
রাগিব রব্বানি
কলকাতায় ইসলাম বিষয়ক বইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় মানসম্মত ইসলামি বই একরকম দুষ্প্রাপ্যই বলা চলে সেখানে। বাংলাদেশের ইসলামি ঘরানার প্রকাশনীগুলো বই রপ্তানিতে আগ্রহী থাকলেও রপ্তানি খরচ ও আনুষঙ্গিক নানা কারণে এ উদ্যোগ নিতে পারছেন না প্রকাশনী-মালিকেরা।
কলকাতা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম জানান, কলকাতায় ইসলামি কন্টেন্টের ওপর মানসম্মত বাংলা বই পাওয়া যায় না। আরিফ বলেন, ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রচুর ইসলামি বই চোখে পড়ে, কিন্তু কলকাতায় এসব বই পাওয়া যায় না বলে পড়ার সুযোগ পাই না আমরা। যা-ও কিছু পাওয়া যায়, সেগুলো বিষয়বস্তু ও মানের বিচারে পানযোগ্য নয়।
আরিফ জানান, তাঁর বন্ধুমহলের অনেকেরও এ ধরনের বইয়ের ওপর তুমুল আগ্রহ, কিন্তু দুষ্প্রাপ্য হবার কারণে তাঁদের সে আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলায় বাংলাদেশ থেকে কিছু ইসলামী প্রকাশনী আসে প্রতিবছর। সেখানে ইসলামি কন্টেন্টসের ওপর বাংলায় বেশ কিছু বই পাওয়া যায় মানসম্মত। আমরা সেগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করি প্রতি বছরই। মেলা ছাড়া এ ধরনের বই অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
ইসলামি ঘরানার ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনী মদীনা পাবলিকেশন্সের কর্ণধার মোর্তজা বশিরুদ্দীনের সঙ্গে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর ডট কমের কথা হয় এ ব্যাপারে। মোর্তজা বশিরুদ্দীন গত একুশ বছর ধরে প্রতি বছর তাঁর প্রকাশনীর জন্য স্টল বরাদ্দ নেন কলকাতা পুস্তকমেলায়।
কলকাতার মুসলমানদের মধ্যে বাংলা ইসলামি বইয়ের ব্যাপক চাহিদার কথা তিনিও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণ ব্যয়বহুল ও খরুচে ব্যাপার হবার পরও দীর্ঘদিন ধরে আমরা কলকাতা পুস্তকমেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি মুসলিম পাঠকদের এই চাহিদার ভিত্তিতেই। মেলার ব্যয় সংকুলানের পর বেনিফিট বলতে আমাদের আর কিছু থাকে না। তারপরও সেখানকার মুসলমান পাঠকদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা সেখানে স্টল বরাদ্দ নিই।
মদীনা পাবলিকেশন্স ছাড়া কলকাতা বইমেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলও থাকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সাহাদাৎ উল্লাহ জানান, মেলায় ব্যাপকহারে তাদের বই বিক্রি হয়।
পাঠকের এ চাহিদা নিবারণে ইসলামি প্রকাশনীগুলো কলকাতায় বই রপ্তানি বিষয়ে কতটা ভাবছে জানতে চেয়ে কথা বলেছিলাম ইসলামি ঘরানার আরও কয়েকটি প্রকাশনীর সাথে। মাকতাবাতুল ইসলামের পরিচালক তকি হাসান জানান, বই রপ্তানি বিষয়ে আপাতত তাঁর প্রতিষ্ঠান কোনো কিছু ভাবছে না। তিনি বলেন, দেশের পাঠকদের চাহিদা মেটাতেই এখনও হিমশিম খাচ্ছি আমরা, তাই রপ্তানি বিষয়ে কিছু ভাবার সুযোগ হচ্ছে না।
ইসলামি ঘরানার অন্য আরেকটি প্রকাশনী নবপ্রকাশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুল্লাহ খানও এমনটা জানিয়েছেন। ইসলামি প্রকাশনীগুলো আপাতত দেশের বাজার নিয়েই ব্যস্ত। রপ্তানি বিষয়ে আলাদা করে চিন্তা-ভাবনার সুযোগ হচ্ছে না তাদের। তবে কলকাতার পুস্তকমেলায় প্রতি বছর মদীনা পাবলিকেশন্স মানসম্মত প্রায় সবকয়টি ইসলামি প্রকাশনীর বই-ই নিয়ে যায় তাদের স্টলে।
এদিকে রপ্তানি বিষয়ে মদীনা পাবলিকেশন্সের কর্ণধার মোর্তজা বশিরুদ্দীন বলছেন, বৈধভাবে রপ্তানিতে প্রচুর খরচা। তাই, ইচ্ছে থাকলেও বই রপ্তানি আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
তিনি বলেন, চোরাচালানির মাধ্যমে কলকাতায় বই পাঠানো সম্ভব, একধরনের ব্যবসায়ী সেটা করছেও, প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ট্রাক বই তারা সেখানে পাঠাচ্ছে, কিন্তু মানসম্মত প্রকাশনী ও সৎ ব্যবসায়ীরা এ পথে অগ্রসর হন না। আমরাও বই রপ্তানি নিয়ে এখন আর কিছু ভাবছি না।
