দেওবন্দে বৈধভাবে ভর্তি : অগ্রগতি নেই কোনো

মুসান্না মেহবুব

বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনা, বিশেষ করে দেওবন্দে বৈধভাবে ভর্তি হবার সুযোগ তৈরির লক্ষে গঠিত হাইআতুল উলয়ার বিশেষ কমিটির কাজে তিনমাসেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত ১৭ মার্চ রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়াহর শীর্ষ বৈঠকে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। হাইআতুল উলয়া-উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, বিশেষ করে ভারতের দেওবন্দে বৈধভাবে ভর্তির জন্য ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ সহজিকরণ এবং বহির্বিশ্বের শিক্ষার্থীরাও যাতে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারে সে-ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল এ কমিটির ওপর। কথা ছিল দ্রুততম সময়ের ভেতর কমিটি এই কাজ সম্পন্ন করবে। কিন্তু কমিটি গঠনের ৩ মাস হতে চললেও এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি এর। এমনকি কমিটি গঠনের পর এ অবধি কোনো মিটিংও হয়নি।

এ ব্যাপারে সাবকিমিটির অন্যতম সদস্য, ফরিদাবাদ মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতী নুরুল আমীনের সঙ্গে কথা হয় ফাতেহ টোয়েন্টিফোর ডট কম থেকে। তিনি জানান, কমিটি গঠনের পর শিক্ষামন্ত্রণালয় মারফত ভারতীয় দূতাবাসে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে হাইআতুল উলয়া-শিক্ষার্থীদের ভারতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। ভারতীয় দূতাবাস এ পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি এই চিঠির, তাই কাজও এই পর্যায়ে থেমে আছে বলে জানান মুফতী নুরুল আমীন।

এ ব্যাপারে কমিটির কি আর কিছু করার নেই জানতে চাইলে মুফতী নুরুল আমীন বলেন, করার আছে অবশ্যই, তবে কমিটি গঠনের পর পরীক্ষার ব্যস্ততা এবং তার পরপরই রমজান চলে আসার কারণে কমিটির সদস্যরা এ নিয়ে কিছু ভাবতে পারেননি। রমজান শেষ হয়েছে, এখন সবাই মিলে একটা কিছু করা হবে। হাইআতুল উলয়ার আগামী মিটিংয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয় মারফত আমরা আবারও ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করব খুব শিগগির।

মুফতী নুরুল আমীন আরও বলেন, সবকিছু ঠিকঠাকমতো এগোলে এবং ভারতীয় দূতাবাস ইতিবাচক সাড়া দিলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই আমাদের ছেলেদের ভারতে উচ্চশিক্ষা লাভের বৈধ সুযোগ তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাশিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ও নদওয়াতুল উলামা লাখনৌতে ভর্তি হবার কোশেশ করেন। কিন্তু তাঁদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেককেই পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনা। যাঁরা ভর্তি হন, তাঁদের কেউ কেউ কয়েক মাসের টুরিস্ট ভিসা নিয়ে সেখানে থাকার সুযোগ নেন, তবে অধিকাংশই বাধ্য হয়ে ভারতের আইন অনুযায়ী অবৈধ পথ অবলম্বন করেন। ফলে সেখানে অবস্থান, সেখান থেকে পড়াশোনা শেষে আবার দেশে ফেরা তাঁদের জন্য রিস্কি হয়ে যায়। পুলিশের হাতে ধৃত হয়ে নানা হেনস্থার শিকার হন কেউ কেউ। কারও কারও ভাগ্যে জুটে কারা-দুর্ভোগও।

এদিকে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে যাঁরা যান, তাঁদের ভিসার মেয়াদও থাকে খুব সীমিত। শিক্ষাবর্ষ শেষ হবার আগে শেষ হয়ে যায় ভিসার মেয়াদ। মেয়াদ শেষ হলে দেশে ফিরে নতুন ভিসা লাগানোও অনেকটা অনিশ্চিত থাকে। কারণ, ভারতীয় দূতাবাস টুপি-দাড়ির কারণে কওমি শিক্ষার্থীদের টুরিস্ট ভিসাও সহজে ভিসা দিতে চায় না।

এইসব বিড়ম্বনার কারণে কওমি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দেওবন্দে পড়াশোনার জন্য কওমি অঙ্গনের শীর্ষ নেতৃত্ব যেন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈধ কোনো উপায় বের করার চেষ্টা করেন। কওমি শিক্ষাসনদের স্বীকৃতি না থাকায় এত কাল এই চেষ্টাটা তাঁরা করতে পারেননি। গতবছর কওমি শিক্ষাসনদের স্বীকৃতি আইন পাস হলে এ দাবি আরও জোরালো হয়। শীর্ষ নেতৃত্বও তাই এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাইআতুল উলয়া থেকে দাবি বাস্তবায়নের জন্য উপরোল্লিখিত সাব কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু সাব কমিটির কাজের ধীরগতি হতাশ করছে অনেক শিক্ষার্থীকে।

আগের সংবাদআব্দুর রহমান আল-কাওয়াকেবী : যে আলেম স্বৈরাচার নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবিত ছিলেন
পরবর্তি সংবাদবরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা