রাগিব রব্বানি :
ভাষা শহিদদের স্মরণে আয়োজিত বাংলা একাডেমিন একুশে বইমেলা ২০২০ দোরগোড়ায় এসে হাজির। বইমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে চলছে নানামাত্রিক ব্যস্ততা। এ বছর মেলার পরিসর বাড়ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চও এবার সংযুক্ত হচ্ছে মেলায়। পরিসর বাড়লেও এবারও ইসলামি প্রকাশনীগুলোর জায়গা বইমেলায় হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন ইসলামি প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মালিকপক্ষ।
অভিযোগ আছে, একুশে বইমেলায় প্রতি বছর অখ্যাত ও মানহীন অনেক প্রকাশনী স্টল বরাদ্দ পেলেও অভিজাত ইসলামি প্রকাশনীগুলো, যারা ইসলাম বিষয়ক বইপত্র প্রকাশ করে নিয়মিত, তারা সকল শর্ত পূরণ করে আবেদন করার পরও লটারীতে তাদের নাম ওঠে না। যথামাফিক এ বছরও সমকালীন প্রকাশন, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনসহ অনেকগুলো ইসলামি প্রকাশনী আবেদন জানিয়েছে, বাংলা একাডেমির সমস্ত নীতিমালা পূরণ করেই তারা আবেদনপত্র জমা দিয়েছে, কিন্তু স্টল যে তারা পাবেন না, ইতিমধ্যেই অনেকখানি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী একাধিক প্রকাশনী মালিক।
আগামী ১২ জানুয়ারি আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে, লটারিতে যে সমস্ত প্রকাশনীর নাম উঠবে তারাই কেবল স্টল পাবেন। আবেদনকারী প্রকাশনীগুলোর মধ্যে নন-ইসলামিক প্রকাশনা সংস্থা যেমন আছে, তেম্নি উল্লেখযোগ্য হারে আছে ইসলামি বইপত্রপ্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানও। কিন্তু এ সমস্ত প্রকাশনী মালিক জানিয়েছেন, অজানা কারণে লটারীতে অভিজাত কোনো ইসলামি প্রকাশনীর নাম ওঠে না কোনো বছরই।
তাদের মধ্যে অনেকে লটারির আগেই বিভিন্নভাবে নিশ্চিত হয়ে যান স্টল বরাদ্দ যে তারা পাবে না। গার্ডিয়ান পাবলিকেশন ও সমকালীন প্রকাশন এগুলোর অন্যতম। প্রকাশনী দুটোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমস্ত নিয়মাবলি মেনে তারা স্টলের জন্য আবেদন করেছেন, ১২ জানুয়ারি লটারি হবার কথা, কিন্তু এর আগেই তারা নিশ্চিত হয়ে গেছেন তারা স্টল বরাদ্দ পাবেন না।
সমকালীন প্রকাশন জানিয়েছে, সরকারিভাবে আয়োজিত অন্যান্য বইমেলায় তারা আবেদন করলে স্টল পায়, বেসরকারিভাবে আয়োজিত মেলাগুলোতে তো পায়ই, কিন্তু বাংলা একাডেমির বইমেলায় তাদেরকে স্টল দেওয়া হয় না। এমনকি ইসলামি বইপত্র যারা প্রকাশ করে, পুরনো দুএকটা বাদ দিলে তাদের কাউকেই একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পুরনো যে দু-একটা ইসলামি প্রকাশনীকে স্টল দেওয়া হতো, তার মধ্যে মদীনা পাবলিকেশন্সও ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তাদেরকেও স্টল দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোরতজা বশিরুদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগে স্টল পেতাম। গত ক বছর ধরে আর পাই না, কেন পাই না, কারণ আমাদের অজানা। পাই না দেখে গত বছর থেকে আমরা আর আবেদন করতেও যাই না।
আরও পড়ুন: আঞ্চলিক কিতাবমেলা : একুশে বইমেলার যে বিকল্প নিয়ে ভাবছে ইসলামী প্রকাশনীগুলো
মাকতাবাতুল ইসলামের কর্ণধার মাওলানা মঈনুদ্দীন গালিবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের। তিনি জানিয়েছেন, স্টল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে মাকতাবাতুল ইসলাম বইমেলার জন্য কখনও আবেদন করেনি। কারণ, মাকতাবাতুল আশরাফ, মাকতাবাতুল আযহারসহ প্রথিতযশা অনেক ইসলামি প্রকাশনীই প্রতি বছর আবেদন করে আসছে। কিন্তু তাদেরকে স্টল দেওয়া হচ্ছে না। তবে সুযোগ থাকলে মাকতাবাতুল ইসলাম প্রতি বছরই মেলায় অংশগ্রহণ করত বলে জানিয়েছেন মঈনুদ্দীন গালিব।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বইমেলায় সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ইসলামি ঘরানার পাঠকের অংশগ্রহণ থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সে পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দাড়ি-টুপিধারী ও মাদরাসা-পড়ুয়াদের আনাগোনা মেলা চলাকালীন পুরো মাসজুড়েই চোখে পড়ার মতো থাকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু এই শ্রেণির পাঠকদের চাহিদা মেটানোর মতো কোনো প্রকাশনী মেলায় খুব একটা দেখা যায় না।
মাওলানা গালিব বলেন, একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ ইসলামি প্রকাশনীগুলোর ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার থেকে প্রকাশনীগুলোকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ তাদের অংশগ্রহণ মেলার সর্বজনীনতাকেই বৃদ্ধি করত।
তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রকাশনীগুলোকে বইমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে একদিকে যেমন প্রকাশনীগুলো নিজেদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পাবে, অপরদিকে মেলায় আসা ইসলামপ্রিয় পাঠকদের চাহিদা মেটাতেও সক্ষম হবে। তাই আলাদা প্যাভিলিয়ন—যেখানে কেবল ইসলামি প্রকাশনীগুলোর স্টল থাকবে—তৈরি করে হলেও ইসলামি প্রকাশনীগুলোকে যেন মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়—বাংলা একাডেমির কাছে এ আহ্বান জানান মাওলানা মঈনুদ্দীন গালিব।
