মাহফিল থেকে ফেরার পথে আক্রমণের শিকার মুফতী রিজওয়ান রফিকী, কী ঘটেছিল তাঁর সাথে

মাহফিল থেকে ফেরার পথে আক্রমণের শিকার মুফতী রিজওয়ান রফিকী, কী ঘটেছিল তাঁর সাথে

রাগিব রব্বানি :

তরুণ বক্তা মুফতী রিজওয়ান রফিকী গতকাল রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি মাহফিল থেকে ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আক্রমণকারীরা তাঁকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদেরকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। কিন্তু ভালুকা থানা পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি ছাড়া কোনো মামলাই গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মাওলানা রিজওয়ান রফিকী ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, আক্রমণকারীরা স্থানীয় এমপির লোকজন হবার কারণে তাঁর এ মামলা গ্রহণ করেননি ভালুকা থানার ওসি।

ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং কারা তাঁর ওপর আক্রমণ করল জানতে চাইলে মাওলানা রিজওয়ান রফিকী বলেন, ‘মানিকগঞ্জের পীর মনজুরুল ইসলাম সিদ্দীকির একটি বয়ানে প্রদত্ত দুটো ভ্রান্ত কথার দালিলিক খণ্ডন করেছিলাম আমি বেশ কিছুদিন আগে। এ কারণে তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ দিকে ভালুকার স্থানীয় এমপি কাজিমুদ্দিন ধনু ওই পীর সাহেবের ভগ্নিপতি। গতকাল ভালুকা থানার ঘরাডোবা ইউনিয়নে আমার প্রোগ্রাম ছিল। যথারীতি আমি প্রোগ্রামে হাজির হই। কিন্তু বয়ানে ওঠার আগে জানতে পারি এমপি কাজিমুদ্দিনের পক্ষ থেকে মাহফিল কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করা হয়েছে আমাকে যেন বয়ান করতে না দেওয়া হয়। মাহফিল কর্তৃপক্ষ তাঁর এ নিষেধাজ্ঞা না মেনে আমাকে বয়ান করতে দেয়। এতে এমপির পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়, মাহফিল থেকে ফেরার পথে রাস্তায় আমাকে ‘দেখবে’। আমি যথারীতি বয়ান শেষ করে ঘরাডোবা থেকে রাত বারোটার পর ফিরতি যাত্রা করি। ভালুকা থানার সামনে আসতেই আমার গাড়ির গতি রোধ করে দাঁড়ায় দশ পনেরো জন লোক। আমার সাথে ঘরাডোবার স্থানীয় দুজন লোকও ছিলেন। পথরোধকারীরা আমাকে খুব অশালীনভাবে জেরা করতে শুরু করে। আমি কেন মানিকগঞ্জের ওই পীরের বিপক্ষে কথা বললাম।’

Image may contain: 4 people
মানিকগঞ্জের পীর মনজুরুল ইসলাম সিদ্দীকি

রিজওয়ান রফিকী বলেন, ‘আমি তখন তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে তার বিরোধিতা আমি করিনি, বরং একটি মাহফিলে তিনি যে কয়েকটি বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছেন সেগুলো খণ্ডন করেছি। কিন্তু তাঁরা আমার কথা শুনতেই রাজি না। প্রথমে আমার সঙ্গে থাকা লোকজনের ওপর আক্রমণ করে। তারপর আমার গায়ে হাত তোলে। তাদের হাতে বিদ্যুতের তারের মতো একটা কিছু ছিল। ওটা দিয়ে আমাকে আঘাত করতে শুরু করে। দশ-পনেরো জনের উন্মত্ত দলটি আমাকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। সেই সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় চলতে থাকে গালিগালাজ। বিদ্যুতের তারের আঘাত এখনও আমার সারা শরীর জুড়ে।

‘ওরা যখন আমাকে মারছিল, এমন সময় ভালুকা থানার এক পুলিশ সদস্য তাঁর বাসা থেকে থানায় ফিরছিলেন। তিনি এসে আমাকে রক্ষা করেন এবং তাদেরকে বলেন, উনাকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে, কোনো অপরাধ করে থাকলে আইনিভাবে দেখা হবে। তখন ওই লোকজন নিজেদেরকে এমপির লোক পরিচয় দিয়ে বলে, থানায় নয়, তাকে এমপি সাহেবের বাসায় নিয়ে যেতে হবে। পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় তারা। পুলিশের গায়েও তখন তারা হাত ওঠায়। একপর্যায়ে তিনি আমাকেসহ আমার সাথিদেরকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন। এবং পরামর্শ দেন রাতে যেন আমি থানার হেফাজতেই থাকি। কারণ, ওরা বাইরে ওঁৎ পেতে আছে।

‘আমি তাঁর পরামর্শ মতো থানায়ই রাত কাটাই। পরদিন সকালে থানার ওসি সাহেব এলে আমি দেখতে পাই ভিন্ন রূপ। ওসি সাহেব নানাভাবে আমাকে জেরা করতে শুরু করেন। আমি এ ঘটনায় মামলা করতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন, মামলা করতে গেলে উল্টো মামলা খেতে হবে আপনাকে। আমি অবাক হই ওসি সাহেবের আচরণে। আমার সঙ্গে ঘরাডোবা কৃষকলীগ ও যুবলীগের দুজন নেতা ছিলেন তারাও এ ঘটনার সাক্ষী। ওসি আমাকে একটা সাধারণ ডায়েরি করে এ ঘটনায় কোনো মামলা করব না মর্মে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে যেতে বলেন। আমি বলি, সাধারণ ডায়েরি করব ঠিক আছে, কিন্তু মুচলেকা দেবো কেন? আমি তো অপরাধী না, ভিক্টিম। অপরাধ আমার সঙ্গে করা হয়েছে। আমি আক্রমণের শিকার। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা শোনেননি। বলেন, সাধারণ ডায়েরির নিচে আমি এই মর্মে যেন প্রত্যয়ন দিয়ে যাই যে, এ ঘটনায় কোনো মামলা করব না। অবশেষে থানা থেকে ছাড়া পাবার জন্য আমি সাধারণ ডায়েরির নিচে এ কথা লিখে আসতে বাধ্য হয়েছি যে, আমি আপাতত মামলা করব না। আপাতত কথাটা আমি যোগ করে এসেছি।’

মুফতী রিজওয়ান রফিকী বলেন, আক্রমণের শিকার হলাম আমি, আমাকে বেধড়কভাবে পেটানো হলো, পুলিশ স্বচক্ষে তা দেখলেও, কিন্তু উল্টো আমাকে নানা ছুঁতোয় অপরাধী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা হলো, আমার মামলাটি পর্যন্ত তারা গ্রহণ করল না। পুলিশ তো আমাদের নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু ভালুকা থানার ওসির এটা কোন ধরনের আচরণ!

আগের সংবাদঅবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে মহেশপুর সীমান্তে আরও ৪ জন আটক
পরবর্তি সংবাদতুর্কি-কাতার হাই স্ট্র্যাটেজিক কমিটির পঞ্চম বৈঠকে যোগ দিতে কাতার সফরে এরদোগান