মুনশী নাঈম :
নানা ঘটনা ও উপঘটনায় সরব ছিল দুই হাজার উনিশ। ঝিমিয়ে পড়া সময় যায়নি, কোনো না কোনো ইস্যুতে, কোনো না কোনো আন্দোলনে জেগে ছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের ইসলামি অঙ্গন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের উনিশ যেন একটু ভিন্ন, আন্দোলনে সংগ্রামে একটু তেজস্বী, লড়াকু, অধিকার দাবিতে সোচ্চার। তবে কোনো কোনো ঘটনায় এতটাই থমকে গেছে সবাই, কারো মুখে শব্দ ফোটেনি। এই ফিচারে দুই হাজার উনিশের গুরুত্বপূর্ণ দশ ঘটনার দিকে ফিরে তাকিয়েছি আমরা। নীচে তার বৃত্তান্ত রইলো।
তাবলীগ সংকট
২০১৯ সাল শুরুই হয়েছিল তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা সংকট মাথায় নিয়ে। ২০১৮ সালের ইজতেমা মাওলানা সাদ কান্ধলবিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালের ইজতেমায় তাবলীগের সাদপন্থী সাথীরা চাইছিল সাদ কান্ধলবি এবার ইজতেমায় আসুক। শুরাপন্থী সাথীরা কোনোভাবেই চাইছিলেন না। ফলে বিতর্ক তৈরী হয়। একসময় এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়ে—২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে না।
বিদঘুটে এই পরিস্থিতিতে ২৪ জানুয়ারি ধর্মমন্ত্রণায়ে বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হাফেজ শেখ মো. আব্দুল্লাহ। এই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি সাদপন্থী ও শুরাপন্থীদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা।
এর আগের দিন ২৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে উলামায়ে কেরাম ও তাবলীগি মুরব্বিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যৌথভাবে ইজতেমা আয়োজনের ব্যাপারে সম্মত হন বিবাদমান উভয়পক্ষ। তবে উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে শর্ত ছিল তাবলীগের বিতর্কিত আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
সে মুতাবিক কাকরাইল মারকাজ পরিচালিত মাদ্রাসা উলূমি দীনিয়া মালওয়ালী মসজিদের অফিসিয়াল প্যাডে কাকরাইলের অন্যতম মুরব্বি মাওলানা জুবায়ের সাহেব স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিশ্বের যে যে দেশে তাবলিগের কাজ চলমান, সবগুলো দেশের তাবলিগি সাথিদের কাছে পাঠানো হয়।
এরপর সচিবালয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বৈঠক হয় সাদপন্থী ও শুরাপন্থীদের নিয়ে। এ সভায় আগের যৌথ ইজতেমার সিদ্ধান্ত বদলে যায়। নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়—ইজতেমার সময় একদিন বাড়িয়ে চারদিন করা হয়েছে। অর্থাৎ ১৫,১৬,১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ অনুষ্ঠিত হবে ইজতমা। তবে প্রথম দুইদিন অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি তাবলিগের বাংলাদেশ শূরাপন্থীদের মুরুব্বি মাওলানা যুবায়েরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। পরবর্তী দুদিন অর্থাৎ ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তাবলীগের সাদপন্থীদের মুরুব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
অবশেষে এই সিদ্ধান্তনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯।
হাইয়াতুল উলয়ার প্রশ্নফাঁস
একাধিকবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এ বছর বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল হাইআতুল উলয়ার অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদেরকে। একই বছরে একই পরীক্ষায় কয়েকবার প্রশ্নফাঁসের কারণে পেরেশানি ও চাপে পড়েছিলেন হাইআতুল উলয়া কর্তৃপক্ষও।
এবারের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কওমি মাদরাসা শিক্ষাধারার ইতিহাসে এই প্রথম। সততা আদর্শ ও ঐতিহ্যবাদিতায় আপোষহীন হবার কারণে এ ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারত না। কারণ, এ ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রদের পড়াশোনা পরীক্ষা ও রেজাল্ট নির্ভর ছিল না কোনো কালেই, ছাত্ররা পড়ত যোগ্যতা অর্জন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, পরীক্ষা ছিল তাঁদের কাছে কেবলই মেধা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম।
তবে আশার কথা হলো হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশ কিংবা অন্যান্য দেশের শিক্ষাবোর্ডের মতো কোনো ধরনের তালবাহার আশ্রয় নেয়নি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠামাত্রই সম্মিলিত এ কওমি শিক্ষাবোর্ড সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যাওয়া সব পরীক্ষা বাতিল ও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো স্থগিত করে নতুনভাবে নতুন প্রশ্নপত্রে আবারও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। দ্বিতীয় বার আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলে তখনও বোর্ডটি এর দায় স্বীকার করে ফাঁসকৃত প্রশ্নের পরীক্ষা বাতিল করে অভিনব পদ্ধতিতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করে। হাইআতুল উলয়ার এ সততা স্বচ্ছতা এবং অভিনবত্ব সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
৮ এপ্রিল (সোমবার) শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নফাঁসের কারণে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ায় তা শেষ হয় ৩ মে।
প্রথম বার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরপরই হাইআতুল উলয়ার উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন আলেমের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কথা ছিল তদন্ত কমিটি খুব দ্রুত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর শাস্তির জন্য আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। কমিটি গঠনের কয়েকদিনের মধ্যে মেশকাতের প্রশ্নফাঁসকারীকে চিহ্নিত করে তাঁর কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিচার করা হবে বলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্র কারা ফাঁস করেছে, তদন্ত কমিটি এখনও তা খুঁজে বের করতে পারেনি।
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে মেননের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য
গত ৩ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি প্রদান, হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা আহমদ শফীর কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি কওমি শিক্ষাকে বিষবৃক্ষ ও আলেমদের মোল্লাতন্ত্র বলে মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান মেননের এমন বক্তব্যে দেশজুড়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে। ৫ মার্চ হেফাজতের আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে সংসদে কওমি মাদ্রাসাকে ‘বিষবৃক্ষ’ বলে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি অনতিবিলম্বে মেননকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান, অন্যথায় ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পরদিন ৬ মার্চ মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। ৮ মার্চ বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। এতে ইসলামি বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁরা মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও বিচারের দাবি করেন।
বিষয়টি এতদিন রাজপথে থাকলেও ১০ মার্চ রোববার তা সংসদে তুলেন জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ। রাশেদ খান মেননের সমালোচনার পাশাপাশি তিনি কওমি মাদ্রাসার অবদানও তুলে ধরেন সংসদে। এসময় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে রাশেদ খান মেননের সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে ‘ধৃষ্টতা’ আখ্যায়িত করে তা একপাঞ্জ করার দাবি জানান তিনি। এরপর ১১ মার্চ সংসদে রাশেদ খান মেননের কটাক্ষ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।
ভোলা হত্যাকাণ্ড
গত ১৮ অক্টোবর বিকালে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামক ভোলার স্থানীয় এক হিন্দু যুবক নিজের নাম ও ছবি সম্বলিত ফেসবুক আইডি Biplob Chandra Shuvo থেকে আল্লাহ তায়ালা ও নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তার কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ পাঠায়। এক পর্যায়ে কয়েকটি আইডি থেকে ওই ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে কয়েকজন প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি সকলের নজরে আসে।
এতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনতা ২০ অক্টোবর সকালে ভোলার বোরহানউদ্দীন হাইস্কুল মাঠে হিন্দু এ যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত এই সমাবেশটি চলছিল। সমাবেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এসময় পুলিশ সমাবেশ সময়ের আগে শেষ করতে বলে প্রতিবাদী জনতাকে। প্রতিবাদী জনতা পুলিশের এ কথা না মানলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত জনতার কিছু লোক পুলিশের দিকে ইট-পাটকেলও ছুড়ে মারে। পুলিশ তখন নির্বিচার গুলি বর্ষণ করে। এতে এ পর্যন্ত চারজন মুসল্লি শাহাদাত বরণ করেছেন। শাহাদাতবরণকারীরা হলেন– বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।
সাধারণ তৌহিদি জনতার ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো বাংলাদেশ। ২২ অক্টোবর বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সমাবেশ থেকে ভোলার এসপি এবং বোরহানুদ্দিন থানার ওসিসহ যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের প্রত্যাহার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর আহ্বান জানানো হয়।
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোলার ঘটনা তদন্তে ঢাকা মহানগর হেফাজতের পক্ষ থেকে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এক প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। হেফাজত নেতা মাওলানা মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন- মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা ফায়সাল আহমদ, মাওলানা রাকীবুল ইসলাম প্রমুখ। তদন্তে ইসলাম অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলায় হতাহতের ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকাকে দায়ী করেছে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম।
অন্যদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ২৫০ পৃষ্ঠার ফাইলে মূল ১১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। শনিবার (২৬ অক্টোবর) ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
রাষ্ট্রীয় খরচে আলেমদের হজ-গমন
রাষ্ট্রীয় খরচে আলাদাভাবে ওলামা মাশায়েখদের এ বছরই প্রথম হজে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশে আলেমদের কখনও সরকারিভাবে হজে পাঠানো হয়নি। সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ দেয়ার জন্য গত ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। পরে সেই দলে আরও চার আলেমকে যুক্ত করা হয়।
৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট পাওয়া সাপেক্ষে ওলামা মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরব যান। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসেন। এটি রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের ভ্রমণ ব্যয় এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের বাহিরে হজ বাবদ ব্যয়’ খাতে বরাদ্দ রাখা অর্থ থেকে বহন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় খরচে আলেমদের হজে যাওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পায় জাতীয় গণমাধ্যমে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ এই সফরে শামিল থাকায় কিছু কিছু গণমাধ্যম উলটো চোখে দেখে। তারা এই সফরকে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সফর বলে অভিহিত করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কোটি কোটি টাকা তছরুপ
২০০৯-১৮ অর্থবছরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ‘নয়ছয়’ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৩৭২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৭ টাকা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে খরচ করা হয়েছে ৫১৮ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯৮ টাকা। ১৮৬ পৃষ্ঠার প্রাথমিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ১৩৪টি খাতে অনিয়মের চিত্র এসেছে।
সিভিল অডিট অধিদফতরের বিশেষ নিরীক্ষা দলের ২০০৯-২০১৮ অর্থবছরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। চলতি বছরের ৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই নিরীক্ষা চলে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের মেয়াদকালে (প্রায় ১০ বছর) এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটে।
এরমধ্যে গণশিক্ষা কেন্দ্রের জন্য পাঠ্যবই মুদ্রণে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৭ টাকা এবং কোরআনুল কারিম মুদ্রণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেয়ায় ১২ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৪১৭ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কার্যাদেশের পরিমাণের চেয়ে কম কোরআন শরিফ নেয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। বোগদাদিয়া কায়দায় ক্ষতি এক কোটি টাকা। এছাড়াও ‘সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম’ নামক পুস্তকটি মুদ্রণের জন্য ২০১০-১১ অর্থ বছরে ২ লাখ ২০ হাজার কপি এবং ২০১১-১২ অর্থ বছরে ২ লাখ ৮০ হাজার কপি মুদ্রণের কার্যাদেশ হয়। এই কার্যাদেশ অনুযায়ী বিল গ্রহণের নথিপত্র পাওয়া গেলেও বই ছাপানো বা প্রেরণের কোনো রেকর্ড দেখাতে পারেনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম নিয়োগে জালিয়াতি ও ভুয়া মাদরাসার নামধারী শিক্ষক, সার্টিফিকেট, বয়স জালিয়াতি মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর পরিবর্তন, নম্বর বেশি দেখানো শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ এবং অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত পদে নিয়োগের মতো অনিয়মের ৩৫টি ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রায় সবটিতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং ইফার নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
নিরীক্ষার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ইফা ডিজির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করে। গত জুন মাসে অনিয়মের অভিযোগে ধর্ম মন্ত্রণালয় ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তার অনিয়মের বিষয় আলোচনায় আসে। ওই শোকজ নোটিশেও অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলে ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানোর বিষয় স্থান পায়। পরে অবশ্য ইফা বোর্ড কিছুটা নমনীয় হয় এবং ডিজির কিছু ক্ষমতা কমিয়ে তার চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে তার মেয়াদ।
যমুনা টিভির প্রতিবেদনে শায়খুল হাদীসকে জঙ্গিনেতা আখ্যা
নভেম্বরের শেষদিন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির এক প্রতিবেদনে দেশের অন্যতম প্রধান আলেম প্রয়াত শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হককে জঙ্গিনেতা আখ্যা দেওয়া হয়। ‘পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন’ শিরোনামে সম্প্রতি প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেড় দশকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিশ জনেরও বেশি দলীয় প্রধান গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী ধাপের নেতারা আবার ঠিকই সচল করেছে সংগঠন…।
প্রারম্ভিকার ওই বক্তব্যের পর দেখানো হয় পুরনো একটি প্রতিবেদন। যেখানে প্রতিবেদক দাবি করেন, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক নিষিদ্ধ-ঘোষিত সংগঠন হরকতুল জিহাদ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের মতো প্রয়াত একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও জাতীয় নেতাকে জঙ্গিনেতা আখ্যায়িত করায় প্রতিবাদে জেগে উঠে আলেম সমাজ। ৪ ডিসেম্বর রাজধাধীনর পুরানা পল্টনস্থ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আলেমরা। যমুনা টিভি ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি দিবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সর্বদলীয় ইসলামি নেতৃবৃন্দ।
এরপর ৫ ডিসেম্বর শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হককে ‘জঙ্গিনেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভি। পুরানা পল্টনস্থ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে যমুনা টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে মাওলানা মাহফুজুল হকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান এবং দুঃখপ্রকাশ করেন।
জামায়াতে বিভক্তি
মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নতুন নামে দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তাব নিয়ে জামায়াতে বিভক্তি প্রকট আকার ধারণ করেছিল চলতি বছর।
গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার জন্য সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা হয়। দলের তরুণ নেতৃত্বের দাবির মুখে সভায় একাত্তরের ভুল রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং জামায়াত নামক দল বিলুপ্ত করে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে দলকে নিয়োজিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা মজলিশে শুরায় অনুমোদন পায়নি।
তখন দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায় জামায়াত। একদল একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে, আরেকদল ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে নয়। বিভক্তির রেষারেষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলটির অন্যতম সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল বেরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
তার ব্যক্তিগত সহকারী কাউসার হামিদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি দুটি কারণ উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম কারণ একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য দেশের মানুষের কাছে জামায়াতের ‘ক্ষমা না চাওয়া’। সময়ের দাবিতে সাড়া দিয়ে ‘বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আওতায় ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে’ জামায়াতকে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থতা নিয়েও পদত্যাগপত্রে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুধু মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে ক্ষমা চাওয়া নয়, বরং জামায়াত নামক দল বিলুপ্ত করে নতুন নামে দল গঠনের প্রস্তাবেও দু’পক্ষে দুটি দল দাঁড়িয়ে যায়। তরুণরা থাকে দল বিলুপ্তির পক্ষে আর আরেকদল থাকে দল বিলুপ্তি না করার পক্ষে। আগেই কামারুজ্জামান দলের সংস্কার প্রস্তাব করে কারাগার থেকে চিঠি লেখার পর জামায়াতের তখনকার আমির মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী ও দলের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শামসুন্নাহার নিজামী এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। সম্প্রতি দল বিলুপ্ত করার প্রস্তাব আলোচনায় এলে মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে নাদিমুর রহমান তালহা এটাকে ‘বেইমানি’ বলে মন্তব্য করেন। গত ১৭ জানুয়ারি তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘…নিছক শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য এবং শত্রুকে খুশি করার জন্য তার নিজের রক্ত দিয়ে গড়া ঘরটি ভেঙে দেওয়া কোনো বিবেকবান ব্যক্তির কাজ হতে পারে না।’
সম্প্রতি সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনয়ন নিয়েও টানাপোড়েন চলছে জামায়াতে ইসলামীতে। এরই মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনয়ন ঘিরে একাধিক পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। সেক্রেটারি পদে এখন পর্যন্ত ছয়জন নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। তারা হলেন: কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির (সহ সভাপতি) মিয়া গোলাম পরওয়ার, নির্বাহী পরিষদের সদস্য এ টি এম মাছুম, সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি তাসনীম আলম।
দলে জানাশোনা এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকে সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এগিয়ে। কিন্তু সংস্কারবাদী সন্দেহে তিনি দীর্ঘদিন থেকে দলে কোণঠাসা। অন্যদের মধ্যে তাসনীম আলম শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং কর্মকাণ্ডে কম সক্রিয়। হামিদুর রহমানকে নিয়ে তাঁর নিজ এলাকা কক্সবাজারে বিতর্ক আছে।
এর বাইরে সেক্রেটারি জেনারেল পদে আলোচনার শীর্ষে আছেন গোলাম পরওয়ার, এ টি এম মাছুম ও রফিকুল ইসলাম খানের নাম। মাছুম এবার জামায়াতের আমির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। আমির পদে নির্বাচনের শুরু থেকে শফিকুর রহমানের প্রভাব বিস্তার নিয়ে নেতা-কর্মীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সেক্রেটারি পদে বেশি আলোচিত রফিকুল ইসলাম খান। কিন্তু তাঁর সঙ্গে নতুন আমির শফিকুর রহমানের সম্পর্কে ভালো যাচ্ছে না। বিষয়টি এখন দলের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অনেকটা প্রকাশ্য। নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ারকে সেক্রেটারি করা হতে পারে। তিনি এবার তিন সদস্যের আমিরের প্যানেলেও ছিলেন। তবে নেতা-কর্মীদের অনেকে বলছেন, নায়েবে আমির পদে থাকা পরওয়ারকে সেক্রেটারি করা হলে তা হবে ঐতিহ্যের খেলাপ এবং পদাবনতি।
২০১৯ ছিল জামায়াতের ভাঙ্গনের বছর।
আলেমদের গুম
২০১৯ এর শেষদিকটা ছিল আলেমদের গুম হওয়ার ভয়ে অস্থির। পরপর কয়েকজন আলেমকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণে তৈরি হয় এই শঙ্কা, ভয়, উদ্বেগ। তাদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট আলেম লেখক হাফেজ মাওলানা আতিকুল্লাহ, মাওলানা রেজওয়ান রফিকি, কলরবের পরিচালক বদরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন। এদের অধিকাংশ ছাড়া পেলেও কয়েকজন ছাড়া পাননি এখনো।
এইসব গুম হয়ে যাওয়া তরুণ আলেমদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী। বিবৃতিতে মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী।
রোহিঙ্গাদের সম্মেলন
চলতি বছরের মধ্যভাগে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্বেষ বেশ প্রকটভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই বিদ্বেষে আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের আয়োজিত সমাবেশ। রোহিঙ্গারা এই সমাবেশে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পাঁচটি শর্ত দেয়। মিয়ানমার শর্ত না মানলে তারা সেখানে ফিরে যাবে না বলেও জানায়। এবং তারা যেন ফিরে যেতে পারে, এই ব্যবস্থা করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানায়।
এর আগে ২২ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হয়।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোতে সবচে বেশি ভূমিকা মিডিয়ার। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া দু’একটি অযাচিত ঘটনাকে মিডিয়াগুলো এমনভাবে প্রচার করেছে, সবার মনে হয়েছে দেশের যাবতীয় অপরাধ যেন তারাই করছে। তারা ফিরে যাবে না বলেই সমাবেশ করেছে। তাদেরকে তাড়াতে পারলেই যেন বাঁচা যায়।
এরপর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল সেবা সীমিত করা হয়। কাটাতারের বেড়া তৈরীর প্রসঙ্গ উঠে। এই কয়েকটি মাস রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিবাদী ঘৃণায় রি রি করে উঠেছিল পুরো বাংলাদেশ। তবে সরকার বেশ কৌশলে এই ঘৃণা কিছুটা হলেও দমিয়েছে। সমাবেশে সমর্থন দিয়েছে। প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাড়ানোর কথা বলেছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিকোণ আকর্ষণ করেছে।
শেষকথা
পেছনের দিনগুলো যেমনই যাক, সামনের দিনগুলো সুন্দর যাবে এই প্রত্যাশায় আমরা বেঁচে থাকি। নতুন নতুন স্বপ্নের বাসা বুনতে থাকি। বছর শেষ হলে চোখে পড়ে হিসাবের গড়মিল। ভাবি আসছে বছর ষোলোআনা শোধ করে নিব। এমন করে হয়ত সামনের বছরও কেটে যাবে। গড়মিল শোধ করা হবে না। পুষিয়ে দেয়া হবে না অতৃপ্তির হিসাব। জীবন তবুও জীবনের নিয়মে বয়ে চলবে। শুধু এইসব ঘটনাগুলো স্মৃতির ডায়রিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শিরোনামে ঝুলে থাকবে বহুকাল।
