
রাকিবুল হাসান :
ডানপন্থী আন্দোলনের প্রভাব বৃদ্ধির ফলেই পুরো ইউরোপজুড়ে ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে—আঙ্কারা ভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ফাউন্ডেশন ফর পলিটিক্যাল, ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল রিসার্চ (এসইটিএ) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইউরোপীয় ইসলামোফোবিয়া : রিপোর্ট ২০১৮’ ইউরোপে মুসলিম-বিরোধী বর্ণবাদের উত্থানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করে, এমনকিছু কারণের ওপর আলোকপাত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মানবাধিকার, বহুসংস্কৃতিবাদ এবং ইউরোপের রাষ্ট্রীয় আইনের ক্ষেত্রে সবসময় মুসলিম-বিরোধী আলোচনা করার কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে ইসলামফোবিয়া এবং মুসলিম-বিরোধী বর্ণবাদ। মুসলিম-বিরোধী এই বর্ণবাদের প্রজনন ও প্রতিপালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইউরোপের গণমাধ্যম। ইউরোপের এমন খুব কম গণমাধ্যম আছে, যারা মুসলিমদের ইতিবাচক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে। বরং নেতিবাচকভাবেই মুসলিমদের তুলে ধরে সবসময়। আর ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রমাগত মুসলিম-বিদ্বেষ তো আছেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুসলমানদের চিত্রিত করার ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের ইসলামফোবিক ভাষা এবং ডানপন্থীদের বর্ণবাদী ভাষা—ইসলামফোবিয়াকে আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং বিশ্বকে সন্ত্রস্ত করছে। এখন ইসলামোফোবিয়া কেবল মুসলমানদের নয়, ইউরোপের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও নির্বাচনী উদ্দেশ্যে তারা এই বর্ণবাদ ও ইসলামফোবিয়াকেই উসকে দেয়।
২০১৮ সালে ইউরোপজুড়ে ইসলামফোবিক ঘটনা
বেলজিয়ামে প্রায় ৭০টি ইসলামফোবিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭৬ শতাংশ ভিকটিম নারী। অস্ট্রিয়ায় ৫৪০টি ইসলামফোবিক ঘটনা ঘটেছে। অথচ ২০১৭ সালে ছিল ৩০৯টি। ফ্রান্সে ৬৭৬টি ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে ছিলো ৪৪৬টি। ৬৭৬ জনের মধ্যে ২০ জন শারীরিক আক্রমণের শিকার । ৫৬৪ জন বৈষম্যের শিকার। ৮৮ জন মৌখিক লাঞ্চনার শিকার।
জার্মানে ৬৭৮টি ইসলামফোবিক ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৪০টি ঘটেছে মসজিদে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে ১৭৭৫টি। এদের মধ্যে ১৭৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে। ৯৫টি জার্মানিতে কাজ করতে আসা কর্মীদের ওপর।
নেদারল্যান্ডে পুলিশের কাছে দায়ের করা ১৫১৫টি ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযানগুলোর মধ্যে ৯১ শতাংশই মুসলমানদের বিরুদ্ধে।
এসইটিএ কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কেন এবং কীভাবে বাড়ছে ইসলামফোবিয়া। এসইটিএ হলো জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণামূলক একটি প্রতিষ্ঠান।
দ্য মুসলিম নিউজ থেকে অনূদিত
