
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের ঝেনইউয়ান কাউন্টিতে সম্প্রতি একটি গ্রন্থাগারের ধর্মীয় বইসহ অন্য অনেক বই আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্র পরিচালিত গ্রন্থাগারটির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা একটি নিবন্ধের স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, দুজন নারী সরকারি কর্মকর্তা ধর্মীয় বইসহ অন্য অনেক বই আগুনে পুড়িয়ে ফেলছেন। এ ঘটনা চীনের চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। হাজার হাজার নেতিবাচক মন্তব্য পড়েছে।
বই পোড়ানোর এই ঘটনা আসলে গত অক্টোবরে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুরু করা একটি অভিযানের অংশ ছিল, যেখানে চীনজুড়ে স্কুল লাইব্রেরিগুলোতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং এর নেতাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করে—এমন সব বই সরিয়ে ফেলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। ঝেনইউয়ান অঞ্চলটি নিংজিয়া অঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষে, যেখানে কিনা চীনের হুই মুসলিমদের ২০ শতাংশের বাসস্থান। মনে হচ্ছে, মুসলমানদের ধর্মীয় বইগুলোই পোড়ানো হয়েছে। তবে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বই পোড়ানো-সম্পর্কিত নিবন্ধটি গ্রন্থাগারটির ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছে এবং কাউন্টি সরকার এ ব্যাপারে একটি তদন্তের এবং জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এভাবে বই পোড়ানো চীনা সরকারের মুসলিম, বিদেশি ও ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সামালোচকরা। নিজের পছন্দের দর্শন প্রচারের জন্য একীভূত চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং অন্যান্য বিশ্বাস, বিশেষত কনফুসিয়ানিজমকে আঘাত করেছিলেন। তাই তিনি কনফুসিয়ান পণ্ডিতদের জীবন্ত সমাহিত করেছিলেন এবং তাঁদের লেখা বই, প্রবন্ধ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। চীনের আধুনিক প্রশাসকেরা সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের চেয়ে যে আলাদা কিছু নন, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
