ফাতেহ ডেস্ক :
১০ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের সেবায় বিভিন্ন ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম। আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এসব কাজে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থা থাকছে। আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এসব কাজে সমন্বয় করছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো−
খিত্তা: প্রথম পর্বে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের জন্য ৮৭টি খিত্তা থাকছে। এতে ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার জন্য ২৩টি খিত্তা এবং ময়মনসিংহ জেলার জন্য দুটি খিত্তা আলাদা রাখা হবে। বাকি সব জেলার মুসল্লিদের জন্য একটি করে খিত্তা থাকবে। মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য ইজতেমার ময়দানে থাকবে ২০টি প্রবেশপথ।
বিদ্যুৎ ও টেলিফোন ব্যবস্থা: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি গ্রিড লাইন থেকে সংযোগ এবং চারটি জেনারেটর স্ট্যান্ডবাই থাকবে। মুসল্লিদের পারাপারের জন্য তুরাগ নদে সাতটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। দুটি হটলাইনসহ ৫০টি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হবে।
ইজতেমার ময়দানে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলছে।
নিরাপত্তা ও পানি: ইজতেমা এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হবে ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা। মাঠে নিয়োজিত থাকবে বোমা ডিসপোজাল টিম। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য উপস্থিত থাকবে। বিজিবি সদস্য স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে, ৮ হাজার ৩৩১টি টয়লেট, ১৭টি গভীর নলকূপ দিয়ে পানি সরবরাহ করা হবে।
বিশেষ ব্যবস্থাপনা: বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪টি শক্তিশালী জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হবে। তুরাগ নদের ওপর সেনাবাহিনী ৭টি ভাসমান সেতু তৈরি করবে। যাতায়াতের জন্য ১০টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে এবং সব ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। স্টেশনে তিন স্তরে টিকিট বিক্রি করা হবে। স্টেশনে মুসল্লিদের জন্য আলাদা অস্থায়ী বিশ্রামাগার ও ১০০টি টয়লেট তৈরি করা হবে। ১৭টি গভীর নলকূপ দিয়ে খাবার ও অজু গোসলের পানি সরবরাহ করা হবে। ইজতেমার প্রবেশপথে এলইডি লাইট বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে করা হচ্ছে। যাতে দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে যাতায়াত করতে পারে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বেই থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইজতেমা মাঠ ও মাঠের বাইরে পুলিশ র্যাবসহ থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
