মনযূরুল হক :
মুহাম্মাদ স.-এর জীবনীগ্রন্থকে ‘সিরাত’ (সীরাত/সীরাহ) বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন সিরাত গ্রন্থের কথা উঠলেই সকলে একনামে ইবনে ইসহাক (মৃ. ১৫১ হি.) রচিত ‘সিরাতে ইবনে ইসহাক’কে চেনেন; যার ভিত্তিতে আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম (মৃ. ২১৮ হি.) জনপ্রিয় সিরাতগ্রন্থ ‘সিরাতে ইবনে হিশাম’ রচনা করেছেন। অথচ এর অন্তত এক যুগ আগে রচিত সুবিশাল সিরাতগ্রন্থ ‘আল-মাগাজির’ কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। একটি বর্ণনা অনুযায়ী ‘মুআম্মার ইবনে রাশেদ’র (মৃ. ১৫১ হি. মতান্তরে ১৫৩ হি.) সিরাতগ্রন্থ ‘আল-মাগাজি’ও সিরাতে ইবনে ইসহাকের পূর্বে রচিত হয়েছে। এবং সে-গ্রন্থের কপিও দুর্লভ নয়।
হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, প্রথম দিকের সিরাত রচয়িতা উরওয়া ইবনে জুবাইর রা. (মৃ. ৯২ হি.) ও আবান ইবনে ওসমান ইবনে আফফানের (মৃ. ১০৫ হি.) সিরাত-পুস্তিকা এবং ওয়াহাব ইবনে মুনাববিহ (মৃ. ১১০ হি.), ইবনে শিহাব জুহরি (মৃ. ১২০ হি.), শুরাহবিল ইবনে সাদ (মৃ. ১২৩ হি.), আবদুল্লাহ ইবনে আবু বাকর ইবনে হাজাম (মৃ. ১৩৫ হি.) প্রমুখের সিরাত-গ্রন্থিকার সবকটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিছু কিছু অংশমাত্র বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থে টিকে আছে। ভারতের খ্যাতিমান স্কলার ড. মুহাম্মাদ মুস্তফা আজমি (মৃ. ২০১৭ খ্রি.) উরওয়া ইবনে জুবাইর রা.-এর রচিত পুস্তিকাটির কেবল শেষভাগটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন—যা আবুল আসওয়াদ মিশরির বর্ণনায় পাওয়া যায়—এবং ‘মাগাজি রসূলিল্লাহ স. লি-উরওয়াহ ইবনি যুবাইর বি-রিওয়াতি আবিল আসওয়াদ’ শিরোনামে রিয়াদ (সৌদি আরব) থেকে ১৯৮১ সালে প্রকাশ করেন (১)। ওয়াহাব ইবনে মুনাববিহর গ্রন্থের একটি অংশও বর্তমানে জার্মানির হাইডেলবার্গে সংরক্ষিত আছে বলে জানা যায়।
এক
কিন্তু মুসা ইবনে উকবা (মৃ. ১৪১ হি.) রচিত ‘আল-মাগাজি’র পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে তেমনটি হয় নি—অর্থাৎ, সর্বসাকুল্যে বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। গ্রন্থটি চোখের সামনে বর্তমান, এমনকি ঝকঝকে পিডিএফ কপি পর্যন্ত অন্তর্জালে অহরহ পাওয়া যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাভাষায় এই গ্রন্থের অনুবাদ তো হয়ই নি, কোথাও জোরালো আলোচনাও ওঠে নি। উভয় লেখকের জীবনকালের তারতম্য থেকেও প্রাচীনত্বের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। ইবনে ইসহাকের জন্ম ৮৫ হিজরি এবং মৃত্যু ১৫১ হিজরি। আর মুসা ইবনে উকবার জন্ম ৬৮ হিজরি এবং মৃত্যু ১৪১ হিজরি (২)। সুতরাং অস্তিত্বের বিচারে ইবনে ইসহাক রচিত ‘সিরাত’ নয়—মুসা ইবনে উকবার ‘আল-মাগাজি’ সর্বপ্রাচীন পূর্ণাঙ্গ সিরাতগ্রন্থ।
যদিও পূর্বেকার বহু ইসলামি-গ্রন্থের মতো এই গ্রন্থটির মূলকপিও হারিয়ে গিয়েছিল। গতশতকের প্রথম দিকে জার্মান প্রাচ্যবিদ এডওয়ার্ড সাচাউ (মৃ. ১৯৩০ খ্রি.) বার্লিনে সরকারি প্রত্নতাত্বিক সংগ্রহশালা থেকে চতুর্দশ শতাব্দির শেষের দিকের হাদিসবেত্তা ইউসুফ ইবনে কাজি শাহবাহ (মৃ. ১৩৮৭ খ্রি.) সংকলিত মুসা ইবনে উকবা বর্ণিত হাদিসসমূহ ও ‘মাগাজি’র ২০টি অধ্যায় সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন এবং কিছু নির্বাচিত অংশ ইংরেজিতে প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে আধুনিক সময়ে প্রথমবারের মতো গ্রন্থটি আলোর মুখ দেখে (৩)। এরপর মরক্কোর আগাদিরে অবস্থিতি ইবনে জুহর বিশ্ববিদ্যালয়ের (৪) শিক্ষক ড. আবু মালিক মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বাকিশিশ দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে বিভিন্ন প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে আরবি মূলপাঠ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। অবশেষে আয়াসসাধ্য প্রচেষ্টার পর প্রয়োজনীয় টিকা-ভাষ্য যুক্ত করেন এবং প্রকাশযোগ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক অনুষদ থেকে ১৯৯৪ সালে মুদ্রণের ব্যবস্থা করেন (৫)।
দুই
মানের বিচারেও আল-মাগাজির অবস্থান উন্নততর। ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় অযাচিত অনেক কাহিনী অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে; পরবর্তী আলেমগণ যার কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং পাঠের বিষয়ে সতর্কও করেছেন।
প্রকারন্তরে মুসা ইবনে উকবা ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার ও নির্ভরযোগ্য হাদিসবেত্তা। ইমাম মালিক রহ. (মৃ. ৭৯৫ খ্রি.) তার ছাত্রদের বলতেন : তোমাদের দরকার মুসা ইবনে উকবা থেকে মাগাজির জ্ঞান অর্জন করা। কারণ তিনি পুণ্যবান ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং তাঁর মাগাজি সর্বাধিক নির্ভেজাল। তিনি রচনা করেছেন বয়সকালে, তবে অন্যান্য লেখকদের অযাচিত বিবরণ এড়িয়ে গেছেন। ইমাম শাফেয়ি রহ. (মৃ. ৮২০ খ্রি.) বলেছেন : ইবনে উকবার গ্রন্থের চেয়ে বিশুদ্ধ কোনও ‘মাগাজি’ নেই এবং তিনি অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মতো অতিরঞ্জন করেন নি (৬)। এমনকি ইমাম ইবনে হাম্বল রহ. (মৃ. ৮৫৫ খ্রি.) থেকে যেখানে ‘তিন ধরনের মৌলিক গ্রন্থের (মাগাজি, মালহাম ও তাফসির) কোনও শক্ত ভিত্তি নেই’ (৭) বলে উক্তি দিয়েছেন, সেখানে তিনিও মুসা ইবনে উকবার গ্রন্থ সম্পর্কে ভিন্নমত দিয়েছেন, অর্থাৎ ‘গ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (মৃ. ৮১৫ খ্রি.), ইমাম জাহাবি (মৃ. ১৩৪৮ খ্রি.) ও ইবনে হাজার (মৃ. ১৪৪৯ খ্রি.) প্রমুখের মতো পরবর্তী সময়ের খ্যাতিমান ন্যায়নিষ্ঠ স্কলারগণ মুসা ইবনে উকবাকে টেক্সচুয়াল বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য (সিকা) বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তারা নিজ নিজ গ্রন্থাবলিতে ‘আল-মাগাজি’ থেকে বহু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন (৮)। বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে তার বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়েছে (৯)।
তিন
মুসা ইবনে উকবা রহ. প্রথম জীবনে ছিলেন একজন ক্রীতদাস এবং তার একমাত্র বিখ্যাত গ্রন্থটি রচনা করেছেন শেষ বয়সে এসে। তার পুরো নাম : আবু মুহাম্মাদ মুসা ইবনে উকবা ইবনে আইয়াশ আল-কুরাশি। বনু আসাদ ইবনে খুজাইমা গোত্রের দাস ছিলেন তিনি এবং সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. (মৃ. ৭৩ হি.) বা তার পরিবারের লোকদের অধীনস্থ ছিলেন (১০)। তিনি মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মদিনাতেই শিক্ষা লাভ করেন। মুহাম্মাদ ও ইবরাহিম নামে তার আরও দুজন ভাই থাকলেও তিনি ছিলেন সবার কনিষ্ঠ—তবে ফিকহ ও হাদিসের বিদ্যায় সবার চেয়ে অগ্রসর। তার ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন সুফিয়ান সাওরি (মৃ. ১৬১ হি.), সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (মৃ. ১৭৯ হি.) ও তার ভাইয়ের ছেলে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে উকবা (মৃ. ১৯৬ হি.) প্রমুখ। তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
তিনি তার গ্রন্থের তথ্য গ্রহণে সবচে’ বেশি সাহায্য নিয়েছেন তার শিক্ষক ইবনে শিহাব জুহরি (মৃ. ১২০ হি.) রচিত ‘আল-মাগাজি’ থেকে এবং নামকরণও করেন ঠিক একই নামে। যেমন পরবর্তীকালে ওয়াকিদি (মৃ. ৮২৩ খ্রি.) ও বিলাজুরিও (মৃ. ৮৯৮ খ্রি.) তাদের সিরাতগ্রন্থে ইবনে উকবার ‘মাগাজি’ থেকে ব্যাপক তথ্য চয়ন করেছেন (১১)।
চার
পূর্ববর্তী মনীষীদের উক্তি থেকে বোঝা যায়, মুসা বিন উকবা রচিত এই জীবনীগ্রন্থটি কেবল সনদের সত্যতার বিচারেই অতুলনীয় নয়, বরং বর্ণনাভঙ্গির দিক থেকেও অনন্য। তিনি এমনভাবে গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেন পড়ে মনে হয় নবীজির স. পুরো জীবন তার সামনে জ্বলজ্বল করছিল। ইমাম মালিক রহ. তাই ছাত্রদের বলতেন : যার কাছে ইবনে উকবার মাগাজি আছে, সে বদরযুদ্ধকে সেভাবে দেখবে, যেন তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করছে (১২)। রেফারেন্স গ্রহণে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে রা. সামনে রেখেছেন, আবার কিছুক্ষেত্রে তার কাছে প্রাইমারি সোর্সও ছিল। তৎকালে বাহরাইনের শাসক মানজার ইবনে সাবির কাছে নবীজির স. প্রেরিত পত্রের কথা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় (১৩)।
সর্বোপরি নির্দিষ্টভাবে ‘আল-মাগাজি’র বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা যায়:
১। মুসা বিন উকবা তার গ্রন্থে প্রতিটি বক্তব্যের সোর্স লিপিবদ্ধ করেছেন এবং একচুয়াল সোর্স নির্দেশ না করে কোনও বক্তব্য উপস্থাপন করেন নি। মশহুর প্রাচ্যবিদ মি. আলফ্রেড গিলিয়াম (মৃ. ১৯৬৫ খ্রি.) পর্যন্ত (যিনি ‘সিরাতে ইবনে ইসহাকের ইংরেজি অনুবাদের জন্য খ্যাত) ইবনে উকবার প্রায় ২০টি পার্ট উল্লেখ করেছেন, যার সবগুলো শক্তিশালি সূত্র দ্বারা প্রমাণিত (১৪)।
২। তিনি কিছু মূললিপি পেয়েছিলেন এবং নবীজির চিঠিপত্র ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের রা. স্ক্রিপ্টের মতো মূল্যবান দলিল থেকে তথ্য আহরণ করেছিলেন।
৩। তিনি নবীজির স. জীবন ও মিশন সম্পর্কিত সমস্ত ঘটনা কালানুক্রমিকভাবে লিখেছেন।
৪। তিনি সর্বপ্রথম নবীজির যে-সকল সাহাবি গাজওয়াতে অংশ নিয়েছেন, তাদের একীভূত তালিকা পেশ করেছেন। এর মাধ্যমে তার প্রচুর গবেষণা ও অগাধ পণ্ডিতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
পাঁচ
১৯৯৪ সালে প্রকাশিত মরক্কো সংস্করণ অনুসারে গ্রন্থটির মোট পৃষ্ঠা ৪২৩। ভূমিকায় সংকলক মহানবীর স. জীবনী সম্বলিত প্রাচীন গ্রন্থাবলির অবস্থান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সারগর্ভ রচনা সংযুক্ত করেছেন এবং তিনি কীভাবে এই কপির মূলপাঠ সংগ্রহ করেছেন, তারও সামান্য ধারণাও দিয়েছেন। শুরুতেই তিনি গ্রন্থ সম্পর্কে ইমাম মালিকের রহ. বিখ্যাত উক্তিটি সেঁটে দিয়েছেন, যা আমরা ইতিপূর্বে লিখেছি। এরপর লেখকের জীবন ও সমসাময়িকদের দৃষ্টিতে তার অবস্থান এবং তার রচিত সিরাতগ্রন্থের মর্যাদা সম্পর্কে একটি পৃথক অধ্যায় তুলে দিয়েছেন। মূলগ্রন্থটি শুরু হয়েছে ৫৭ পৃষ্ঠা থেকে “আহদাসু মা কবলাল বি’সা” (আবির্ভাবপূর্ব ঘটনাবলি) শিরোনাম দিয়ে। তারপর সিরাতগ্রন্থের চিরাচরিত কাঠামো অনুসারে হারবুল ফিজার থেকে নিয়ে মদিনায় হিজরত পর্যন্ত ঘটনাবলি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং মদিনা অধ্যায় যাবার পূর্বে দাওয়াত সংশ্লিষ্ট মক্কার বিভিন্ন গোত্রের পরিচয়ও তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় অধ্যায়টির নাম দিয়েছেন ‘আল-আনসার’। তিনি মুহাজির ও আনসারের পরিচয় এবং মক্কার গোত্রগুলি ধরে ধরে সেখানকার মুহাজির কারা, একইভাবে মদিনার গোষ্ঠীগুলো থেকে কারা আনসারি হয়েছেন তার তালিকা পেশ করেছেন। দাওয়াত ও জিহাদ সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলিও বাদ রাখেন নি। ধারাবাহিকভাবে নবীজির তিরোধান অবধি ঘটনাক্রম সাজিয়ে এনেছেন। শেষে নবীজির পরিচালিত যুদ্ধগুলির একটি ফিরিস্তি দিয়েছেন।
তবে গ্রন্থ এখানেই শেষ হয়ে যায় নি—৪২৩ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির ৩৩১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এসেছে মাত্র—বরং ওফাত পরবর্তী মদিনার উদ্ভূৎ ঘটনাবলি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে এবং একটি ইতিহাসগ্রন্থের মতো আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলীর আমল শেষ হয়ে উমাইয়া খেলাফতে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইরের রা. উত্থান পর্যন্ত চলেছে। অর্থাৎ, এটি কেবল একটি ‘জীবনীগ্রন্থে’র পরিসরে সীমিত থাকে নি—ইসলামের প্রাচীনতম ইতিহাসগ্রন্থেরও অবদান রেখেছে।
সবশেষে আধুনিক গ্রন্থাবলির মতো সারা গ্রন্থে উদ্ধৃত আয়াত, হাদিস, আসার প্রভৃতির উৎস চিহ্নিত করণের জন্য এবং ভেতরে উল্লেখিত নাম, স্থান ও গোত্রের ইঙ্গিতগুলো সহজে পেতে আরবি হরফের আভিধানিক ক্রমানুসারে বিস্তারিত নির্ঘণ্ট সংযোজন করা হয়েছে; রয়েছে মরক্কোর ইবনে জুহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য গ্রন্থপাঠের একটি সিলেবাসও।
ছয়
ইতোমধ্যে পাকিস্তানের পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থটির উপর ৫ জন স্কলার (ড. আতাউর রহমান, ড. জেনাস খান, ড. করিম দাদ, ড. হাফিজ মোহাম্মদ তাহির ও ড. জিয়াউল্লাহ আল আজহারি) যৌথভাবে একটি গবেষণা অভিসন্দর্ভ সম্পন্ন করেছেন—“মুসা ইবনে উকবা’স আল-মাগাজি : ইট’স ম্যাথোডোলজি অ্যান্ড ক্রিটিকাল অ্যানালাইসিস” শিরোনামে; যেখানে তারা রচনাকাল থেকে নিয়ে এ-পর্যন্ত গ্রন্থটির সুদীর্ঘ যাত্রাকাল, মূল্যমান ও লিখনপদ্ধতি সবিস্তারে তুলে ধরেছেন (১৫)।
টীকা
১. www.alukah.net/culture/0/77949/
২. তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ২/৭৮২
৩. MUSA BIN UQBQA’S “AL-MAGHAZI : ITS METHODOLOGY AND CRITICAL ANALYSIS
৪. জামেয়া ইবনে জুহর : www.uiz.ac.ma
৫. https://bit.ly/32NufyL এবং ‘আল-মাগাজি’র ভূমিকা দ্রষ্টব্য
৬. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৬/১১৫
৭. তাদবিনু সিয়ার ওয়া মাগাজি, ৩১
৮. ইবনে আবি হাতিম, আল-জারহ ওয়াত তাদিল, ৮/১৫৪; মিজানুল ইতিদাল, ৪/১২৪; তাকরিবুত তাহজিব, ২/২৮৬
৯. তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, ২/১১৭
১০. ইবনে হিব্বান, আস-সিকাত, ৫/৪০৪
১১. ড. আনোয়ার মাহমুদ খালিদ, সিরাতে রাসুল, ১০৯
১২. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৬/১১৫
১৩. ফুতুহুল বুলদান, ১৩০
১৪. The life of Muhammad, A Guillume’s Preface, Page XIVII & XIII
১৫. গবেষণার সারসংক্ষেপ দেখুন: এশিয়ান জার্নাল অব সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস: https://bit.ly/379ZwiO
