প্রিয়া সাহার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতা

ফাতেহ ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ‘ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ হয়েছে – এমন কথা বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রিয়া সাহা৷ ডিসঅ্যাপিয়ার্ড অর্থ বিচার বহির্ভূত গুম।

প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ‘নাই’ (ডিসঅ্যাপিয়ার্ড) হয়ে গেছে৷ এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে৷ আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি৷ তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে৷ আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে৷ কিন্তু কোনও বিচার হয়নি৷’

প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বাংলাদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে৷ সরকারের মন্ত্রীরাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ অভিহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন৷ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও৷

তবে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা দিয়ে শুদ্ধ করতে চাচ্ছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতা কাজল দেবনাথ। তিনি তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘প্রিয়া বলেছেন ৩৭ মিলিয়ন ডিসঅ্যাপিয়ার্ড৷ ডিসঅ্যাপিয়ার্ড শব্দটির এখন সারা বিশ্বে বাংলা অর্থ বিচার বহির্ভূত গুম৷ এটা হবে মিসিং পপুলেশন৷’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে যদি আমরা হিসাব করি তাহলে এই ভূখণ্ড থেকে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ হারিয়ে গেছে৷ এটা কিন্তু অংকের কাছাকাছি৷ কারণ ওই সময়ে হিন্দু ছিলো মোট জনসংখ্যার ২৯ ভাগ৷ ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারিতে তা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৭ ভাগ৷ তাহলে ২০ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী মিসিং৷ আবার সে বলেছে এখন ১৮ মিলিয়ন হিন্দু আছে৷ এটাও কাছাকাছি৷ আমরা বলি ১ কোটি ৫০ লাখ, সে বলেছে ১ কোটি ৮০ লাখ৷ ১৯৪৭ সাল থেকে না বলায় বিভ্রান্তি হয়েছে৷’

বাড়ি পোড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সে বলেছে আমরা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে৷ এটা ফ্যাক্ট৷ আড়াই মাস আগে তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে৷ জমিজমা কেড়ে নিয়েছে৷ সে এটা নিয়ে হইচই করেছে৷ অনেকের কাছে গিয়েছে৷’

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই অনুষ্ঠানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে তিনজনের নাম চেয়েছিল৷ আমার হিন্দু , বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান এই তিন সম্প্রদায় থেকে তিন জনের নাম দিই৷ তারা হলেন: নির্মল রোজরিও, নির্মল চ্যাটার্জি এবং সুজিত বড়ুয়৷ এখন প্রিয়া সাহা কি করে গেলেন সেটা আমরা জানিনা৷ সে আমাদের সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক, তবে আমাদের নমিনেটেড না৷’

কাজল দেবনাথ বলেন, ‘এরপর কথা হলো ১৩৪টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন৷ ৪০ জন ফরেন মিনিস্টার ছিলেন৷ আমাদের ফরেন মিনিস্টারও ছিলেন৷ তিনি আমাদের দলনেতা৷ তাঁদের সাথে না থেকে প্রায়া সাহা কিভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ২৭ জনের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন সেখানে ঢুকলেন এটা বড় প্রশ্ন৷’

তবে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে তাকে ‘বাড়াবাড়ি’ মনে করছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান৷ তিনি বলেন, ‘তিনি হয়তো ডিসপ্লেসড বলতে গিয়ে ডিসঅ্যাপিয়ার্ড বলেছেন৷ এধরনের ভুল আমাদেরও হতে পারে৷ তাই এটা নিয়ে এখন যা হচ্ছে আমার কাছে অনেক বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে৷’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রিঅ্যাকশনগুলো হঠকারিতার শামিল হয়ে যাচ্ছে৷ এত বেশি রিঅ্যাকশন দেখানোর কিছু নেই৷’

আগের সংবাদউখিয়া ও বান্দরবানের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছে আইসিসির প্রতিনিধি দল
পরবর্তি সংবাদইসকন ও প্রিয়া সাহা ইস্যু এড়িয়ে যাচ্ছে জাতীয় সংবাদমাধ্যম