কোথায় আছেন মাওলানা আতীক উল্লাহ?

রাগিব রব্বানি :

ইসলাম বিষয়ক লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষক মাওলানা আতীক উল্লাহ নিখোঁজ হবার ১৫ দিন অতিক্রান্ত হচ্ছে। এই ১৫ দিনে এখনও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে রাজধানীর শ্যামলী থেকে বাড্ডায় যাবার পথে নিখোঁজ হন তরুণ এ আলেম। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে মাওলানা আতীক নিখোঁজ হবার পরদিনই রাজধানীর আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বড়ভাই স্কুলশিক্ষক নেয়ামত উল্লাহ রিপন। আদাবর থানার ওসি কাউসার আহমেদ সাধারণ ডায়েরি করার কথা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, আতীক উল্লাহর সন্ধানে ডিবি ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট কাজ করছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান আমরা পাইনি।

মাওলানা আতীকের বড়ভাই নেয়ামত উল্লাহ জানান, নিখোঁজ হবার পর থেকে মওলানা আতীক উল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাঁর ফেসবুক আইডি মাঝেমধ্যে অ্যাকটিভ দেখা যায়।

তিনি বলেন, গত ৬ অক্টোবর আতীক উল্লাহর ফেসবুক আইডি অ্যাকটিভ দেখে আমি এবং আমার ছোটভাই প্রকৌশলী এমদাদ উল্লাহ ইনবক্সে নক করেছিলাম। ম্যাসেঞ্জারে কলও দিয়েছি। কিন্তু সে কোথায় জানতে চেয়ে ম্যাসেজ পাঠানোর পর আমাকে এবং আমার ছোটভাইকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকগুলো ইউনিট এসব বিষয়ে কাজ করে, তাই আদাবর থানা পুলিশ অস্বীকার করলেও অন্য কোনো ইউনিটের হাতে মাওলানা আতীক আটক থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সবগুলো ইউনিটের বক্তব্য আসার আগ পর্যন্ত তিনি যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক নন, এ কথা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া, কৌশলগত কারণে অনেক সময় নিরাপত্তা বাহিনী আটককৃত ব্যক্তি সম্পর্কে যেকোনো ধরনের তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকে।

মাওলানা আতীক উল্লাহ রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত মাদরাসাতুল কুরআনিল কারিমের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হবার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও মেধাবী একজন তরুণ আলেম। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নিখোঁজ হবার ঘটনায় নেতৃস্থানীয় আলেমদের পক্ষ থেকে তাঁকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় ঘরানার তরুণ শ্রেণির মধ্যে একধরনের ক্ষোভ ও প্রশ্ন কাজ করছে।

নেতৃস্থানীয় ও অ্যাক্টিভিস্ট আলেমরা কেন এ ব্যাপারে তৎপর নন, এর ব্যাখ্যায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতৃস্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদ ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে জানিয়েছেন, এ ধরনের আটকের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো তদবির করে তেমন ফায়দা হয় না বিধায় নেতৃস্থানীয় আলেমরা মাওলানা আতীকের সন্ধানের ক্ষেত্রে আগ্রহ পাচ্ছেন না।

কেউ কেউ বলছেন, মাওলানা আতীক যেহেতু ‘ভিন্ন’ চিন্তা লালন করতেন, তাই তাঁর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন।

তবে সচেতন মহল বলছেন, মাওলানা আতীক দেশের একজন বৈধ নাগরিক। পাশাপাশি মেধাবী আলেম লেখক ও শিক্ষক। তাঁর ব্যাপারে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার করা বাঞ্ছনীয়। নিরাপত্তা বাহিনী যদি এভাবে তাঁকে আটক করে থাকে, তাহলে সেটা দেশের আইনে একটা ভুল প্রক্রিয়ার চর্চা। এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য আতংকের কারণ।

মাওলানা আতীক উল্লাহ রাজধানীর আদাবরে মাদরাসাতুল কুরআনিল কারীম প্রতিষ্ঠার আগে বেশ কিছুদিন মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ (আদীব হুজুর) পরিচালিত রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে মাদরাসাতুল মদীনায় শিক্ষকতা করেছেন। তার আগে চট্টগ্রামের জামিয়া পটিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস পাশ করার পর আরবি সাহিত্য বিষয়ে বেশ কিছুদিন গবেষণা করেছেন। একজন ভালো আলেম ও শিক্ষক হবার পাশাপাশি কুরআন গবেষণায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। বাংলাভাষায় লেখালেখিতেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাঁর লিখিত ২১টির মতো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের পানছড়ি উপজেলা সদরে।

আগের সংবাদউলামায়ে কেরামের সম্মেলনে ‘চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্য গঠন শীর্ষক সংলাপ’ অনুষ্ঠিত
পরবর্তি সংবাদতুরস্কের জনপ্রিয় কবি নুরি বাকডিলের ইন্তেকাল, এরদোগানের শোকপ্রকাশ