নেতানিয়াহুর পতন হলে ফিলিস্তিনিদের লাভ কিংবা ক্ষতি হবে? 

নেতানিয়াহুর পতন হলে ফিলিস্তিনিদের লাভ কিংবা ক্ষতি হবে? 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ইসরায়েলের ক্ষমতায় পরিবর্তন এলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে প্রশ্ন এসে যায়।

চলতি বছরের এপ্রিলে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট সরকার গঠন করতে পারেনি। তাই গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবারও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এই নির্বাচনেও কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ইতিমধ্যে দেশটির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গানৎজ সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছেন। গানৎজ এতে সফল হলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী কট্টর ইহুদিবাদী নেতানিয়াহুর পতন হবে।

কিন্তু গানৎজ যদি নেতানিয়াহুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতে পারেন, তাতে ফিলিস্তিনিদের কি কোনো লাভ বা ক্ষতি হবে? ফিলিস্তিন নিয়ে তাঁদের অবস্থান কী?

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নেতানিয়াহু কোনোভাবেই সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে নন। তিনি বলেছেন, অন্যান্য দেশের মতো সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কখনোই তিনি মেনে নেবেন না। আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নেতানিয়াহু অঙ্গীকার করেছেন, পশ্চিম তীর ও জর্ডান উপত্যকায় ইহুদি বসতি সম্প্রসারিত করবেন।

এদিকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি গানৎজ। কিন্তু পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর অমিল নেই। গানৎজ বলেছেন, পশ্চিম তীর থেকে ইহুদি বসতি প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেবেন না তিনি। জেরুজালেমকেও ভাগ করতে দেবেন না।

গাৎনজের সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এর সমর্থন। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানা যায়, জয়েন্ট লিস্ট সরকার গঠনের জন্য গাৎনজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন পেল ইহুদি কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী। এই সমর্থনের ব্যাপারে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে মতামত কলামে জয়েন্ট লিস্টের নেতা আয়মান ওদেহ বলেন, ‘নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব ঠেকাতে এই পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর রাজনীতিরও ইতি ঘটবে।’

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন ফিলিস্তিনিরা দেখেন, তাতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার পরিকল্পনা তাদের। টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েল অধিকৃত এলাকায় গড়ে তোলা ইহুদি বসতিও সরিয়ে ফেলা ও ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ‘রাজবন্দী’ ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করারও করার কথা বলেছে জয়েন্ট লিস্ট।

সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু বা গানৎজ, ফিলিস্তিনিদের কাছে দুজনেই তো প্রায় একই। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে সংগঠন হামাস এমনটাই মনে করে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর চেয়ারম্যান আবু মারজুক আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাদের চোখে নেতানিয়াহু বা গানৎজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইসরায়েলে নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইহুদিবাদী ও কট্টর জাতীয়তাবাদীদের উত্থান ঘটছে। এরা ইসরায়েলের দখলদারি বজায় রাখার পক্ষে। আবু মারজুক আরও বলেন, ২০১৪ সালে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে ইসরায়েল ২০০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নেতানিয়াহু আর সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন এই গানৎজ।

হামাস নেতার বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়ার আশঙ্কাই প্রকাশ পায়। তবে জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন নিয়ে গানৎজ সরকার গঠন করলে সেই সরকারে আরব দলগুলোর প্রভাব থাকবে। এমনকি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়ে সরকার পতন ঘটানোর ক্ষমতাও থাকবে তাদের। সে ক্ষেত্রে তারা যদি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক কোনো আলোচনা শুরু করতে পারে, সেটা হবে দারুণ এক বিষয়।

আর গানৎজও যদি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে এক বছরেই তৃতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনকে।

আগের সংবাদক্যামেরায় কাবা চত্বরে নামাজের ছবি, হাতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার
পরবর্তি সংবাদদুর্নীতি বিরোধী অভিযান : ইফা ডিজি শামীম আফজালের ব্যাংক হিসাব তলব