ইসরায়েলে বাংলাদেশ রেলওয়ের এডিজির ছেলে, রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের শঙ্কা গোয়েন্দাদের

ফাতেহ ডেস্ক

বাংলাদেশি পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, ‘এই পাসপোর্ট দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো দেশে ভ্রমণ করা যাবে, ইসরায়েল ছাড়া’। পাসপোর্টে এমন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন বাংলাদেশি নাগরিক ড. সাদমান জামান। বিষয়টি দুই বছর আগে জানাজানি হলেও সাদমানকে ভুলে গিয়েছিলো সবাই।

তবে সম্প্রতি একটি সংবেদনশীল তথ্যে আবারও আলোচনায় আসেন ২৭ বছর বয়সী ওই যুবক। জানা গেছে, সাদমানের বাবার নাম মো. শামছুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি রোলিং স্টক) হিসেবে কর্মরত।

ইসরায়েলে পাড়ি জমানোর আগে সাদমান লন্ডনে ডাক্তারি পড়তে যান। সেখান থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েলে ঢুকতে চাইলে দেশটির সরকার কোনো কারণ ছাড়া তাকে ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তারপর সাদমান ব্রিটেনে একটি ইহুদিবাদী সংঘের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তাদের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন করে গ্রহণ করেন জুডাইজম (ইহুদি ধর্মের মতাদর্শ)।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইসরায়েলে পা রেখে সে দেশের আই টুয়েন্টিফোর নিউজ টিভিতে সাক্ষাৎকার দেন সাদমান। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে গেলে অ্যারেস্ট (গ্রেফতার) হব। কিন্তু আমার বাবা-মা সেখানে আছেন। আমি আমার বাবা-মার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করি। আমার বাবা একজন নাস্তিক। আমার ধর্ম পালনের বিষয়ে উনি আমাকে বলেছেন, যেহেতু আমি প্রাপ্তবয়স্ক, তাই এটা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আমার মা মুসলমান।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েলের জাতীয় ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি- মোসাদ’র একাধিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী হিসেবে সে দেশে পা রাখেন সাদমান।

মোসাদ মূলত নিজ দেশের সীমানার বাইরে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর গোপন, স্পর্শকাতর ও অতিব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে এজেন্ট নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশি গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সাদমানের সঙ্গে মোসাদের সদস্যরা সবসময় যুক্ত থাকেন। তারা সাদমানের নৈকট্য লাভের নামে তার কাছ থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। আর সাদমান এসব তথ্য পাচ্ছেন বাবা, রেলের এডিজি শামছুজ্জামানের কাছ থেকে।

বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের শঙ্কা, মোসাদের পক্ষ থেকে সাদমানকে তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে নানা ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মূলত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সচেতন বা অসচেতনভাবে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি সরকারি নানা তথ্য বিনিময় করছেন। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এছাড়া সাদমান ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, সেখানকার মিলিটারি ক্যাম্প, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন ধরনের তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন বাংলাদেশি গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দারা জানান, সাদমান তার বাবা-মার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে একজন রাষ্ট্রদ্রোহীর (ছেলে সাদমান) সঙ্গে কথা বলা যায় কিনা- তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন গোয়েন্দারা।

বাবা শামছুজ্জামান ২০১৮ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যে ছেলের কাছে যান। সেখানে তিনি বেশ কয়েকদিন অবস্থান করেন- এমনও তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে। রেলের এডিজি শামছুজ্জামানের বিরুদ্ধে শুধু তথ্য পাচার নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আদায়, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। সাদমান কি সত্যিই পাচার করে দিচ্ছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য?

আরএইচ/

আগের সংবাদ৭ জুলাই অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট
পরবর্তি সংবাদসিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা