
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের ঝাড়খণ্ডের তাবরেজ আনসারির কথা নিশ্চয় মনে আছে আপনার। গত জুনে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় ওই যুবককে টানা ১৮ ঘন্টা ধরে নির্যাতন করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তাকে জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন পরে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার অনেক পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে চুরির অভিযোগে তাবরেজকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত থেকে পরে জেলহাজতে। পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবরেজকে। সেখানেই তিনি মারা যান। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, হাজতে মৃত্যুর পরেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে।
আজ মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই গণপিটুনির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তাবরেজ আনসারির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে গণপিটুনিতে নয়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ঝাড়খণ্ডের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কার্তিক এস এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্টে হত্যার পক্ষে কোনো সমর্থনযোগ্য প্রমাণ মেলেনি যার ভিত্তিতে আমরা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করাতে পারি। তিনি এ-ও জানান যে, দুটি পৃথক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একই তথ্যই পাওয়া গেছে, তা হলো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন তাবরেজ আনসারি।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমবার যখন এই মেডিকেল রিপোর্ট পাই তখন আমরা উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার মতামত চেয়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়বারও বিশেষজ্ঞরা একই মতামত দিয়েছেন যে, তিনি গ্রেফতারের কারণে হওয়া মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
তাবরেজ আনসারির মৃত্যুর পর তদন্তে নেমে সারাইকেলা-খারওয়ানের জেলা প্রশাসক অঞ্জনেউলু দোডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল প্রাথমিকভাবে পুলিশ এবং তদন্তকারী চিকিৎসক উভয়পক্ষকেই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছিলেন। জুলাই মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ দেরিতে পৌঁছানোয় চিকিৎসকরাও মাথার খুলির আঘাতের সঠিক পরিমাণ শনাক্ত করতে পারেননি।
