
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চিকিৎসার অভাবে ও কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোববার ইসরাইলের জেলখানায় ফিলিস্তিনি এক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাসসাম আল-সায়েশ (৪৭) নামে ওই ফিলিস্তিনিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ইসরাইলের আসসাফ হারোফেহ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তিনি মারা যান। ৪৭ বছর বয়স্ক বাসসাম আল-সায়েশ হাড়ের ও রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে যথাক্রমে ২০১১ ও ২০১৩ সনের মেডিক্যাল রিপোর্টে ধরা পড়েছিল।
তার স্ত্রী মোনা বলেছেন, গত দুই বছর ধরে তাকে কারবন্দি স্বামীকে দেখতে দেয়ার সুযোগ দেয়নি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিদেশে নিয়ে বা ফিলিস্তিনে বিশেষভাবে চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার জন্য মুক্তির আবেদন জানিয়ে ইসরাইলি আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ওই আবেদন নাকচ করে দেয় ইসরাইলি আদালত।
বাসসাম আল-সায়েশের মৃত্যুর জন্য ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইসরাইলের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এটা আসলে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যা ইহুদিবাদী দেশটি ফিলিস্তিনকে জবর-দখল করার পর থেকে করে আসছে।
২০১৫ সালে ওই বন্দির স্ত্রীকে ইসরাইলের এক সেনা কর্মকর্তা হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয় ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর থেকে। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসে বাসসাম আল-সায়েশও গ্রেফতার হন ওই একই অভিযোগে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২২১ জন ফিলিস্তিনি বিনা চিকিৎসায় ইসরাইলের জেলখানায় মারা গেছেন। ইসরাইলের কারাগারে বর্তমানে সাড়ে পাঁচ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি আছেন; যাদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জনই রোগী। এরমধ্যে ৭০০ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হলেও ইসরাইল সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের চিকিৎসা সেবা না দিয়ে নিশ্চিৎ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
