ঊনিশের মুসলিম  বিশ্ব : আলোচিত পনেরো ঘটনা

ঊনিশের  মুসলিম  বিশ্ব : আলোচিত পনেরো ঘটনা

মেহবুব মুসান্না : 

বিদায় নিচ্ছে খ্রিষ্টীয় সাল ২০১৯। প্রতিটা সালই বিশ্ব পরিস্থিতিতে নানা ঘটনা-উপঘটনার জন্ম দিয়ে মহাকালের ঠিকানায় হারিয়ে যায়। ২০১৯-এও পৃথিবীর নানা প্রান্তে সংঘটিত হয়েছে এমন অসংখ্য ঘটনা, যার কোনোটি আলোচনার আলোয় এসেছে, আর কোনোটি থেকে গেছে অনালোচিতই। ঊনিশে মুসলিম  বিশ্বে আলোচিত এমন পনেরোটি ঘটনার উল্লেখ নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

১. কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলা

ভারতের জবর দখলে থাকা কাশ্মীর উপত্যকার পুলওয়ামায় ভারতীয় হানাদার বাহিনী স্মরণকালের ভয়াবহ এক হামলার শিকার হয়েছিল বছরের শুরু ভাগে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্সের গাড়িবহরে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে প্রাণ হারায় হানাদার বাহিনীর ৪০ জওয়ান।

এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ভারত পাকিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্টি হয় যুদ্ধ যুদ্ধ একটা ভাব৷ পাশাপাশি অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের নামে ভারতীয় বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নানামাত্রিক হয়রানি ও জুলুম চালায়। পুরো কাশ্মীর জুড়ে মিলিটারিরা নিজেদের তৎপরতা ভয়ংকর কায়দায় বিস্তৃত করে। ফলে কাশ্মীরের জনজীবনেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ততার সৃষ্টি হয়।

হামলার ১২ দিনের মাথায় পাকিস্তানের আয়ত্তে থাকা আজাদ কাশ্মীরের বালাকোট এলাকায় সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই মুহাম্মদের একটি ঘাঁটিতে একুশ মিনিটের একটি নিষ্ফল অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় বিমান বাহিনী। ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান এই অনধিকার চর্চার জবাবে পাল্টা হামলা চালায়। পাকিস্তানের হাতে আটক হয় ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্ধমান। এ নিয়ে তুমুল হইচই পড়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে। ১ মার্চ ওই আটক বৈমানিককে দয়াপরবশ হয়ে পাকিস্তান মুক্তি দিয়ে দেয়। বছরের শুরু ভাগের বহুল আলোচিত ঘটনাগুলোর অন্যতম ছিল এটা।

২. ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা

বছরের সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ছিল ১৫ মার্চের ক্রাইস্টচার্চ হামলা। সেদিন ছিল শুক্রবার। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজে নিমগ্ন স্থানীয় মুসলিম মুসল্লিরা। এমন সময় আধা স্বয়ক্রিয় বন্দুক নিয়ে সেখানে হামলা চালায় খ্রিষ্টান শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট (২৮)। এর কিছু পরে ব্রেনটন কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালায়। দুটি হামলায় নামাজরত ৫০টি তরতাজা প্রাণ ঝরে পড়ে।  এর মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশিও ছিলেন। এ ছাড়া আহত হন আরও ৫০ জন।

ভয়ংকর এই হামলায় সারা বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নাগরিক মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শোক জানান। রাষ্ট্রীয়ভাবেও পালিত হয় এই শোক।

৩. মদিনায় কুরআন মরূদ্যান 

পবিত্র নগরী মদিনাতুর রাসুলের সৌন্দর্য বর্ধন কল্পে সৌদি সরকার এ বছর ব্যতিক্রমী এক প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। ‘কুরআন মরুদ্যান’ নামে বিশেষ এ প্রকল্প নির্মাণে সৌদি কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে সারা বিশ্বের স্থাপত্য সংস্থাগুলোর কাছে উদ্যানের নকশা চেয়েছিল। অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে অসংখ্য নকশা থেকে স্পেনিশ স্থপতি রিকার্ডো বফিলের প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করে সৌদি। কুরআন ও ইসলামি মহাকাব্যিক উপস্থাপনই হবে এ মরূদ্যানের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটিতে থাকছে অভ্যর্থনা হল, অনেকগুলো প্রদর্শনী হল এবং জাদুঘর।

৪. ব্রুনাইয়ে শরিয়াহ আইন

বিগত ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান আল বালকিয়াহ দেশটিতে শরিয়াহ আইন প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল শরিয়াহ দণ্ডবিধির প্রথম অংশটি বাস্তবায়ন করা হয়।  সেই ধারবাহিকতায় চলতি বছরের ৩ এপ্রিল ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক একাধিক আইন কার্যকর করা হয়। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে এ আইন চালু থাকলেও পূর্ব অথবা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্রুনাইতেই সর্বপ্রথম এমন শরিয়াহ আইন চালু হলো।

৫. দুবাইয়ে কুরআন পার্ক

চলতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই প্রদেশের আল খাওয়ানিজ অঞ্চলে ৬০ হেক্টর জমিতে নির্মিত হয়েছে কুরআন পার্ক। পবিত্র কুরআনে কারিমের বর্ণিত বিভিন্ন সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও ঘটনার সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয় এ পার্ক। গত ১৯ মার্চ বিরল ও অপূর্ব এ পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

পার্কটিতে আল-কুরআনে উল্লেখিত ৫৪টি গাছের সমন্বয়ে ১২টি উদ্যান রয়েছে। বাগানের মাঝে রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টানেল জোনে পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত বিভিন্ন অলৌকিক ও বিস্ময়কর ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। এর পাশাপাশি আরও রয়েছে মরূদ্যান, পাম বাগান, লেক, রানিং ট্র্যাক, সাইক্লিং ট্র্যাক ও হাঁটার ট্র্যাক।

৬. তুরস্কে দৃষ্টিনন্দন সর্ববৃহৎ মসজিদের উদ্বোধন

চলতি বছরে ৭ মার্চ তুরস্কের আশ্চর্য দৃষ্টিনন্দন সর্ববৃহৎ মসজিদের উদ্বোধন করা হয়। দেশটির ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলের তাশামালিজার সবুজ চূড়ায় মসজিদটির অবস্থান হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘তাশামালিজা মসজিদ’। ৬৩ হাজার মুসল্লির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদ কমপ্লেক্সটিতে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য রয়েছে চোখ ধাঁধানো ১১ হাজার বর্গফুটের মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। ১০৭.১ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট দুটি মিনারসহ মসজিদের মিনার-সংখ্যা ছয়টি। মসজিদের প্রধান গম্বুজটির উচ্চতা ৭২ মিটার ও ব্যাস ৩৪ মিটার।

৭. বিশ্বের উঁচু ঝুলন্ত মসজিদ 

পবিত্র নগরী মক্কাতুল মুকাররমায় কাবা শরিফের পাশেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঝুলন্ত মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছর। ভূমি থেকে ১৬১ মিটার উচ্চতায় এ মসজিদ নির্মিত হবে। যা সাধারণ হিসেবে প্রায় ৫৩ তলা বিল্ডিংয়ের উচ্চতার সমান। ঝুলন্ত এ মসজিদের আয়তন হবে ৪০০ বর্গ মিটার। ২০০ মুসল্লি অনায়াসে এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

৮. পাকিস্তানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ

মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনা শরিফের মসজিদের নববির পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এক বিশাল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে পাকিস্তানের বরাচি শহরের ‘বাহরিয়া টাইন’-এ। এখানে একসাথে আট লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ বিশাল মসজিদের সাথে থাকবে আন্তর্জাতিক ইসলামি ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক সেন্টার, মিউজিয়াম এবং গবেষণা কেন্দ্র।

৯. ইউরোপের বৃহত্তম মসজিদ

রাশিয়ার স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম প্রদেশ চেচনিয়ার আঞ্চলিক রাজধানী গ্রোজনির শালি শহরে নির্মাণ করা হয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদটি। ৯,৭০০ বর্গমিটার জমির উপর নির্মিত মসজিদটি চলতি বছরের ২৩ আগস্ট জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয়। মসজিদটির নাম রাখা হয় ‘ফখর আল মুসলিমিনি’। মূল মসজিদে একসাথে ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারলেও বারান্দাসহ মসজিদের আঙিনায় প্রায় ৭০ হাজার মুসল্লির সংকুলান হয়।

১০. পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদ

চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর সেনেগালের রাজধানী ডাকারে পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদের উদ্বোধন হয়। মোট ছয় হেক্টর বা ১৪ একর জমির উপর নির্মিত মসজিদটিতে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাসালিকুল জিনান’, যার অর্থ ‘জান্নাতের পথ’।

১১. কৃত্রিম ফতোয়া সেবা চালু

চলতি বছর বিশ্বে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইসলামিক ফতোয়া প্রদানে ‘ভার্চুয়াল ইফতা’ নামের একটি সেবা চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ২৯ অক্টোবর দুবাইয়ের আমিরাতি টাওয়ারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘ভার্চুয়াল ইফতা’ প্রযুক্তি উদ্বোধন করে দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যক্টিভিটিস দপ্তর। একজন ফিকহ বিশেষজ্ঞ বা মুফতির পরিবর্তে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স চালিত এ ‘ভার্চুয়াল ইফতা’ ইন্টারনেট চ্যাটে প্রশ্নকারীদের ইসলামিক নানা বিষয়ে প্রশ্ন লাইভ গ্রহণ করবে এবং জবাবও দেবে। প্রথম পর্যায়ে এটি নামাজ সম্পর্কিত প্রায় ২০৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। পরবর্তীতে বাড়ানো হবে ফতোয়া সংক্রান্ত বিষয়ের পরিসর। যুক্ত হবে রোজা, পবিত্রতা এবং ইসলামি অর্থনীতি সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েলও।

১২. সিরিয়ায় কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযান

অক্টোবরের শুরুতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পশ্চিমা বিশ্ব সমর্থিত কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে তুমুল হৈচৈ ফেলেছিল তুরস্ক। আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব এই অভিযান পরিচালনার তীব্র বিরোধিতা করে। কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সেই বিরোধিতার তোয়াক্কা না করে ৯ অক্টোবর ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামে শক্তভাবে পরিচালনা করেন এই অভিযান। তিনি বলেন, সীমান্তে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য এই অভিযানের কোনো বিকল্প নেই তাদের কাছে। পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা।

পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালেই তুরস্কের দাবিকৃত নিরাপদ অঞ্চলের আওতাধীন রাস আল-আইন শহর ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় কুর্দি বিদ্রোহীরা।

১৩. পাকিস্তানে জমিয়তের আজাদি মার্চ

পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম একাংশের প্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে চলতি বছর বেশ ঝড় তুলেছেন। পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতাগ্রহণকে ভোটকারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল উল্লেখ করে গেল অক্টোবরে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল সাড়া ফেলেছিলেন। ২৭ অক্টোবরের লংমার্চ এবং লংমার্চ পরবর্তী জনসমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছিল।

পাকিস্তানের সবকয়টি বিরোধীদলের নেতা, শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন এবং অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানসহ বিশ্ববাসীর কাছে এই সমাবেশের মাধ্যমে মাওলানা ফজলুর রহমান এই কথা তীব্রভাবে জানান দিয়েছিলেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি, বরং ভোটকারচুপির মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

১৪. আসামের এনআরসি

ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এ বছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ও বহুল আলোচিত একটি ইস্যু। গত ৩১ আগস্ট ভারতের মুসলিম নেতৃত্ব ও অনেক বিরোধীদলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আসামে নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১৯ লক্ষাধিক বাসিন্দা। যাদের মধ্যে ১১ লাখ, হিন্দু বাঙালি, ৬ লাখের মতো মুসলিম এবং বাকি দুই লাখ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

তবে ডিসেম্বরে পাশ হওয়া সংশোধিত নাগরিক আইনের সুবাদের বাদ পড়া হিন্দু ও অমুসলিম নাগরিকেরা তালিকায় নাম ওঠানোর সুযোগ পাবেন। কিন্তু ৬ লাখ মুসলমানের নাম ওঠানো আপাত কোনো সম্ভাবনা ও সুযোগ রাখেনি ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। এই ৬ লাখ মুসলিমের ভবিষ্যত কী, তারা নিজেরাই জানেন না।

১৫. নরওয়েতে কুরআন পুড়ানোর চেষ্টা, মুসলিম যুবকের প্রতিরোধ

বছরের শেষ দিকে নরওয়েতে উগ্র ইসলাম-বিদ্বেষীদের একটি সমাবেশে এক খ্রিষ্টান কর্তৃক পবিত্র কুরআন পুড়ানোর চেষ্টা এবং সাহসের সঙ্গে এক মুসলিমের তা প্রতিরোধ আলোচনার ঝড় তুলেছিল পুরো বিশ্বে।

গত ২৫ নভেম্বর নরওয়ের ‘ইসলামবিদ্বেষী’ সংগঠন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে’ (এসআইএন) ক্রিসচিয়ানসান্ড শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে এক খ্রিস্টান যুবক কোরআন অবমাননা ও তাতে অগ্নিসংযোগ ঘটায়। পাকিস্তানি যুবক ওমর ইলিয়াস এ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন এবং তাতে বাধা দেন। ফলে ওমর ইলিয়াসকে আটক করা হয়।

এই ঘটনায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্ব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তারা এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার ও আটক মুসলিম যুবকের মুক্তি দাবি করে এবং এ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে নরওয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আগের সংবাদটার্গেটে ভারতীয় মুসলিম: ঊনিশ সালে হিন্দুত্ববাদের চার আঘাত
পরবর্তি সংবাদনারী-পুরুষের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর করলো সৌদি