
ফাতেহ ডেস্ক :
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কারও সঙ্গে লড়াই নয় বরং এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ওয়াশিংটন পোস্টের সাপ্তাহিক সাময়িকী টুডে’স ওয়ার্ল্ডভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কারও সঙ্গে লড়াইয়ে জড়াতে চাই না। আমি এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ একটি সমাধান চাই। কারণ, তারা (মিয়ানমার) আমার নিকটতম প্রতিবেশী। কিন্তু যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় কাজ হবে, তাহলে তো খুবই চমৎকার। তবে, আমি এই পরামর্শ দিতে পারি না।’
টুডে’স ওয়ার্ল্ডভিউয়ের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক সাংবাদিক ঈশান থারুর লিখিত ‘রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে পারে না : বলেন প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
শেখ হাসিনা ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এই ইস্যুটি নিয়ে মিয়ানমারের কার্যত বেসামরিক নেতা নোবেল বিজয়ী অং সান সুকির সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেন। তিনি আমাকে বলেছেন যে, সেনাবাহিনী তার কথা খুব একটা শোনে না। এরপর থেকে সুকি দেশটির সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন এবং এমনকি তিনি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটিকে বুঝাতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও উচ্চারণ করেন না। এখন আমি দেখতে পাচ্ছি যে তিনি (সুকি) তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।’
সম্ভাব্য অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা যা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর আরোপ করেছে এসবসহ মিয়ানমারকে চাপে ফেলতে আর কী করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার প্রত্যাশা- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার প্রতিবেশীর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের সমস্যা হচ্ছে তারা অন্য কারও কথা শোনে না। নিবন্ধে বলা হয়, শেখ হাসিনা এনজিও ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তার সরকার শরণার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধের বরাত দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, ইউএন কমিশনের একটি প্রতিবেদন সতর্ক করে দিয়েছে, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে যে ধরনের সহিংতার কারণে রোহিঙ্গারা দেশত্যাগে বাধ্য হয় এখনও সেখানে একই অবস্থা বিরাজ করছে। মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি এ মাসের গোড়ার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সহিংসতা দমনে মিয়ানমার কিছুই করেনি। রাখাইনে এখনো যেসব রোহিঙ্গা আছেন, তারা ২০১৭ সালের আগস্টে সহিংসতার সময়কার মতোই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।’
রোহিঙ্গাদের পক্ষে মানবাধিকার আইনজীবীদের বরাত দিয়ে নিবন্ধে বলা হয়, শরণার্থীরা মিয়ানমারে তাদের জন্য বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত রাজ্যটিতে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সেখানে তারা সামরিক বাহিনী ও সরকারপন্থীদের দ্বারা সহিংস হামলার আশঙ্কা করছেন, যারা তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের প্রিয়জনকে হত্যা ও ধর্ষণ করেছিল।
নিবন্ধে প্রতিবেদক কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যেমন- যে দেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত হবে না এবং সহিংসতার হুমকি থেকে যাবে সেখানে তাদের প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ করা সম্ভব কি-না? অথবা ক্যাম্পের অবরুদ্ধ অবস্থায় তারা থেকে যাবে।
