মুসান্না মেহবুব:
জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন থেকে এ সপ্তাহেই আসছে তফশিল ঘোষণা। সে অনুযায়ী নির্বাচন অনেকটা দোরগোড়ায় হাজির। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তেমন কোনো প্রস্তুতি ও সাড়া লক্ষ্য করা যায়নি বিরোধীদলগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে কোনো আগ্রহই পরিলক্ষিত হচ্ছে না আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে।
ইতিমধ্যে নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির শেষ নাগাদ একই দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গত সপ্তাহেই নিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। এ সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে তফসিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে উভয় সিটিতেই এ বছর ব্যালট পেপারের বদলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।
ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেছে, আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। বিগত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ পরিস্থিতি তাদেরকে হতাশ করেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিগত নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী ইয়াকুব। নির্বাচনী মাঠে নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ভোটের আগেই নির্বাচন বয়কট করেছিলেন।
আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, দেশে কি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি আছে? ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচন, বা স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে মানুষ কি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিল? ভোট কম পাই আর বেশ পাই, আমার সমর্থক যারা আছেন, তারা যদি নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ থাকত, তাহলে অবশ্যই মনোনয়ন নিতাম। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তো আদৌ নেই। বিরোধীমতকে দমিয়ে রেখে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এখন নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয় না। তাহলে খামোখা মনোনয়ন নিয়ে কী লাভ?
গাজী ইয়াকুব বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্বাচন এখন আর হয় না, এখন তাদের কেন্দ্রে যাবার আগেই অদৃশ্য থেকে ভোট হয়ে যায়। এ ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হবার ইচ্ছা বা আগ্রহ আমার নাই।
তাঁর দল ইসলামী ঐক্যজোট থেকে তাহলে অন্যকোনো কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও অফিসিয়ালি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্বাচনকে যে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, দল এমন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে মনে হয় না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বিগত সিটি নির্বাচনগুলোতে তাদের প্রার্থী দিয়েছিল। জোর প্রচার-প্রচারণাও চালিয়েছিল তারা। কিন্তু আখেরে তারাও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির জোর অভিযোগ আনে তারা। আসন্ন নির্বাচনেও তারা অংশগ্রহণ করবে কি না জানতে চেয়ে কথা হয়েছিল দলটির নেতা মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিগত দিনগুলির মতো ‘কারচুপি’ ও ‘জোরজবরদস্তি’র নির্বাচন হলে দলটি অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন আরেক নেতা।
কথা হয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা আবদুল গাফফার ছয়ঘরির সাথেও। তিনিও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন নিয়ে দলে তেমন কোনো আগ্রহ নাই বলে জানান তিনি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীতেও নির্বাচনকে ঘিরে সরব কোনো আলোচনা নেই। ২০ দলীয় জোটের অধীনে ঢাকা উত্তর সিটিতে নিজ দলের প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকলেও ঢাকা দক্ষিণে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রত্যেকেরই অভিযোগ, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই বর্তমান বাংলাদেশে। সবকিছু এখন একপাক্ষিক হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করছেন সবকয়টি ইসলামি দলের নেতারা।
