
ফাতেহ ডেস্ক
জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো, গরুর মাংস খাওয়া কিংবা গরু বিক্রি করার কারণে পিটিয়ে হত্যা এখন ভারতের হিন্দুদের মহামারী রোগ। এই রোগের মর্মান্তিক শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা। সর্বশেষ গত শুক্রবার বানিয়াপুরে গরুচোর সন্দেহে উপজাতি সম্প্রদায়ের দু’জন এবং এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে মেরেছে তারা।
সেই নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান। তিনি বলেন, মওলানা আজাদ, জওহরলাল নেহরু, সর্দার প্যাটেল, বাপুকে জিজ্ঞাসা করুন। ওরা মুসলিমদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭-এ দেশ ভাগ হয়ে গেলেও, আজও মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ পায়নি মুসলিমরা। আজও শাস্তি ভোগ করছি আমরা।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ’জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো যায় না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক যে পিটিয়ে মারার ঘটনা সামনে আসছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই সাজানো। ভুয়া অভিযোগ।’
কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা। তিনি বলেন, নকভিজিকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যা হচ্ছে, তার খবর কি আদৌ রাখেন উনি? আসলে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিজেপির মাথাব্যথাই নেই। শাসকদলের প্রত্যেকে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত কয়েক বছরে গণপিটুনি এবং পিটিয়ে মারার মতো ঘটনা যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টেও।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধু ২০১৬-২০১৯ সালের গোড়া পর্যন্ত দু’হাজার আটটি সংখ্যালঘু ও দলিত হেনস্থার অভিযোগ জমা পড়েছে তাদের কাছে। যার মধ্যে ৮৬৯টি ঘটনাই ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশের বেশিরভাগ সময়ই দলিত এবং সংখ্যালঘুরাই আক্রান্ত হয়েছেন।
এই ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের কী সাজা হওয়া উচিত, তা নিয়ে সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে একটি রিপোর্ট জমা দেয় উত্তরপ্রদেশের আইন কমিশন। তাতে অপরাধীদের সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাবাসের সুপারিশ করা হয়।
নিজ নিজ এলাকায় এই ধরনের ঘটনা রুখতে ব্যর্থ হলে, দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার এবং আমলাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণ করার পক্ষে সওয়াল করে ওই কমিশন। তবে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
