‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নিয়ে কী বলছেন ঢাবির অধ্যাপকেরা

ফাতেহ ডেস্ক :

ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীদের হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্তত ২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হয়। নুরুল হক ও তার সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে বর্বর ও পৈশাচিক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ সংগঠনটির কর্মী পরিচয়ে এর আগেও নুরুলসহ একাধিক ছাত্রনেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের সমালোচনায় এবার সরব হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, ‘আমি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেই। কারা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ করছে, কারা কী করছে তা জানি না। তবে আমি সামগ্রিকভাবে বলব, এমন নাম দিয়ে কেউ এ ধরনের কাজ করবে তা সমর্থনযোগ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আমরা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখতে চাই না। যে কোনো সংগঠন এটা করুক, তা মেনে নেওয়া যায় না। নুরুল হক ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে নির্বাচিত করেছে। একজন নির্বাচিত ভিপির ওপর তারা কীভাবে আক্রমণ করেন?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দ ব্যবহার করে সংগঠন বানিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড, এটা জঘন্যতম অপরাধ। পবিত্র শব্দ ‘মুক্তিযুদ্ধ’ কে কেউ কলুষিত করবে, এটা কখনই হতে দেওয়া যায় না। যারাই করুক, যে দর্শনই তাদের থাকুক ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দকে কালিমালিপ্ত করতে দেওয়া উচিত নয়। যারা এসব কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে সত্ত্বর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাষ্ট্রকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এক কথিত মঞ্চের পেছনে আছেন বলে জানি। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কীভাবে এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়ায় তা আমার কাছে বোধগম্য হয় না। একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়াবে, আমাদের শিক্ষক সমাজকে হেয় করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্চটার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তো বটেই। এর পাশাপাশি আজ যা হলো সেই ঘটনায় দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। শক্তি প্রয়োগ করাই একটা অপরাধ। যারা আজ সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে শুধু তাদেরই নয়, এর পেছনে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

আগের সংবাদভিপি নুরকে দেখতে হাসপাতালে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা
পরবর্তি সংবাদ‘রাশিয়া যথেষ্ট চাপ দিলে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে পারে’