
ফাতেহ ডেস্ক
আইসিটি আইনের মামলায় সোনাগাজী থানার ওসি’র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আংশিক সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২৭ মে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে, রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই-এর কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।
তিনি জানান, নুসরাত হত্যায় সুনির্দিষ্ট ১৬ জনের সম্পৃক্ততা মিলেছে। এ মাসের মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করা হবে।
এর আগে, নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণ হওয়ায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয় এবং ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।
এছাড়া অভিযুক্ত এসআই মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই মো. ইকবাল আহমদকে খাগড়াছড়ি জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগ এনে চলতি বছরের মার্চে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার।
মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষের অনুসারীরা গত ৬ই এপ্রিল সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় । তারা নুসরাতকে মিথ্যা বলে পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে যায় এবং তার শরীরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেদিনই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার নির্দেশ দিলেও তার অবস্থা শংঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ই এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
