হাজীদের বিমানভাড়া তিনগুণ বেশি কেন?

রাগিব রব্বানি

গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে চলতি বছর হজপালনেচ্ছুদের হজযাত্রা। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হাজি পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। কিন্তু হজ পালনের জন্য তাঁদেরকে গুণতে হচ্ছে স্বাভাবিক বিমানভাড়ার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি মূল্য।

ওমরাহ পালন অথবা অন্য কোনো কাজে সৌদি আরব যেতে বিমানের আপডাউন টিকিটের দাম যেখানে সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৫২ হাজার টাকা, হজযাত্রীদের কাছ থেকে সেখানে রাখা হচ্ছে ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা করে।

বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হজ কল্যাণ পরিষদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার নামে গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবছর হাজিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, হজের সময় বিমান জেদ্দা থেকে খালি ফিরে আসে এবং হজ শেষে হাজীদের নিয়ে আসার পর খালি ফিরে যায়, তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হয় হজযাত্রীদের কাছ থেকে। এদিকে হজযাত্রী ও হজকল্যাণ পরিষদ বলছে, বিমান কর্তৃপক্ষের এ যুক্তি মেনে নিলে বিমানভাড়া বড়জোর দ্বিগুণ হতে পারে, তিনগুণ কেন?

বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রতিবছর হজে যান, তাঁদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে তাঁরা হজ করতে যান, সেই কষ্টের টাকা বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ লুটেপুটে খাচ্ছে অনেকটা রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে—এমন অভিযোগ সচেতন মহলের।

মৌলভীবাজার থেকে প্রতিবছর হাজীদের একটি কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব যান নিবরাস হজ অ্যাজেন্সির মুআল্লিম মাওলানা জিয়া উদ্দীন ইউসুফ। ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে তিনি বলেন, হজযাত্রীদের কাছ থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়ার এই প্রচলন গত ছয় বছর ধরে চালু হয়েছে। এর আগে হজযাত্রীরা সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বিমানের আপ-ডাউন টিকিট খরিদ করতে পারতেন। এ ছাড়া যেকোনো এয়ার লাইন্সে তাঁরা জেদ্দায় গমন করতে পারতেন। কিন্তু গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার আইন করে দিয়েছে, হজযাত্রী পরিবহনে কেবল বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ার লাইন্স সেবা দিতে পারবে, এর বাইরে অন্যকোনো এয়ার লাইন্স হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবে না।

মাওলানা জিয়া বলেন, এই আইন জারির পর থেকেই মূলত হজযাত্রীদের জন্য টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যা এ বছর স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি পরিমাণে এসে দাঁড়িয়েছে।

মাওলানা জিয়া আরও বলেন, হজযাত্রী পরিবহনে নির্দিষ্ট দুই এয়ার লাইন্স ছাড়া অন্য কোনো এয়াল লাইন্সের সুযোগ না থাকায় তিনগুণ ভাড়ার পাশাপাশি আরও নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় হজযাত্রীদের। সাধারণ হাজিরা একসময় বিশ থেকে পঁচিশ দিনের মধ্যে হজ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেশে ফিরতে পারলেও এখন তাঁদেরকে ৪০ থেকে ৪২ দিন বাধ্য হয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করতে হয়। কারণ, দুইটা মাত্র এয়ার লাইন্স পরিবহন সেবা দিতে গিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না। ফলত হাজীদের একদিকে যেমন বিমানভাড়া তিনগুণ বেশি গুণতে হয়, অপরদিকে হজের কার্যক্রম শেষে সেখানে বাধ্য হয়ে অবস্থানের কারণে গুণতে হয় অতিরিক্ত হোটেল-ভাড়াও।

মাওলানা জিয়া বলেন, হজযাত্রী পরিবহনে যদি সকল এয়ার লাইন্সকে সুযোগ দেওয়া হতো, তবে অতিরিক্ত এই খরচগুলো লাগত না হজযাত্রীদের।

বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হজ কল্যাণ পরিষদ বলছে, বাংলাদেশ বিমানের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। হজ ফ্লাইটের অতিরিক্ত ও অন্যায্য ভাড়া কমাতে বিমানকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করার দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকারকে।

সচেতন মহল বলছেন, হজ ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের অন্যতম। সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে মুসলমানরা হজ করতে যান। সঙ্গতকারণে এর সাথে মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রশ্ন জড়িত। তাই সরকারের উচিৎ এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বাংলাদেশ বিমানের যাবতীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে হজযাত্রীদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে দূর করা।

আগের সংবাদতাবরেজ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করায় মুসলিম যুবকদের গ্রেপ্তার করছে ভারতীয় পুলিশ
পরবর্তি সংবাদডিল অফ দ্য সেঞ্চুরি : কী ঘটতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের ভাগ্যে?