আগামীতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের স্বল্পতা : জ্যাক মা ও ইলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মানুষের স্বল্পতা আগামী দুই দশকে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা ও টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা হ্রাসের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হবে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সাংহাইয়ে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) সম্মেলনে তারা দুই জন এ মন্তব্য করেন।

সম্মেলনে আধ ঘণ্টাব্যাপী কথাবার্তা চলাকালে এ দুই জন অল্প যে কয়েকটি বিষয়ে একমত হন তার মধ্যে একটি হল আরো শিশু গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।

মা বলেন, এখন চীনে প্রতি বছর এক কোটি ৮০ লাখ শিশু জন্ম গ্রহণ করে। কিন্তু এ সংখ্যা যথেষ্ট নয়। আমাদের এর চেয়ে আরো বেশি শিশু প্রয়োজন। আমি মনে করি মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বা পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সম্পদ কয়লা, তেল, বিদ্যুৎ নয়। সেরা সম্পদ হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্ক। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চীনে দেড় কোটি শিশু জন্ম নেয় যা পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মাস্ক বলেন, আগামী দিনে জনসংখ্যা হ্রাস অথবা যাকে তিনি মানব সমাজের ভেঙে পড়া বলে আখ্যায়িত করেন তা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এটা ৭৭০ কোটি জনসংখ্যার বিশ্বের জন্য সমস্যা হবে।

মাস্ক জ্যাক মা’র উদ্দেশে বলেন, জন্মহারের ব্যাপারে আমি উদ্বিগ্ন যা আপনি আগে উল্লেখ করেছেন। অধিকাংশ লোক মনে করে যে বিশ্বে আমাদের মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমি মনে করি, আগামী ২০ বছরের মধ্যে বিশ্ব সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সম্মুখীন হবে তা হচ্ছে জনসংখ্যার স্বল্পতা। জনসংখ্যা ভেঙে পড়ার উপর আমি জোর দিতে চাই। আগামী ২০ বছরে জনসংখ্যা স্বল্পতাই হবে বিশ্বের বৃহত্তম সমস্যা, জনসংখ্যা বিস্ফোরণ নয়।

মা বলেন, আমি এর সাথে সম্পূর্ণ একমত। জনসংখ্যা সমস্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হেেত চলেছে। চীনে ১৪০ কোটি জনসংখ্যা বিরাট ব্যাপার বলে মনে হয়। কিন্তু আমার মনে হয় আগামী ২০ বছরে আমরা দেখতে পাব যে জনসংখ্যা সমস্যা চীনের জন্য বড় সমস্যা বয়ে আনবে। আপনারা এটাকে ভেঙ্গে পড়া বলছেন। আমি এর সাথে একমত।

বিশ্বের বিশাল ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা মানুষের সংখ্যার ব্যাপারে বিশাল পার্থক্যের কথা গোপন করছে। বহু দেশের জনসংখ্যাই এখন কমছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার দেশ চীন ২০১৭ সাল থেকে জনসংখ্যা কমতে দেখছে। যদিও দেশটি কয়েক দশক পুরনো এক সন্তান নীতি ত্যাগ করেছে। চলতি বছরের গোড়ার দিকে বিখ্যাত থিংক-ট্যাংক সমাজ বিজ্ঞান একাডেমি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে আট বছরের মধ্যে এ বছরেই চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়া শুরু হতে পারে।

এদিকে জাপানে ২০১৮ সালে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২৩০ জনেরও বেশি মৃত্যু ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৮ সালে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯০০ শিশুর জন্ম হয়েছে যা ১৯৬০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে ইউরোপের এক বিরাট অংশে নারীরা একা থাকাকে পছন্দ করায় এবং অনেকেই বিয়ে করলেও কম সন্তান গ্রহণ করায় অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আগের সংবাদআসামে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়ল ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষ
পরবর্তি সংবাদপ্রথম আলোয় বাঙালি নারী বিদ্বেষ, সমালোচিত হচ্ছেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ