পতিতার জানাজার নামাজ: ইসলাম যেভাবে দেখে

পতিতার জানাজার নামাজ: ইসলাম যেভাবে দেখে

মুসান্না মেহবুব:

গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ির দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এক পতিতার মৃত্যু হলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে তার জানাজার নামাজ পড়া হয়। এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়। এ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যম বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের ধর্মীয় নেতারা পতিতাদের জানাজা পড়ার বিরোধিতা করে আসছেন, যার ফলে জানাজা ছাড়াই তাদেরকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় কিংবা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

পতিতাদের জানাজার নামাজ পড়ার বিরোধিতা ধর্মীয় নেতা তথা আলেমগণ আসলেই করেন কি না এবং পতিতাদের জানাজার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা কী জানতে চেয়ে কথা বলেছিলাম দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুফতী মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদের সঙ্গে।

মুফতী মিজান ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, পতিতা যদি মুসলিম হয়, তাহলে মৃত্যুর পর তার জানাজার নামাজ অবশ্যই পড়া লাগবে, এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম কখনোই বিরোধিতা করেন না। তবে বিষয়টা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, প্রথমত পতিতাবৃত্তি ইসলামের দৃষ্টিতে খুবই নিকৃষ্ট এবং মহাপাপপূর্ণ একটি পেশা। এর দ্বারা সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষের চরিত্র ধ্বংস হয়। তাছাড়া এই পেশায় যারা জড়ায়, নানা পরিস্থিতির শিকার হয়ে জড়ায়। সরকারের উচিত, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও এই প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। এই পেশার সঙ্গে যারা জড়িত, ইসলামের পরিভাষায় তারা ‘জেনা’ করছে। ইসলামি আইনে জেনাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে তারা মারাত্মক ধরনের পাপী। কিন্তু পাপ এক জিনিস আর বিশ্বাস আরেক জিনিস। জানাজার নামাজটা বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাপ কাজ করেও কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামে বিশ্বাসী থাকে, তাহলে মৃত্যুর পর তার জানাজা পড়া অন্যান্য মুসলিমদের ওপর ফরজ। কোনোভাবেই তাকে মাটিচাপা বা সৎকার করা যাবে না।

মুফতী মিজান আরও বলেন, তবে হ্যাঁ, এ ধরনের পাপকাজে যারা লিপ্ত, বা যারা আত্মহত্যা করে মারা যায়, তাদের জানাজার ব্যাপারে ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের ঐক্যমত্য অভিমত হলো, জানাজায় মান্যবর কোনো আলেম উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সাধারণ শ্রেণির লোকজনই এ ধরনের ব্যক্তির জানাজা ও দাফন-কাফন সম্পন্ন করবে।

মুফতী মিজান বলেন, ওলামায়ে কেরাম এই অভিমতটা এজন্য দিয়েছেন যে, এখান থেকে এ ধরনের পাপের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য লোকেরা যেন শিক্ষা গ্রহণ করে। এবং পাপ কাজ থেকে ফিরে আসে।

তিনি বলেন, অতএব পতিতা কোনো মহিলা যদি মারা যায় আর সে মুসলিম হয়, তাহলে অবশ্যই তার জানাজা পড়তে হবে। এবং মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করতে হবে। একইসঙ্গে গণ্যমান্য আলেমদেরকে তার জানাজায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কোনো আলেম অংশগ্রহণ করেন, তাহলে এটা তার জন্য অনুচিত কাজ হবে। পাশাপাশি কোনো আলেমকে জানাজায় অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা বা চাপ প্রয়োগ করাও উচিত হবে না। বরং সাধারণ মুসলিম যারা আছেন, তারাই তার জানাজা ও দাফন-কাফন সম্পন্ন করে নেবেন।

আগের সংবাদপাক-তুর্কি সম্পর্ক জোরদার করতে পাকিস্তান সফরে এরদোগান
পরবর্তি সংবাদভারতীয় হাইকমিশনারের মন্তব্য: বিএসএফ-বিজিবির সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো