ফাতেহ ডেস্ক :
ভোলার বোরহানুদ্দিনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে চার মুসল্লির শাহাদাত এবং আরও শতাধিক মুসল্লি আহত হবার ঘটনায় ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের ডাকা দোয়া মাহফিল ও সমাবেশ ফের স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে আরও তিন দফা ওই দোয়া সমাবেশ স্থগিত করা হয়।
ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মো. নুরুল আমিন আশ্রাফী স্বাক্ষরিত বৃহস্পতিবার রাতে মিডিয়া কর্মীদের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২০ অক্টোবর বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষে নির্মমভাবে ৪ জনকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবিসহ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
১৭ নভেম্বর দেয়া ওই স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে বিষয়গুলোর সমাধানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২৩ নভেম্বরের সরকারি বালক স্কুল মাঠের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
এর আগে সভা সমাবেশের উপর জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংগঠনের নির্ধারিত কর্মসূচি কয়েক দফা স্থগিত করা হয়েছিল বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর বিকালে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামক স্থানীয় এক হিন্দু যুবক নিজের নাম ও ছবি সম্বলিত ফেসবুক আইডি Biplob Chandra Shuvo থেকে আল্লাহ তায়ালা ও নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তার কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ পাঠায়। এক পর্যায়ে কয়েকটি আইডি থেকে ওই ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে কয়েকজন প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি সকলের নজরে আসে।
এতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনতা ২০ অক্টোবর সকালে বোরহানউদ্দীন হাইস্কুল মাঠে হিন্দু এ যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত এই সমাবেশটি চলছিল। সমাবেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এসময় পুলিশ সমাবেশ সময়ের আগে শেষ করতে বলে প্রতিবাদী জনতাকে। প্রতিবাদী জনতা পুলিশের এ কথা না মানলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত জনতার কিছু লোক পুলিশের দিকে ইট-পাটকেলও ছুড়ে মারে। পুলিশ তখন নির্বিচার গুলি বর্ষণ করে। এতে এ পর্যন্ত চারজন মুসল্লি শাহাদাত বরণ করেছেন। শাহাদাতবরণকারীরা হলেন– বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।
এসব ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ৩টি মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জন গ্রেফতার হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন জানায়, ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের সনাক্ত করেই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ এ্যাসল্ট মামলায় অজ্ঞাত ৪-৫ হাজার আসামি হলেও কেবল হামলায় অংশগ্রহণকারী চিহ্নিত হওয়ার পরেই তাদের গ্রেফতার করা হয়ে থাকে। ফলে এক মাসে গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ১৩ জন।
এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩ জন। পুলিশ এ্যাসল্ট মামলায় ৮ জন। ৯ হিন্দু পরিবার ও মন্দিরে হামলা ভাংচুর ও লুট মামলায় ২ জন গ্রেফতার হয় বলে জানান বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক।
এদিকে ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, চিহ্নিত অভিযুক্তদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে। মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার এখন আদালতের বিষয়।
