ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগের দাবিতে ইরানে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে

ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগের দাবিতে ইরানে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান ভুল গুলিতে বিধ্বস্ত করা হয়েছে বলে ইরানের সামরিক বাহিনী স্বীকার করার পর দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রোববার বিক্ষোভ করছেন দেশটির নাগরিকরা। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইঙ্গিত করে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দেন তারা।

এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ভুলেই গুলি চালিয়ে ইউক্রেনের ১৭৬ আরোহীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত করা হয়েছে বলে স্বীকার করে। বিধ্বস্তের ঘটনায় বিমানটির সব আরোহী মারা যান। সামরিক বাহিনীর এই স্বীকারোক্তির পর দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা।

রোববার তেহরানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শত বিক্ষোভকারী। এ সময় ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বলতে দেখা যায়, তারা মিথ্যাচার করেছে যে, আমেরিকা আমাদের শত্রু। কিন্তু আমাদের শত্রুরা দেশে।

একই দিনে দেশটির অন্যান্য শহরেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তবে গত বুধবার ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান ভুলেই ভূপাতিত করা হয়েছে বলে ইরানের সামরিক বাহিনী দুঃখপ্রকাশ করার পর শনিবার দেশটিতে বিক্ষোভ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এই বিক্ষোভের তথ্য দেয়া হয়েছে।

তেহরানের বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেছেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা সামরিক বাহিনী কয়েকদিন ধরে অস্বীকার করায় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে রোববার তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ।

শনিবার তেহরানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হটিয়ে দিতে দেশটির দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভে অনেকেই ইরানের ক্ষমতাসীন নেতাদের স্বৈরশাসক অভিহিত করে তাদের মৃত্যু চেয়ে স্লোগান দেন। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইঙ্গিত করে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দেন তারা।

ইরানের মধ্যপন্থী দৈনিক এতিমাদ ডেইলি রোববার ‘দুঃখপ্রকাশ এবং পদত্যাগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বিমান সঙ্কট ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণকারীদের জন্য জনগণ পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

গত নভেম্বরে দেশটিতে সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ প্রতিবাদ শুরু হয়। রক্তাক্ত অভিযানের মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী সরকারবিরোধী সেই বিক্ষোভ দমন করলেও নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ কর্তৃপক্ষের জন্য আবারও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

গত বুধবার তেহরান থেকে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করে ইরানের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় ইরানি সামরিক বাহিনী ভুলেই বিমানটি বিধ্বস্ত করা হয়েছে বলে তিনদিন পর স্বীকারোক্তি দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে। বিমান বিধ্বস্তে নিহত ১৭৬ আরোহীর মধ্যে কানাডার ৫৭ জন নাগরিক ছিলেন। এছাড়া বাকিরা ইরান-ইউক্রেনের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা চরম ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ এক কমান্ডার ওই দিনই ক্ষমতাসীন সরকারকে ভুলেই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা অবগত করেছেন বলে স্বীকার করায় জনগণের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কমান্ডার হোসেইন সালামি বলেছেন, এ ঘটনায় অন্য যে কারও চেয়ে আমরা বেশি মুষড়ে পড়েছিলাম।

আগের সংবাদফ্লোরিডায় বন্দুক হামলা, আমেরিকা থেকে বহিস্কার করা হচ্ছে সৌদি সেনাদের
পরবর্তি সংবাদওমানের সুলতানের মৃত্যুতে সোমবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ