দাবী মানতে তালবাহানা, আবার আন্দোলনে যাচ্ছে ভোলার তৌহিদি জনতা

রাগিব রব্বানি :

ভোলার বুরহানুদ্দিন উপজেলায় হিন্দু যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ও নবিজিকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে গত ২০ অক্টোবর স্থানীয় তৌহিদি জনতার সমাবেশে পুলিশ কর্তৃক নির্বিচার গুলি ও চার মুসল্লির শাহাদতের ঘটনায় ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্যপরিষদ ৬ দফা দাবি পেশ করেছিল সরকারের কাছে। দাবি আদায়ে ভোলা জেলা প্রশাসকের কাছে গত ২৮ অক্টোবর স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো দাবিই পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন বুরহানুদ্দিন বাজার মসজিদের ইমাম ও ২০ তারিখের প্রতিবাদ সমাবেশের আহ্বায়কদের অন্যতম মাওলানা মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন : ভোলা হত্যাকাণ্ড : প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন

তিনি ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, যে ৬ দফা দাবি সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে, তার কোনোটিই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ পাঁচ হাজার মুসল্লির বিরুদ্ধে বেনামি যে মামলা দায়ের করেছে, সেই মামলার আতঙ্কে এখনও ভুগছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তারা এখনও ছাড়া পাননি।

সেদিনের ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার বিষয়েও আহতদের পরিবার হিমশিম খাচ্ছে বলে জানান মাওলানা মিজান। তিনি বলেন, এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসাবাবদ এক লক্ষ টাকা অনুদান এসেছে, কিন্তু এগুলো দিয়ে কুলানো যাচ্ছে না। স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন আহতদের চিকিৎসাব্যয়ে, তারপরও ব্যয় ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে সবাইকে।

এদিকে ঘটনার দুদিন পর ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্যপরিষদ ছয় দফা দাবিতে ভোলায় সমাবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক বাধার কারণে এই সমাবেশ স্থগিত করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ধর্ম ও নবিজিকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন পাশ, হিন্দু যুবক বিপ্লব চন্দ্রের ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ও নবিজিকে নিয়ে সে বা যেই হোক, যে কটূক্তি করা হয়েছে, এর সুষ্ঠু তদন্ত করে কটূক্তিকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, বুরহানুদ্দিনের হত্যাকাণ্ডে সাড়ে পাঁচ হাজার সাধারণ মুসল্লিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বেনামি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া, পুলিশ সেদিন যে নির্মম গুলি বর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুলিশদের যথাযথ শাস্তি প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দ্রুত পর্যাপ্ত সহযোগিত ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

এই ছয় দফা দাবি এখন ঠিক কোন পর্যায়ে আছে জানতে চেয়ে কথা বলেছিলাম ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্যপরিষদের মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে জানান, গত ২৮ তারিখ আমরা ছয় দফা দাবি আদায়ে ভোলা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করি। তখন তিনি আমাদের কাছ থেকে তিনদিন সময় নেন। ৩০ তারিখ তিনি আমাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন এবং জানান দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন মহলে তিনি পৌঁছিয়েছেন। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসা ছাড়া তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। আগামীকাল ৪ নভেম্বর আবারও তাঁর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে জানা যাবে তাঁরা দাবি কতটা মানবেন, বা আদৌ মানবেন কি না।

মাওলানা মিজান বলেন, আমাদের সবগুলো দাবিই মানতে হবে। এর মধ্য থেকে প্রথম দুটো দাবি তো জাতীয় পর্যায়ের, ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, এটা বাস্তবায়নে হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু বাকি দাবিগুলো তাৎক্ষণিক মানার মতো। এগুলো যদি মানা না হয়, তাহলে কালকের মিটিংয়ের পর আমরা আন্দোলনে যাব।

আগের সংবাদকাশ্মীরে বাড়ছে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা, উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি
পরবর্তি সংবাদনুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে জামিন পাননি ওসি মোয়াজ্জেম