মাদরাসায় অনিরাপত্তা : সহসাই কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আসছে না

রাগিব রব্বানি 

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে একটি প্রাইভেট মাদরাসার প্রধান এবং নেত্রকোণায় একটি মহিলা মাদরাসার শিক্ষককে একাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাদরাসার আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে সর্বমহলে। বিশেষ একটি মহল পুরো মাদরাসা-শিক্ষাব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলে কথা বলছে এই সুযোগে। ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের অনেকের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মাদরাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা।

নারায়ণগঞ্জ ও নেত্রকোণার এই দুই ঘটনার আগেও মাদরাসাঘরানার এমনতর আরও বেশ কিছু যৌন হয়রানির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তুলনার বিচারে মাদরাসা ঘরানায় এ ধরনের ঘটনা অল্প হলেও মাদরাসা মহলের প্রতি আলাদা আস্থা ও বিশ্বাস থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটু ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নিজেদের ছেলে-মেয়েদের জন্য মাদরাসাশিক্ষাকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করলেও, এখন তাদের সেই ধারণায় চির ধরেছে।

মাদরাসায় ছাত্রছাত্রীদেরকে যৌনহয়রানির এসব অভিযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কী ভাবছে সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া, জানতে কথা বলেছিলাম বোর্ডটির অন্যতম সদস্য মুফতি নুরুল আমিনের সঙ্গে।

মুফতি নুরুল আমিন বলেন, ‘অপ্রীতিকর এসব ঘটনা সংখ্যায় স্বল্প হলেও খুবই দুঃখজনক, মেনে নেওয়ার মতো না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় আইনে এদের কঠোর শাস্তি হোক, আমরা চাই। তবে পরবর্তী মিটিং না বসা পর্যন্ত হাইয়াতুল উলইয়া এ বিষয়ে কী ভাবছে, কী পদক্ষেপ নেবে, বলা যাচ্ছে না।

মুফতি নুরুল আমিন বলেন, হাইয়াতুল উলইয়া নতুন বোর্ড, পরীক্ষা ও মাদরাসার সিলেবাস প্রণয়নের ঝামেলা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছে এখনও, তাই এর বাইরের ইস্যুগুলো নিয়ে এখনই কতটা ভাবতে পারবে, বলা মুশকিল।

তবে বোর্ডটির অপর সদস্য মুফতি মাহফুজুল হক ফাতেহ টোয়েন্টিফোরকে জানিয়েছেন, হাইয়াতুল উলইয়ার শীর্ষ মুরব্বিরা ব্যাপারটি নিয়ে যার যার অবস্থান থেকে বেশ গুরুত্বসহকারেই ভাবছেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকার মাদরাসাগুলোতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে আর, সে ব্যাপারে ফিকির করছেন।

মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, কিন্তু ব্যাপকভাবে মাদরাসাগুলোকে একটা সিস্টেমের মধ্যে এনে সমস্যাগুলো দূর করা অনেক কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদী কাজ। আমাদের মুরব্বিরা অবশ্যই চাইছেন, মাদরাসাগুলোতে যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে। তবে এজন্য আমাদের ঘরানার সবাইকে সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে এবং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে মুরব্বিদের সামনে পেশ করতে হবে।

মুফতি মাহফুজ আরও বলেন, হাইয়াতুল উলইয়ার পরবর্তী মিটিংয়ে এসব বিষয়ে অবশ্যই আলাপ উঠবে এবং মুরব্বিরা সমন্বিতভাবে ফিকির করবেন, সমস্যা নিরসন কীভাবে করা যায়। তবে সমস্যাগুলো খুবই ব্যাপক এবং সমাজের গভীরে প্রোথিত থাকার কারণে তা নিরসনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

আগের সংবাদমানববন্ধনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
পরবর্তি সংবাদসেলফি তুলতে গিয়ে দেড় বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ১২০৩ জন সেলফিপ্রেমী