
ফাতেহ ডেস্ক
ভারত অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরিদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামীকাল ৬ আগষ্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে দলের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই-এর সভাপতিত্বে জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ওলামা-মাশায়েখ, দীনদার ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন।
আরও পড়ুন : কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের প্রতিবাদে খেলাফত যুব মজলিস ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মিছিল
প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধানের ৩৫-ক ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাশ্মীরকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা বাতিল করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করেন। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হল। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।
আরও পড়ুন : কাশ্মীর ইস্যুতে দারুল উলুম দেওবন্দের অবস্থান
ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়—এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল। ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের রাজ্য পায়নি। অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান এবং একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দিয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।
সংসদে ক্ষমতাসীন জোট সোমবার ধারা দুটি বাতিলের যে বিল উত্থাপন করে তা পাস হওয়ায় কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দশা এখন ফিলিস্তিন কিংবা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের মতো হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
