‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও কাউকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করা যাবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সন্দেহভাজনদেরও এবার থেকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে গণ্য করা হবে, ভারতের সংসদে এমন একটি বিল পাস হয়েছে। বিরোধী দলগুলি বিলটি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানানো সত্ত্বেও সরকার সংখ্যাধিক্যের জোরে সেটি পাস করিয়ে নিয়েছে।

বুধবার সংসদে পাস হওয়া ‘বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) সংশোধনী বিল’ অনুযায়ী আগামী দিনে সন্দেহভাজন কাউকে সন্ত্রাসবাদী গণ্য করে গ্রেপ্তার করতে পারবে সরকার এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না-থাকলেও কাউকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা যাবে। এ ছাড়া বিলে বলা হয়েছে, আগামী দিনে যে কোনও রাজ্যের বাসিন্দার বাড়িতে তল্লাশি ও তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার থাকবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র কাছে। এর জন্য আগের মতো সংশিষ্ট রাজ্যের পুলিশের অনুমতি লাগবে না। সংশোধনীর এই সব ধারা নিয়েই আপত্তি তুলেছিলেন বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, এই বিলের ফলে দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে আরও এক ধাপ ঠেলে দেওয়া হল।

এদিন সংসদে বিলটির বিরোধীতা করে তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র বলেছেন, এবার থেকে সরকার বিরোধিতা করলেই সন্ত্রাসবাদী বলা হবে। জাতীয় সুরক্ষা থেকে অন্য অনেক বিষয় নিয়ে কারও মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তা হলেই দেশদ্রোহী বলে চিহ্নিত করা হবে? হয় সরকারের সঙ্গে সুর মেলাও, না-হলেই দেশদ্রোহী, এই তত্ত্বে মানুষ বিশ্বাস করে না।

বিরোধীদের অভিযোগ, এটা আসলে বিরোধী স্বরকে স্তব্ধ করার কৌশল। মূলত ‘শহুরে নকশালপন্থীদের’ কথা ভেবেই আইনটি আনা হয়েছে । বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, যারা শহরে বসে তত্ত্বকথা আউড়ে মাওবাদীদের সাহায্য করেন, তাদের বরদাস্ত করা হবে না।

এদিন লোকসভায় ২৮৭ সাংসদের সমর্থনে বিলটি পাস হয়েছে। অধিকাংশ বিরোধী সাংসদ ওয়াক আউট করলেও, লোকসভায় উপস্থিত আট বিরোধী সাংসদ বিলের বিরোধিতা করেছেন।

আগের সংবাদগরুর নাম করে খুনখারাপি অবিলম্বে বন্ধ হোক : নুসরাত জাহান
পরবর্তি সংবাদগুজব প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ নির্দেশনা