সু চি’র রোহিঙ্গা গণহত্যা অস্বীকার : যেভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

সু চি’র রোহিঙ্গা গণহত্যা অস্বীকার : যেভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ নাকচ করে দেয়া মিয়ানমারের ডি ফ্যাকটো নেতা অং সান সু চি’র বক্তব্য নিয়ে ইকোনমিস্ট, গার্ডিয়ান, বিবিসি, সিএনএন, ফরেন পলিসি, ডিপ্লোম্যাটসহ বিভিন্ন মূল ধারার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠেছে নিন্দার ঝড়। বলা হচ্ছে, সামরিক জান্তার বিশ্বাসভাজন হতে এবং ২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুবিধা পেতে সু চি নিজের অতীতের সুনাম বিসর্জন দিয়েছেন।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট–এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে যে সু চি ১৫ বছর অন্তরীণ ছিলেন, তিনিই এখন সামরিক বাহিনীর সুরে তাল মেলাচ্ছেন। আর তাঁর এই রূপান্তর বিস্ময়কর। দ্য হেগে নিজের যাওয়ার বিষয়টি সু চি খুব ভেবেচিন্তেই ফলাও করে প্রচার করেছেন। এর পেছনে আছে মিয়ানমারের স্থানীয় রাজনীতিতে ফায়দা লোটার স্বার্থ। আর তাতেই অন্ধ হয়ে নিজের এত দিনের সম্মানজনক ভাবমূর্তিতে কাদা লেপতেও কাঁপছে না সু চির হাত।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের নির্বাচনে জিতে সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় এলেও, তাতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব কমেনি। বরং এখনো মিয়ানমারের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সে দেশের সামরিক বাহিনী। পার্লামেন্টেও তাদের অংশীদারত্ব আছে। আছে প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্তসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির নেতা অং সান সু চির কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা নেই।

দ্য ডিপ্লোম্যাট পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিজেতে সু চি সুচিন্তিত ও পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার–নির্যাতনের সব অভিযোগকে ‘অবহেলা’ ও ‘উপেক্ষা’ করেছেন। ওদিকে জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার–বিষয়ক হাইকমিশনার জাইদ রা’দ আল হুসেইন সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সু চি যেভাবে নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, তা এককথায় ‘হাস্যকর’।

ফরেন পলিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে খুব স্পষ্টভাবেই একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নিয়েছেন অং সান সু চি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হওয়া নির্যাতন–নিপীড়নের অভিযোগগুলো মিয়ানমারের স্থানীয় আদালতে, বিশেষ করে সামরিক আদালতে বিচার করার আরজি জানিয়েছেন তিনি। আদালতে অভিযোগকারী গাম্বিয়ার বিভিন্ন তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষায়, রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে তা গণহত্যার সমতুল্য নয়। সেনাবাহিনীর বলপ্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার পক্ষেও তিনি সাফাই গেয়েছেন। অর্থাৎ বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর অবস্থান কোনোভাবেই সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের তুলনায় ভিন্ন নয়।

গার্ডিয়ান পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, গণহত্যা সংঘটনের অসংখ্য প্রামাণিক তথ্য উপস্থাপিত হওয়ার পরও সব নাকচ করে দিয়েছেন সু চি। পুরো বক্তব্যে একবারও রোহিঙ্গা শব্দটিও উচ্চারণ করেননি তিনি। রাজনৈতিক স্বার্থ সু চিরও আছে। আইসিজেতে বক্তব্য দেওয়ার পর মিয়ানমারজুড়ে সু চির সমর্থনে মিছিল হয়েছে। সু চির এখন লক্ষ্য ২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের দলের প্রভাব–প্রতিপত্তি বাড়াতে চান তিনি। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতাকে ক্ষুব্ধ করতে তিনি চান না। জনগণের চোখে ভালো সাজতে গিয়ে বিবেকের ভালো-মন্দ জলাঞ্জলি দিয়েছেন সু চি।

আগের সংবাদরোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা : সমর্থন বাড়াতে সরকারের কূটনৈতিক পরিকল্পনা
পরবর্তি সংবাদকাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, নিহত ২ ভারতীয় সেনা