৭১ তম নাকবা দিবসে আহত ৬৫ ফিলিস্তিনি

ফাতেহ ডেস্ক

গতকাল ১৫ই মে ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এ দিনটি ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের কাছে ‘নাকাবা দিবস’ হিসেবে পরিচিত। ‘নাকাবা’ অর্থ হলো বিপর্যয়। ১৯৪৮ সালের এ দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে দখলদার ইসরাইল প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এর পর থেকে প্রতিবছরই অত্যন্ত নতুন নির্লজ্জভাবে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনতার মহা বিপর্যয়ের এই দিবসটি আনন্দের সঙ্গে পালন করে ইসরাইল।

এই দিবসটি নিয়ে আলোচনা আছে সারাবিশ্বের সর্বত্রই। এ দিনটিতে নতুন করে মুক্তির আন্দোলন প্রাণ পায় স্বয়ং ফিলিস্তিনেও। এই দিনে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনের সর্বস্তরের জনতা দখলদার ইসরাইলের জুলুমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। অন্যান্য বছরের মত এই বছরের নাকবা দিবসেও রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ফিলিস্তিনের বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনরত অবস্থায় তাদের উপর হামলা চালায় ইসরাইলের সৈন্যবাহিনী। এতে ৬৫ জন ফিলিস্তিনি আহত৷ তাদের মধ্যে ২২ জন ও ৫ জন নারী রয়েছেন।

ইসরাইলের সঙ্গে এভাবেই যুগ যুগ ধরে লড়াই করে আসছেন ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ। কিন্তু কোন ফল হয়নি ৭০ বছরেও। অজ্ঞাত কারণে বিশ্বের মোড়ল সব সময়ই ঝুঁকে ছিলেন ইসরাইলের দিকে। অথবা একান্তই চুপ করে থেকেছিলেন তারা।

বস্তুত: সভ্য পৃথিবীর এক লজ্জাস্কর বিবেকের দায়ের নাম ইসরাইল। সভ্য পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা পরিবর্তন। কোনো কোনো পরিবর্তনে মানুষ নতুন করে আশাবাদী হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে নৈতিকতা ও মানবিকতার বিকাশ ঘটবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। ভেবেছিলেন বিশ্বজুড়ে অন্যায় ও অবিচারের মাত্রা কমে আসবে। মানুষ নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যের অধিকারকেও সম্মান করবে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শ্লোগানে আন্তর্জাতিক সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেও এ আশা জোরদার হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এর কিছুই ঘটেনি।

আধিপত্যকামীদের ক্ষমতা ও অর্থের লোভ সবকিছুতেই হতাশার ছোঁয়া লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যায় ও জুলুমের পদ্ধতিতে হয়তো পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু তা পুরোদমেই অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইসরাইলের দখলদারি এবং হত্যা-নির্যাতনে কোন পরিবর্তন আসেনি। এমনকি ৭১ বছরেও এই নির্যাতন বেড়েছে বৈ কমেনি কিছুতেই।

আগের সংবাদঅনৈতিকভাবে রায় পা‌ল্টানোর অভিযোগে হাইকোর্টের বিচারপ‌তি অভিযুক্ত
পরবর্তি সংবাদঢাকা ওয়াসাকে দু’ভাগ করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির