
মুসান্না মেহবুব
ইসলামি ধারার তরুণ লেখকদের ‘জাতীয়’ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম প্রতিষ্ঠার ৭ম বছর পার করছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কর্মরত এবং সারাদেশে ছড়ানো তরুণ লেখকদের নিয়ে ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ফোরামের যাত্রা।
ইসলামি ঘরানার তরুণ লেখকদের জাতীয় সংগঠন হিসেবে ফোরামটি নিজেদের পরিচয় দিলেও তরুণ ও নবীন লেখকদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এর সঙ্গে। গত ছয় বছরে ‘গৎবাঁধা’ কিছু প্রোগ্রাম ছাড়া তরুণ লেখকদের কল্যাণে চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি সংগঠনটি। এমনটাই দাবি অনেকের। তবে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, ইসলামী লেখক ফোরাম ইসলামি ঘরানার লেখকদেরকে ঐক্যবদ্ধ একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু নানামাত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এখনও তাঁরা পৌঁছতে পারছেন না।
এই ছয় বছরে ইসলামী লেখক ফোরাম কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পেরেছে? জিজ্ঞেস করেছিলাম দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সহসম্পাদক মাওলানা আলী হাসান তৈয়বের কাছে।
উত্তরে মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব বলেন, ইসলামী লেখক ফোরাম ইসলামি লেখকদের সংগঠন। এর মূল কাজই ইসলামি ঘরানার লেখকদের অধিকার আদায়ে জোরালো ভূমিকা রাখা, তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানকল্পে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং তাঁদেরকে আবর্তিত করে তৈরি নানামাত্রিক সংকট নিয়ে কাজ করা। প্রতিষ্ঠার সময়ে অবশ্য বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা ছিল সংগঠনটির, যার কারণে ওই সময়টাতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি, কিন্তু এখন যেহেতু অনেকটুকু সময় গড়িয়েছে, ৬ বছর, এই ৬ বছরে নিশ্চয় অনেক পরিপক্ব হবার কথা। লেখকদের কল্যাণে উল্লেখ করা যায়, এমন অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে এখন সংগঠনের। কিন্তু এই ৬ বছরে কল্যাণমূলক মৌলিক উদ্যোগ ফোরামের খুব কম। যা এক/দুইটা হয়, সেগুলোতে কেবল সহযোগী হিসেবে তাদের ব্যানার ব্যবহার করা হয়।
মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব বলেন, ‘ইসলামি লেখকদের জাতীয় পর্যায়ের একটি সংগঠন হিসেবে ফোরামের অনেক কিছু করার আছে। নতুন লিখতে আসাদের গাইড লাইন দেওয়া, পেশাদার লেখকরা মালিকপক্ষ-সৃষ্ট কোনো ধরনের জটিলতায় পড়লে তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। তাছাড়া বর্তমানে যে দুইটা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে, তরুণ লেখকদের মধ্যে পরস্পর কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং নবীন লেখকরা ইসলাম-অসমর্থিত বিষয়-অাশয়ে জড়িয়ে পড়া—এখানেও কৌশলী কাজ করার মূল দায়িত্ব কিন্তু ফোরামেরই। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ফোরামের কোনো উদ্যোগ বা তৎপরতা আমাদের চোখে পড়ে না।
ফোরামের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে যে নির্বাচন হয়, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়েও অভিযোগ আছে অনেকের। তাঁরা বলছেন, কারা নির্বাচিত হবেন, আগে থেকেই অনেকটা সিলেক্ট করা থাকে। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির হাতেই ঘোরপাক খায় ফোরামের নেতৃত্ব।
এসব বিষয়ে কথা বলেছিলাম ইসলামী লেখক ফোরামের সভাপতি, লেখক ও সাংবাদিক মাওলানা জহির উদ্দীন বাবরের সঙ্গে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত বা সমালোচনা আমরা এ অবধি পাইনি। এখানে বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য লোককেই নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সমালোচনা যেটা করা হয়, সেটা হলো, বিরোধী পক্ষ যাঁরা থাকেন, তাঁরা আমাদের কৌশলের সঙ্গে পারেন না।
নির্দিষ্ট কয়েকজনের হাতে ফোরামটির নেতৃত্ব ঘোরপাক খাচ্ছে, এমন অভিযোগের জবাবে মাওলানা বাবর বলেন, একটা জিনিস যাঁরা করেন, জিনিসটার প্রতি তাঁদের মমতা এবং ভালোবাসাই বেশি থাকবে, নির্বাচনে ভোটার যাঁরা তাঁরা এ দিকটাই হয়তো বিবেচনা করেন, যার কারণে ঘুরে ফিরে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাতাদের হাতেই আসে। তবে এখানে একপদে দুই বারের অধিক কেউ নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই, আমাদের গঠনতন্ত্র সেভাবেই সাজানো। আমি এই সেশনে সভাপতি আছি, আগামী সেশনের জন্য সভাপতি পদে প্রার্থী হবার সুযোগ থাকলেও পরবর্তী সেশনে কিন্তু আমি সেটা পারছি না। এটা ফোরামের গঠনতন্ত্রে নেই। অতএব নেতৃত্ব নির্দিষ্ট কয়েকজনের হাতে ঘোরপাক খেলেও, সেটা ফোরামের সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে খাচ্ছে এবং তা একসময় গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ীই পরিবর্তিত হবে।
লেখকদের কল্যাণে বা তাদের অধিকার আদায়ে ফোরামের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাওলানা বাবর বলেন, আসলে আমরা তো এখনও তরুণ। আমরা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারি না। নানা রকমের সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও কোনো লেখক কোথাও মজলুম হলে এবং সেটা আমাদের জানালে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বাত্মক চেষ্টা করি। আর লেখকদের কল্যাণেও আমরা কাজ করার চেষ্টা করি আপ্রাণ। তবে সাধ্য ও সীমাবদ্ধতা আমাদেরকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু করতে দেয় না।
