সাহিত্যে নোবেল পাচ্ছেন মুসলিম-গণহত্যার সমর্থক পিটার, সমালোচনার ঝড়!

সাহিত্যে নোবেল পাচ্ছেন মুসলিমদের গণহত্যার সমর্থক পিটার, সমালোচনার ঝড়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয়ী মুসলিমবিদ্বেষী লেখক পিটার হান্টকারের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। শনিবার রাতে সুইডিশ নোবেল অ্যাকাডেমিতে নোবেল বক্তৃতা দিয়েছেন পিটার। মঙ্গলবার তার হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কার। সেই অনুষ্ঠান বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের আরেক মুসলিম দেশ কসভোও

মুসলিমদের গণহত্যার সমর্থক পিটার হান্টকার

১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধে মুসলিমদের ওপর চালানো গণহত্যার মূল হোতা বলকানের কসাই খ্যাত স্লবোডান মিলোসেভিকের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই হান্টকা। এছাড়া ১৯৯৮-৯৯ সালে কসভোর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও দেশটিতে মুসলমানদের ওপর ব্যাপক গণহত্যা চালায় সার্বিয়া। হান্টকা সে সময়ও সার্বিয়ার পক্ষ নেন।

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হান্টাকার বই ‘আ জার্নি টুন দ্য রিভার্স : জাস্টিস ফর সার্বিয়া’ নামক বইতে গণহত্যার ঘটনা গোপন করা হয়েছে। হান্টকা বরাবরই সার্বিয়ান সাবেক নেতা স্লোবোডান মিলোসেভিকের ভক্ত হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযুক্ত এই মিলোসেভিক বিচার চলাকালে ২০০৬ সালে মারা যান। জেলখানায় তাকে দেখতে গিয়েছিলেন হান্টকা। এছাড়া বিচার চলকালে তার পক্ষে প্রচারণাও চালান। মিলোসেভিকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে পিটার বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি, যুগোস্লাভিয়ার জন, সার্বিয়ার জন্য, স্লোবোদান মিলেসেভিকের জন্য।’

এছাড়া কসভো যুদ্ধ চলার সময় হান্টকা ‘স্ট্যান্ডআপ ইফ ইউ সাপোর্ট দা সার্বস’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। যে প্রবন্ধে কসভোর মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো সার্বিয়াকে সমর্থন করা হয়েছে।

নোবলে জয়ী হান্টকা বলেন, বসনিয়ায় মুসলমানরাই নিজেদের হত্যা করেছে, আর তার দায় চাপানো হয়েছে সার্বিয়ার ঘাড়ে। তিনি বলেন, আমি কখনোই বিশ্বাস করবো না যে স্রেব্রেনিসায় সার্বরা গণহত্যা চালিয়েছে। অথচ সারা বিশ্ব জানে যে, স্রেব্রেনিসায় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সামনেই গুলি করে হত্যা নির্বিচারে সার্বরা হত্যা করেছিল কয়েক হাজার মুসলমান পুরুষ-কিশোরকে।

৭৭ বছর বয়সী হ্যান্ডকা পরিচিতি পেয়েছেন তার যৌথভাবে লেখা সিনেমা ‘উইংস অব ডিসায়া’র জন্য। এই সিনেমাতেও বসনিয়ার গণহত্যাকে সমর্থন করা হয়েছে। বসনিয়ানদের ওপর চালানো সার্বদের নৃসংসতাকে অস্বীকার করা হয়েছে।

মুসলিমবিদ্বেষী হান্টকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-প্রতিবাদ

গত অক্টোবরে নোবেল বিজয়ী হিসেবে হান্টকার নাম ঘোষণার পর থেকেই লেখক ও মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসতে থাকে। নোবেল কমিটির দুই সদস্য এর প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া একজন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার নোবেল পুরস্কার বাতিলের দাবিতে এক অনলাইট পিটিশনে ৬০ হাজারের বেশি লোক স্বাক্ষর করছে।

গতকাল তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী টুইটারে লিখেছেন, পিটার হ্যান্ডকাকে ২০১৯ সালের নোবেল পুরস্কার দেয়ার তীব্র নিন্দা জানানই। যিনি বসনিয়ার গণহত্যাকে অস্বীকার করেছেন এবং গণহত্যার অপরাধী স্লোবোডান মিলোসোভিককে সমর্থন করেছেন। আমাদের বসনিয়ার ভাইদের হত্যায় সমর্থন দিয়েছেন এই হান্টকা। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিনও হান্টাকার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়ার নিন্দা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কসভোর রাষ্ট্রদূত ভ্লোরা সিটাকু নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্তকে অপমানকর, ভ্রান্ত ও লজ্জাজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আগের সংবাদঅনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের ৮২ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে ভারত
পরবর্তি সংবাদএক ফিলিস্তিনি কিশোরীকে তুলে নিয়ে গেল ইসরাইলি সৈন্যরা