কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ে চলছে চরম অনিয়ম, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ

ফাতেহ ডেস্ক

চরম অনিয়ম চলছে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল ক্রয়ে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করা হচ্ছে ক্রয়। এতে করে কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক ধানের দাম পাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী বাজেটে কৃষি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা। ওদিকে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সূত্র জানায়, ধানের দরপতন ঠেকাতে ২৬শে এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু শুরু হয় গত সপ্তাহে। চলবে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার বোরো মৌসুমে সাড়ে ১২ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু অভিযানের শুরু থেকেই প্রভাবশালীদের কবজায় চলে যায় ধান সংগ্রহ অভিযান। নেতা ধরেও কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না। শুধু সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতারাই ধান সরবরাহ করতে পারছেন। ধান বেচার স্লিপও থাকছে তাদের হাতে। ওই সব নেতা রাতারাতি হয়ে উঠেছেন কৃষক। তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে সরকারি গুদামে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাই সরকারের ধান কেনায় কৃষক নয়, নেতারাই বেশি লাভবান হচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন, ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা পরিবর্তন না হলে সরকারের এ সহায়তা কৃষকের কাছে পৌঁছাবে না।

জানা গেছে, বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। নেতারাও কৃষকদের কাছ থেকে ওই দামে ধান কিনছেন। সেই ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করে তারা প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনেক জেলা-উপজেলায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ধান-বাণিজ্য ও ধানের স্লিপ বিক্রির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কোন্দল ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের চাপে তাদের কাছ থেকে ধান নিতে তারা বাধ্য হন।

এদিকে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, প্রশাসনকে কড়াভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা যায়। বুধবার নওগাঁ সদর উপজেলা স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ গুদামে (এলএসডি) বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা বেধে দেয়া হয়েছে। কৃষক যাতে ধানের প্রকৃত মূল্য পান সেই জন্য আজ থেকে ২০ দিন আগে জেলায় জেলায় সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়ের বরাদ্দ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

আগের সংবাদঝিনাইদহে মাইক্রোবাসচাপায় স্কুলছাত্রীসহ দুজন নিহত
পরবর্তি সংবাদভারতের স্কুলগুলোতে কুরআনসহ ছয়টি ধর্মীয় গ্রন্থকে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নারী ও শিশু মন্ত্রীর