়ে দেন না। রোজাদারের পুরো সময়ের দোয়া-ই কবুল করা হয়।
বিশেষত, সারাদিন সিয়াম পালন করে ইফতারের পূর্বে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিয়ে যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করে সেটা নিঃসন্দেহে কবুল হয়। সুনানে তিরমিজির বর্ণনায় এসেছে রাসুল সা. বলেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ২. রোজাদারের ইফতার সমকালীন দোয়া ৩. মাজলুমের দোয়া। (হাদিস নং ২৫২৬)
২.
দোয়া করার জন্য হাত উঠানো শর্ত নয়। অনেকে মনে করেন হাত না উঠালে দোয়া হয় না। এমন ধারণা ভুল। বরং একাগ্রতার সাথে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে যা চাওয়া হয় তা-ই দোয়া। তবে, হাত উঠানো দোয়ার আদব বটে। সুতরাং রোজাদারের উচিত, দোয়ার শব্দগুলো উচ্চারণ করে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। এক্ষেত্রে মাসনুন দোয়া পাঠ করা উত্তম।
ইফতারের পূর্বমুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। সারাদিন কষ্ট করার পর পারিশ্রমিক অর্জনের ক্ষণ। এসময় খুব মনযোগের সাথে নিজের, পরিবার, দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণের দোয়া করা। মৃতদের জন্য জান্নাত লাভ ও দারাজাত বুলন্দের দোয়া করা। অনেককে দেখা যায়, ইফতারে প্রাচুর্যতা আর বাহারি আইটেম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কয়েকজনের একসাথে ইফতার হলে গল্পগুজবে ব্যস্ত সময় কাটান। প্রচলিত ইফতার মাহফিল হলে বয়ান-বক্তৃতায় সময় চলে যায়। এগুলো পরিহারযোগ্য। সমস্ত ঝামেলা থেকে নিজেকে ফারেগ করে দোয়ায় মাশগুল থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন।
লেখক, তরুণ আলেম, হবিগঞ্জ
